প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য

এসিডিটি প্রতিরোধে করণীয় উপায়

292
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত একটি স’মস্যা হচ্ছে, এসিডিটি। লোক’মুখে যা গ্যাস্ট্রিক নামে পরিচিত। বর্তমানে এমন একটি ঘর খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে যে এসিডিটি নামক রোগ’মুক্ত। শুধু আ’মাদের দেশেই নয়, বিশ্ব’জুড়েই এই সমস্যা মহা’মারী আকার ধারণ করেছে। আমে’রিকান রিসার্চ সেন্টার অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির মতে, পৃথিবীর মোট জন’সংখ্যার এক-চতুর্থাংশই এসিডিটি সমস্যায় ভুগছেন। প্রযুক্তি’নির্ভর ও প্রতিযোগিতা’মূলক বর্তমান বিশ্বে আমরা সব’সময় ব্যস্ত থেকে ভুলেই যাই আমাদের দৈন’ন্দিন নিয়ম’কানুন গুলো। ফলে বিভিন্ন রোগে আ’ক্রান্ত হয়ে ভুগতে থাকি , যার মধ্যে একটি হলো এসিডিটি। এসিডিটি কি? মানুষের পাকস্থলীতে প্রতি’নিয়ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) নিঃ’সরণ হচ্ছে যা খাদ্যকে পরি’পাকে সহায়তা করে।

খাবারের সময় হলে, খাদ্য দেখামাত্র, খাদ্যের স্বাদ নেয়া হলে বা কোন মুখ’রোচক খাবারের ঘ্রাণ নিলে বা মনে পড়লে এই নিঃসরণের মাত্রা বেড়ে যায়। এছাড়াও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা, ওষুধের পার্শ্ব প্রতি’ক্রিয়া, মানুষিক অব’সাদ ইত্যাদি কারণে এসিড নিঃ’সরণের মাত্রা বাড়ে, আর এই অতি’রিক্ত নিঃসৃত এসিড’ই পরবর্তীতেতে সৃষ্টি করে এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক। এসিডিটির ফলে যে লক্ষণ’গুলো প্র’কাশ পায়ঃ পাক’স্থলীতে অতিরিক্ত বা ভারসাম্য’হীন এসিড উৎপন্ন হবার ফলে পেটের উপরের অংশে ব্যথা বা জ্বালা পোড়া অনুভূত, বুক জ্বালা’পোড়া, গ্যাস, বমিভাব, টক ঢেঁকুর, মুখে দুর্গন্ধ, পেট ফাঁপা, ক্ষুধামন্দা, অল্প খেলেই ভরপেট অনু’ভব, ওজন হ্রাস, পিঠে ও বুকে ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ প্র’কাশ পায়।

এসিডিটি প্রতি’রোধের উপায়ঃ পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণের কোন বি’কল্প নেই, এসিডিটির সমস্যা থেকে দূরে থাকতে সঠিক সময়ে খাবার গ্র’হণ করতে হবে। একবারে পেট ভর্তি করে খাওয়া যাবে না। অতি’মাত্রায় চিনিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। খেতে হবে টাটকা খাবার। নিয়’মিত ব্যায়াম করতে হবে যা শরীরকে টক্সিন মুক্ত রাখে। ঘুমাতে হবে ঠিক’ঠাক, মানসিক চাপ’মুক্ত থাকতে হবে। রাতের খাবার ঘু’মানোর অন্তত ২ঘন্টা আগে সেরে ফেলুন। খেয়েই শুয়ে পড়া অনুচিত, সামান্য হাঁটা’হাঁটি করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অতিরিক্ত ওজনকে না বলুন। ফ্রোজেন ফুড যথা’সম্ভব না খাওয়াই ভালো। অবশ্যই ধূমপান ও মাদক’দ্রব্য থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।

অ’পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাদ্য ও বাইরের খাদ্য’কে নিজ খাদ্য তালিকা থেকে বিদায় দিতে হবে। অতিরিক্ত তেল ও মসলা জাতীয় খাবার খাওয়া যাবেনা। তৈ’লাক্ত খাবার খাওয়ার পর’পরই পানি পান না করে, অন্তত ৩০মিনিট পর পানি পান করতে হবে। ভারী খাবার যেমন, মাংস, বিরিয়ানি, চাই’নিজ রাতে না খেয়ে সকালে বা দুপুরের মেন্যুতে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। বাসি, পঁচা খাবার খাওয়া যাবেনা। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যা ল্যাক্সিটেভ হিসেবে কাজ করে গ্যাস সৃষ্টিতে বাঁধা প্র’দান করে এমন খাদ্য নিয়’মিত খেতে হবে। এসিডিটি প্রতিকারে করণীয়ঃ সমস্যা যেখানে আছে সমাধানও আছে। ধৈর্য্য ধরে কিছু’দিন নিয়ম মেনে চললেই মুক্তি পাওয়া যাবে এসিডিটি থেকে। নিজের খাবার সময়ের রুটিন করুন।

বাইরের ও তেলে’ভাজা খাবার পরিহার করুন। খাবার গ্রহণের পূর্বে পানি পান করুন, খাবার গ্র’হণের সময় বার’বার পানি পান করবেন না এবং খাওয়ার কিছু’ক্ষণ পর পানি পান করুন। অতিরিক্ত ঝাল-মসলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। ঠান্ডা দুধ পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক এসিডকে নিয়’ন্ত্রণ করে এসিডিটি থেকে মুক্তি দেয়। দুধে থাকে Ca যা পাকস্থলীতে এসিড তৈরিতে বাঁধা দেয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করুন,খেতে পারেন ডাবের পানি।যথা’সম্ভব ঘরের খাবার খান। ডাক্তার এর পরা’মর্শ ব্যতীত ব্যথার ঔষুধ ( NASIDs), খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ধীরে ধীরে ভালো মত খাবার চিবিয়ে খান। সহজ’পাচ্য, সুষম ও আঁশ’যুক্ত খাবার গ্রহণ করুন। নিয়মিত শারী’রিক ব্যায়াম করুন ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান সেই সাথে ভুলে যান শখ্যতা দুশ্’চিতার সাথে।

খালি পেটে চা,কফি,কোলা গ্রহণ করাবেন না। কিছু প্রাকৃতিক উ’পায় গ্রহণ করতে পারেন।যেমন, দুটি লং মুখে নিয়ে চি’বোতে পারেন যেন এর রস পেটে যায়; তু’লসী পাতা খেতে পারেন রস করে (প্রতিদিন ৫-৬টা)। এছাড়াও পুদিনা পা’তার রস খেলেও এসিডিটি ও বদহজম থেকে ত্রাণ পাওয়া যায়। ধুম’পান,মাদকদ্রব্য ও অ্যালকোহল বর্জন করুন। এসিডিটি সমস্যা’কে গুরুত্তের সাথে নিতে হবে। কেননা সামান্য এসিডিটি থেকেই আগামীতে রূপ নিতে পারে পেপটিক আল’সার, গ্যাস্ট্রিক আলসার বা পাক’স্থালীর ক্যান্সারের মত জটিল রোগ। তাই যারা সবসময় এসিডিটি তে ভুগছেন তাঁরা একজন ডায়েটিসিয়ান এর সাথে পরামর্শ করে খাদ্য পরিকল্পনা করুন। কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলুন এবং সুস্থ জীবন’যাপন করুন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 15
    Shares