প্রচ্ছদ বিনোদন

শুটিং স্পট , মাদকের আতুরঘর

114
শুটিং স্পট , মাদকের আতুরঘর
প্রতীকী ছবি
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

একসময়ের জনপ্রিয় টিভি তারকা শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি। সুন্দর ক্যারিয়ার ছেড়ে হঠাৎ করে ভুল পথেই হাঁটলেন। জানা গেছে, মাঝে মাঝে মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও নেওয়া হচ্ছে এ অভিনেত্রীকে। হিল্লোলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের পর থেকে বেশির ভাগ সময়ই তিন্নির কেটেছে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে। এমন ভাবে হারিয়ে গেছে, এক সময়ের জনপ্রিয় মডেল পল্লব, রাহাসহ আরও অনেকে। একই পদঙ্ক অনুসরণ করেছেন জনপ্রিয় মডেল সারিকা, মাশিয়াত, মডেল ইমি, রুমা, সুমনসহ আরও অনেকে। 

বিভিন্ন সূত্র বলছে, শুটিং স্পট হচ্ছে মাদকের আতুরঘর। এখান থেকেই ছড়িয়ে পরে বিভিন্ন নেশা। নতুন নেশার শোকেজ বলা যায়। বাজারে নতুন নেশা প্রথম সাপ্লাই হয় শোবিজ জগতে ও কিছু ধনাঢ্য ব্যক্তির মাঝে। এর কারণ, শোবিজ অঙ্গনে কাঁচা টাকা উড়ে বেড়ায়। অনেকে যে কোন মূল্যে যেকোন কিছু পেতে চায়। আর শুটিংয়ে চাপ অনেকে নিতে পারে না। তাছাড়া, নিত্য নতুন সঙ্গী। ডিভোর্স, প্রেম , বিয়ে করে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখনই দ্বারস্থ হয় মাদকের। ফেনসিডিল থেকে শুরু করে ইয়াবা ও সর্বশেষ ‘খাচা’র আশ্রয় নিয়েছে তাঁরা। শোবিজে কেউ যেমন মাদক গ্রহণ করে। তেমনি কেউ মাদকের আমদানি ও রপ্তানি করে। নামে শোবিজ তারকা থাকলেও রাতারাতি বনে যান বিলাসবহুল গাড়ি, বাড়ির মালিক।

একটা সময়ে মিডিয়ায় মাদকের গডফাদার ছিল আজিজ মোহাম্মদ ভাই। তার পরিবারের অনেকেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি বর্তমানে দেশ থেকে পালিয়ে বিদেশে আছেন। তবে পরবর্তীতে মডেল কিংবা নায়িকারাও বনে গেছেন মাদকের ব্যবসায়ী। ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে গ্রেপ্তার হওয়া চিত্রনায়িকা শানু ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত শোবিজের অনেকেরই নাম ফাঁস করে দিয়েছিলেন। ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত চলচ্চিত্রের অশ্লীল নায়িকা হিসেবে পরিচিত ময়ূরী, কেয়া, একা ও ঊর্মির নাম প্রকাশ করে শানু বলেছিলেন, `চিত্রনায়ক আলেকজান্ডার বো, মেহেদীসহ কয়েকজন পরিচালক-প্রযোজক তার জলসাঘরের নিয়মিত অতিথি ছিলেন।’

মডেল নিকিতার কথা এখনও অনেকের মনে আছে। ২০০৭ সালে র‌্যাবের বিশেষ অভিযানে অন্ধকার জগৎ থেকে প্রকাশ্যে মুখ দেখাতে বাধ্য হয়েছিলেন যে কথিত `মডেল` নিকিতা। নিষিদ্ধ পণ্যের ব্যবসার কারণেই তার নামের সাথে যুক্ত হয়েছিল `ইয়াবা-সুন্দরী`র তকমা। নায়িকা সিলভিয়া ওরফে চাঁদনী একইভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পরে। তার স্বামী কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল এমিউজমেন্ট পার্কের চেয়ারম্যান, চলচ্চিত্র প্রযোজক জিএম সরওয়ারসহ আরও দু`জন র‌্যাবের হাতে ধরা পরে। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। একই মাসে, চাঁদনী আটক হওয়ার মাত্র দু`দিন পরে ডিসেম্বরের ২২ তারিখে ঢাকাই ফিল্মের আরেক পড়তি নায়িকা কেয়াকে বিপুল সংখ্যক ইয়াবাসহ অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় গুলশান থেকে পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে গত বছর প্রযোজক কার্লোস ও তার সঙ্গী কয়েকজন মডেলের নামও উঠে আসে এই মাদেকের সঙ্গে।

আশির দশক, ব্যান্ডের রমরমা অবস্থা। ব্যান্ড সংগীত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে শুরু করেছে। সে সময়ের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘শকিং ব্লু’ ভোকালিস্ট জুয়েল নেশার ভয়াল থাবায় নিজেকে বিসর্জন দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেখা গেছে হ্যাপি আকন্দকে। এমনি একজন তারকা জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জেমস। একসময় জেমস ও তার দল ফিলিংস সংগীতাঙ্গনে শীর্ষ অবস্থান তৈরি করলেও, তাদের পরিচিত ছিল ভুল পথের পরিব্রাজক হিসেবেও। কণ্ঠশিল্পী আগুনও ভুল পথের হাতছানির মোহে পড়লেও কিছুদিন বাদেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পেরেছিলেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে আরেক জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হাসান নিজের সুন্দর বলয়ে থাকলেও পরে ভুল পথের ডাকেই সাড়া দিয়েছেন। পতন হয়ে যায় হাসান নামের তারকা ব্যান্ড শিল্পীর। অনেক গীতিকার ও সুরকার অভিমানে আসক্তি নিয়ে হারিয়ে গেছেন নিজস্ব ট্র্যাক থেকে। এ সময়ের অর্ণবসহ বাংলা ব্যান্ডের প্রায় সবাই রিহ্যাবে ছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম প্রতিভাবান মিউজিশিয়ান ছিলেন বুনো ও আনুশেহ। নেশা তাদের ধ্বংস করে দেয়।

সর্বশেষ আপডেট