প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

বাংলাদেশের বেসরকারি চাকরির বাজারে এখন ভারতীয়দের দাপট

198
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বাংলাদেশের বে’সরকারি চাকরির বাজারে এখন ভারতীয়দের দাপট। বিশেষ করে তারা পোশাক, বায়িং হাউজ, আইটি এবং সেবা খাতে প্রাধান্য বিস্তার করে আছেন। এর পরেই শ্রীলঙ্কা চীনের অবস্থান। তবে মোট বিদেশির কম’পক্ষে অর্ধেক ভারতীয়। করোনা ভাইরাসের কারণে চীনা’দের দাপট কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় ভারতীয়’দের দাপট আরো বাড়তে পারে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। ট্রান্স’পারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বুধবার তাদের এক প্রতি’বেদনে বলেছে বাংলাদেশে মোট বিদেশি দুই লাখ ৫০ হাজার। তাদের মধ্যে বৈধ ৯০ হাজার। বাকিরা অবৈধ’ভাবে বাংলাদেশে আছেন। আর যারা বৈধ’ভাবে আছেন তাদের মধ্যে ৫০ ভাগ কোনো অ’নুমতি না নিয়েই টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে কাজ করছেন। এই বিদেশিরা বছরে ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পাচার করেন। টিআইবি বাংলাদেশে বিদেশিদের হিসাব করেছে স্বরাষ্ট্র’মন্ত্রীর ২০১৮ সালে দেয়া ৮৫ হাজার ৪৮৬ জন বৈধ বি’দেশির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।

কিন্তু বাস্তবে এই সংখ্যা বহু’গুণ বেশি। বাস্তব চিত্র আরো ভয়াবহ; বাংলা’দেশে দুটি তৈরি পোশাক কার’খানার মালিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে নানা কারণে পোশাক খাতে ভারতীয়’দের অবস্থান শক্ত। এর মধ্যে পোশাক খাতে জিজাইনসহ আরো কয়েকটি বিষয়ে দক্ষ জন’শক্তির অভাব আছে। আর পোশাকের বায়িং হাউজ’গুলো নিয়ন্ত্রণ করে ভারতীয়রা। ফলে পোশাক কারাখানা’গুলো বায়ার পেতে তাদের কারখানায় মার্কেটিং এবং হিসাব বিভাগেও ভারতীয়দের নিয়োগ করে। তাদের মতে বাংলাদেশের পোশাক কারখানা’গুলোতে এক লাখেরও বেশি ভারতীয় কাজ করেন। অন্যদিকে বায়িং হাউজে এই সংখ্যা আরো আরো বেশি। এর বাইরে আইটি খাতেও ভারতীয়’দের দাপট। আরো অনেক সেবা খাত আছে যেখানে ভারতীয়’রা কাজ করেন। এমনকি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম, বিজ্ঞাপন, কনসালটেন্সি এসব খাতেও ভারতীয়রা রয়েছেন। সব’মিলিয়ে বাংলাদেশে কম করে হলেও পাঁচ লাখ ভারতীয় কাজ করে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু তাদের অধিকাংশেরই কোনো ওয়ার্ক পার’মিট নেই।

তারা ট্যুরিস্ট ভি’সায় আসেন। আর তাদের বেতন অনেক বেশি। ট্যুরিস্ট ভিসায় যারা কাজ করেন তাদের আয়করা পুরো অর্থই অ’বৈধ পথে বাংলাদেশের বাইরে চলে যায়। বাংলাদেশের আইটি খাতের একজন উদ্যোক্তা জানান, সফটওয়্যার ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে ভারতীয় কৌশল ব্যবহারের কারণে ওই দেশের জনশ’ক্তিকেও কাজ দিতে হয়। শুধু তাই নয় অনেক ক্ষেত্রে তাদের লোক রাখার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। আবার ট্রাভেল এজন্টদের বড় একটি অংশ ভারতীয়’দের নিয়ন্ত্রণে। তাই তাদের সফটওয়্যার ও তাদের লোক বলে কাজ হয়। এটা সরকারের পলিসির বিষয়। সরকার পলিসি ঠিক করলে তাদের দাপট ক’মবে।বাংলাদেশের চাকরির বাজার নিয়ে কাজ করা সব’চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হলো বিডিজবস ডট’কম। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বলেন, কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়’রাই শীর্ষে। তারপরে শ্রীলঙ্কা, চীন, থাইল্যান্ড। এদেরমধ্যে শতকরা ১০ ভাগেরও ওয়ার্ক পারমিট নেই। অধিকাংশই অবৈধ’ভাবে কাজ করেন। তাদের পেমেন্টও এখানে করা হয়না।

ভারতীয় হলে তার পেমেন্ট ভারতেই দেয়া হয়। যারা নিয়োগ করেন তারা এরকম একটা সিস্টেম গড়ে তুলেছেন। বাংলা’দেশ থেকে কত রেমিটেন্স দেশের বাইরে যায় সেই হিসাব’টি দেখলে বাংলাদেশে কর্ম’রত বিদেশিদের সংখ্যা সম্পর্কে একটা ধারনা পাওয়া যায়। আর বাংলাদেশ থেকে ভারতেই বেশি রেমিটেন্স যায়। পোশাক খাতের আয়েরও বড় একটি অংশ তাদের টেকনিশিয়ান ও ডিজাইনাররা নিয়ে যান। বিআইডিএস-এর অর্থনীতি’বিদ ড. নাজনীন আহমেদ জানান, প্রতি’বছর আমাদের দেশ থেকে চার-পাঁচ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। আর এবার আমাদের রেমিটেন্সের টার্গেট ২০ বিলিয়ন ডলার৷ তাহলে আমরা যা আনতে পারি তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ আবার বিদেশি কর্মীদের দিয়ে দিতে হয়। এ থেকে বাংলাদেশে কর্ম’রত বিদেশিদের সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। এটা আমি বলছি বৈধ চ্যানেলের কথা। অবৈধভাবে কত যায় সেটা সরকার উদ্যোগ নিলে জানতে পারে। কিন্তু উদ্যোগ নেই। এই অর্থ সবচেয়ে বেশি যায় ভারত ও শ্রী’লঙ্কায়। আমার কাছে অবাক লাগে এখানে একাউন্টেন্ট, প্র’শাসনিক কাজেও বাইরে থেকে লোক আনা হয়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 305
    Shares