প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী এখন ৫০ টাকার দিনমজুর

221
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

রাজ’কুমার শীল নামের সঙ্গেই রাজা রাজা ভাব। চে’হারায় রয়েছে সেই ছাপ। মেধার খেলায় চমক দেখিয়ে ঢাকা মেডি’কেল কলেজে ভর্তি হতে পাড়ি দিয়েছেন বেশ কয়েকটি কঠিন ধাপ। অব’শেষে স্বাস্থ্য বি’ড়ম্বনায় যাত্রা থেমে যায় তার। রাজ’কুমার এখন ৫০ টাকার দিন’মজুর! রাজকুমার দিনাজপুরের বিরাম’পুরের বাসিন্দা। ঢাকা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান বিভাগে স’ম্মিলিত মেধা তালিকায় উচ্চ স্থান পেয়ে ঢাকা মেডি’কেল কলেজে ভর্তি হয়ে’ছিলেন। তবে স্বাস্থ্য বি’ড়ম্বনায় জীবনের করুণ পরিণতিতে পড়েন তিনি। সেই বিড়ম্বনা এড়াতে পারলে হয়ত তিনি হতে পারতেন মানব’সেবার অন্য’তম সেরা পেশার এক’জন মানুষ। তার অ’বিশ্বাস্য মেধার অর্জন ও করুণ প’রিণতির কথা আমাদের বন্ধু রাজকুমার শীল নামের একটি লে’খায় তুলে ধরেন ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী।

তিনি জানান, বিরাম’পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে কয়েকজন মেডি’কেল অফিসার ডিউটি রুমে ছিলেন। রোগী আসা প্রায় শে’ষের দিকে। এমন সময় প্রায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা আসলেন। সঙ্গে ছিলেন ৫২ আর ৪৮ বছরের দুই ছেলে। সমস্যার কথা জানতে চাইলে বৃ’দ্ধার হাতে থাকা কাগজ’গুলো এগিয়ে দেন। ওই বৃদ্ধা বলেন, ছেলেদের জন্য প্রতি’বন্ধী ভাতার দরখাস্ত করবেন। অনেক কাগজের সঙ্গে পাবনা মান’সিক হাসপাতালের দুটি ছাড়’পত্র পেলেন চিকিৎসকরা। প্রথমে কে রোগী বুঝতেই পারেন’নি তারা। পরে বৃদ্ধা দুই ছেলের জন্যই দর’খাস্ত করবেন বলে জানান। দুই’জনেরই একই রোগ। পরে একজনের জাতীয় পরিচয়’পত্রের স্বাক্ষর দেখে কিছুটা আশ্চর্য হলেন ডা, বেলায়েত। পরিচয়’পত্রে নাম লেখা ছিল রাজ’কুমার শীল।

আরও পড়ুন:  ইউএনও ওয়াহিদা যথেষ্ট বিপজ্জনক অবস্থায় আছেন: মেডিকেল টিম

হাতের লেখার সঙ্গে চে’হারার মিল পাচ্ছিলেন না তিনি। সুন্দর লেখা দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কতদূর পর্যন্ত পড়া’শোনা করেছেন। রাজকুমার শীল এ সময় ডা. বেলা’য়েতকে জানান, তিনি ঢাকা মেডি’কেল কলেজের ছাত্র ছিলেন। তখন ডা. বেলায়েত নিজের কানকে বিশ্বাস করাতে পারছিলেন না। একে একে সব ঘটনা বললেন। রাজকুমার কে-৪০ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। ঢাকা কলেজ পাস করে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হয়েছিলেন। দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় ফার্মা’কোলজিতে অকৃত’কার্য হলেও কয়েকবার পরীক্ষা দেন। তার’পর মানসিক অ’সুস্থতার (সিজোফ্রেনিয়া) জন্য বাড়ি ছাড়া ছিলেন ১৪ থেকে ১৫ বছর। ওই সময় একটি কার’খানায় কাজ করতেন। পাবনার হাস’পাতালেও ভর্তি ছিলেন এক বছর। রাজ’কুমার শীলের মা পার্বতী রাণী শীল

আরও পড়ুন:  সারাদেশে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে উত্তাল দেশ

জানান, প্রাথমিক ও জুনি’য়র বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি অর্জন করেছিল রাজকুমার। তার বাবা নর’সুন্দর হলেও চার ছেলে মধ্যে তিন ছেলেকে নিজের পেশায় আনেন’নি। এখন রাজ’কুমার ওষুধ খাওয়ায় মেডিকেলের পড়া’শোনার কথা মনে করতে পারে। ডা. বেলায়েত আরো জানান, অনু’মতি নিয়ে রাজকুমার শীলের একটি ছবি তুললেন। কে-৪০ ব্যাচের এক শিক্ষকের ছবি দেখিয়ে বল’লেন চিনতে পারেন কিনা? রাজ’কুমার মাথা দোলালেন। এদিকে রাজ’কুমারের ভাইয়ের একই রোগ। তিনি রাজ’ধানীর তিতুমীর কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর ঢাকা বিশ্ব’বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তবে অসুস্থতার কারণে স্নাতক সম্পন্ন হয়’নি তার। আর রাজকুমার এখন একটি ভূষি কার’খানায় কাজ করে ৫০ টাকা ম’জুরি পান।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 107
    Shares