প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

প্রকৃতিতে আজ এক সুরে গেয়ে উঠবে বসন্ত ভালোবাসা

55
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

শীতের কুয়া’শাকে সরিয়ে সূর্যের স্নিগ্ধ সোনালি আলো নিয়ে এসেছে ঋতু’রাজ বসন্ত। বসন্তের এই আগ’মনে প্রকৃতির সাথে তরুণ হৃদয়েও লেগেছে দোলা। গভীর আবেগ দিয়ে হেমন্ত মুখো’পাধ্যায় যখন গেয়েছিলেন, ধরারও ধূলিতে যে ফাগুন আসে/কই তাহার মত তুমি/আমার কাছে কভু আসো না তো! ধূলি-ধূ’সরিত এ ধরায় ফাগুন আসে প্র’কৃতির নিয়মেই। বসন্তের আবা’হনে মানবজীবনে আসে ভালোবাসাও। তাইতো বসন্ত ও ভালো’বাসার সম্পর্ক চিরকালীন। আজ তাকে রাঙিয়ে দেয়ার দিন, রাঙিয়ে নেয়ার দিন। এ যেন ফাগুন ও ভালো’বাসার অপূর্ব যুগলবন্দি। প্র’কৃতিতে আজ এক সুরে গেয়ে উঠবে বসন্ত ভালোবাসা। মোগল সম্রাট আকবর প্রথম বাংলা নব’বর্ষ গণনা শুরু করেন ১৫৮৫ সালে।

নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎ’সবের প্রবর্তন করেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত উৎসব। তখন অ’বশ্য ঋতুর নাম এবং উৎসবের ধরনটা এখনকার মতো ছিল না। তাই পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত উৎসব কেবল উৎসবে মেতে ওঠার সময় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য, বাঙালিসত্তা। সে ঐ’তিহ্যের ইতি’হাসকে ধরে রাখতে পার’লেই বসন্ত উৎসবের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্ম ছড়িয়ে দিতে পারবে বাঙালি চেতনাকে। বঙ্গা’ব্দের ক্যালেন্ডার সংশোধনের কারণে আজ শুক্র’বার একই দিনে পহেলা ফাগুন ও বিশ্ব ভালো’বাসা দিবস। একে তো ছুটির দিন, অন্যদিকে দুটি বিশেষ উপলক্ষ। এ যেন একের ভেতর তিন!

আরও পড়ুন:  ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামী পবিত্রতা রক্ষায় বিশ্ব ভালোবাসা দিবস নিষিদ্ধ

ঋতুরা’জের প্রথম দিন, ভালোবাসা দিবস, তাদের সঙ্গে ছুটির দিন। উৎসব’প্রিয় বাঙালির ঘর ছেড়ে বের হতে আর কী লাগে? নিসর্গবিবর্জিত মানুষের বসনে, ভূষণে আজ লাগবে বসন্তের ছোঁয়া। ভালো’বাসার পরশে ঢেউ উঠবে হৃদয়’সমুদ্রেও। বাঙালির জীবনে আজ তাই অন্য রকম উৎ’সবের দিন। আরেক কবি নির্ম’লেন্দু গুণ লিখেছেন- হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্র-সঙ্গীতে যতো আছে,হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরে বনের কুসুম’গুলি ঘিরে। আকাশে মেলিয়া আঁখি তবুও ফুটেছে জবা,দুরন্ত শিমুল গাছে গাছে, তার তলে ভালো’বেসে বসে আছে বসন্তপথিক।’ এই নগরেও কো’কিলের কুহুতান শোনা যাচ্ছিল কয়েক দিন আগ থেকেই।

শু’কনো পাতা ঝরে জন্ম নিয়েছে নতুন কচি পাতার। আজ সেই পত্রপল্লবে, ঘাসে ঘাসে, নদীর কিনারে, কুঞ্জ-বীথিকা আর পাহাড়ে অরণ্যে বসন্ত এসেছে নব’যৌবনের ডাক দিয়ে। ছড়িয়ে দিয়েছে রঙের খেলা। সোনালি রোদের ছোঁয়ায় পলাশ’গুলো আজ জেগে উঠবে। বসন্তের ঝিরি’ঝিরি বাতাসে আজ হারিয়ে যাবে প্রেমিক’যুগলও। সব আবেগ আর অনুভূতি দিয়ে প্রিয় মানুষ’টিকে বুঝিয়ে দেবে ভালো’বাসার গভীরতা। মানব-মানবীর চিরকালের যে প্রেম তার জয়গান হবে চারদিকে। আজকের এই রাঙা সকাল, বিকাল বা সন্ধ্যাটা একসঙ্গে কাটিয়ে প্রেমিক’যুগল গাইবে ভালোবাসার গান। অনেকের জন্য যেমন আজকের কোনো একটা সময় হবে ভালো’বাসার প্রথম প্রহর, তেমনিভাবে অনেকে উদযাপন করবে এক’সঙ্গে পথচলার কয়েক বছর।

আরও পড়ুন:  বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে মায়ের পা ধুয়ে শ্রদ্ধা জানাল খুদে শিক্ষার্থীরা

তরুণ-তরুণীরা বাংলা একা’ডেমি আয়োজিত একুশের বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শাহবাগ, চারুকলা চত্বর, পাবলিক লাইব্রেরি, সোহরা’ওয়ার্দী উদ্যান ধান’মন্ডি লেক, বলধা গার্ডেন মাতিয়ে রাখবে সারাদিন। আজ দিনভর চলবে তাদের বসন্তের উ’চ্ছ্বাস প্রকাশ। ফোন, ফেসবুক, টুইটার’সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগা’যোগ মাধ্যমে চলবে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময়। আজ নানা আয়োজনে বসন্তকে বরণ করবে বাঙালি। অনেকে আবার ধান’মণ্ডি, বনানী, গুলশান, উত্তরার ফাস্ট ফুড ও কফি শপ’গুলোতে জড়ো হবে। রাজধানীর শপিং মলের ফুড’কোর্ট, যেমন—বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কে চলবে খাওয়া’দাওয়া। অনেকে আবার এক’সঙ্গে সিনেমা দেখবে।

বাঙালির জী’বনের সঙ্গে একাকার হয়ে আছে বসন্ত। বসন্তের বন্দনা আছে কবিতা, গান, নৃত্য আর চিত্র’কলায়। বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন করে পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎ’সব হিসেবে। এ উৎসব এখন সব বাঙা’লির উৎসব। এবারও রাজধানীতে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উদ’যাপন পরিষদ। সকাল থেকে রাত অবধি চারুকলা অনু’ষদের বকুল’তলায় থাকবে যন্ত্রসঙ্গীত, বসন্ত কথন পর্ব, প্রীতি বন্ধনী, আবির বিনিময়, একক আবৃত্তি, দলীয় আবৃত্তি, একক সঙ্গীত, দলীয় সঙ্গীত, দলীয় নৃত্য। দেশের অগ্রগণ্য দল ও বরেণ্য শিল্পীরা অনুষ্ঠান’মালায় অংশ’গ্রহণ করবেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 213
    Shares