প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য

জেনে নিন চুইংগাম চাবানোর উপকারিতা

207
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

চুইং’গাম হচ্ছে নরম, আঠালো, গাম জাতীয় পদার্থ যা সাধারণত মুখের রুচি’বর্ধক হিসেবে চিবিয়ে থাকি আমরা। খাদ্য’বস্তু হলেও এটিকে গিলে না ফে’লার কারণ হচ্ছে এর গাম জাতীয় বেস, রাবার ফর্মুলা এবং প্লাস্টি’সাইড জাতীয় বৈশিষ্ট্য। বর্ত’মানে এর সাথে চিনি এবং বিভিন্ন ফ্লেভার যোগ করে নতুন নতুন চুইং’গাম তৈরি করা হচ্ছে। সাধারণ অভ্যাস’বশত আমরা চুইংগাম খেলেও এর পিছনে কিছু ভাল দিক ও রয়েছে। আসুন, জেনে নেয়া যাক চুইংগামের উপ’কারী দিক সমূহ- ১. স্মৃতিশক্তি বাড়াতে চুইংগাম; এক বছর টানা চুইং’গাম চিবাতে থাকলে তা আপনার স্মৃতি’শক্তির উন্নতি ঘটাবেই। সেন্ট লরেন্স বিশ্ব’বিদ্যালয়ের মনো’বিজ্ঞানের গবেষকরা জানান যে, চুইংগাম ক্রমাগত চা’বানোর ফলে মূল্যবান মান’সিক বিকাশ, হার্ট বিট হার এবং রক্ত ​​প্রবা’হের হার বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ফলা’ফল অবশ্যই এটি প্রমাণ করে যে চুইং’গাম চাবানোর কারণে মস্তিষ্কের অক্সিজেনের মাত্রা ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে তার মানসিক সুস্থ’তাও অনেকাংশে ঠিক থাকে। ২. চিন্তা ও উ’দ্বেগ কমাতে সহায়ক; আমরা অনেকেই অত্যন্ত টেন’শনের কবলে পড়ে যে কাজটি প্রায় করে থাকি তা হল নখ কামড়ানো কিংবা পা দো’লানো। গবেষণায় দেখা গেছে যে, চুইং’গাম চাবালেও আমরা একই পরিমাণ স্ট্রেস রিলিফ করতে পারি। ২০১১ সালের একটি গবেষণায় অংশগ্রহণ’কারীরা ১৪ দিনের জন্য দু’বার দিনে গাম চিবু’তে শুরু করে, তাদের উদ্বেগকে অস্বস্তিকর’ভাবে তুলনা’মূলকভাবে কম মনে করেন, উচ্চ’মানের মেজাজ এবং নিম্ন ক্লান্তি স্তর’গুলি প্রতি’বেদন করে। বৈজ্ঞানিক’ভাবে বলার অপেক্ষা রাখে না, এটি দেখানো হয় যে চিউইং গাম উল্লেখযোগ্য’ভাবে স্ট্রেস হর’মোন কমাতে পারে কারণ এতে চিউইং এর মাধ্যমে সহজ পদ্ধ’তিতে শ্বাস প্রশ্বাস নিচ্ছে।

এতে তার উ’দ্বেগ যথেষ্ট কমতে পারে। ৩. শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে; আ’পনি যখন ডা’য়েটের কঠিন সংগ্রামে পরে, চীজ-বা’টার খাবেন কি খাবেন না সেটা ভাবছেন, সেই সময়ে চুইংগাম চিবিয়ে নিজের শরীরের ওজনে এক বিশাল পরি’বর্তন নিয়ে আসতে পারেন। এটি আপনার ক্যালরি গণনা কমায় না শুধুমাত্র, গাম সময়ের সাথে একটি সংকেত হিসাবে কাজ শুরু করবে যে আপনি আর খেতে চাইবেন না। এটি কার্যকর’ভাবে আপনার খাবার রুচিকে বাধা দেয়। মেডি’কেল স্টাডিজ দেখায় যে ক্ষতিকর নিবলিং ক্ষুধা দমন করতে সাহায্য করে। ৪. স’কালের অস্বস্তি ভাব দূর করে; স’কালে ঘুম থেকে উঠার পর আ’মরা অনেকেই কিছু’ক্ষণ বেশ অ’স্বস্তিকর অবস্থায় থাকি। বমি বমি ভাব, কিছু খেতে না পারা এসব খুবই কমন ব্যাপার। এক্ষেত্রে গাম আ’মাদেরকে এই অবস্থা থেকে পরি’ত্রাণ পেতে সাহায্য করে।

সা’ম্প্রতিক গবেষণায় এমনটিও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, গামের একটি সেবন চক’চকে ময়লা জনিত ওষুধের চেয়ে বেশি কার্য’কর হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ত্রো’পচারের পর থেকে অসুস্থ মহিলাদের পেপার’মিন্ট গাম বা স্ট্রাইক রিলিজড ড্রাগ প্রেস্ক্রা’ইবড করতে দেখা গেছে। ৭৫ শ’তাংশ গাম বলেন যে এটি ১০ মিনিটের মধ্যে তাদের সমস্যার সমাধান করেছে।  ৫. পেটের পীড়া থেকে মুক্তি দেয়; গবেষ’ণায় দেখা গেছে যে, আমাদের মধ্যে অনেকেই নানা কারণে পেটের কা’ঠিন্য রোগে ভুগে থাকেন। তাদের জন্য এই চুইং’গাম এক ধরণের ঔষধ হিসাবে কাজ করতে পারে। চুইং’গাম সেবনের ফলে পরিপাকের জন্য উপ’কারী রস’সমূহ দেহের ভিতর থেকে নিঃ’সৃত হয় যা দেহের অপাচ্য অং’শকে বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে থাকে।

৬. এসিড সং’ক্রমণের সম্ভাবনা হ্রাস করে; আপনি নিশ্চয়ই ভাব’ছেন যে গাম কিভাবে কিছু অ্যাসিড রিফক্স হিসাবে জটিল কিছুকে প্র’ভাবিত করে। মেডিক্’যাল সায়েন্সে অ্যাসিড রিলেক্সটি যখন পেটে এসিড টিউ’বটিতে জড়িয়ে পড়ে তখন আপনার গলা আপনার পেটকে সং’যুক্ত করে, যা অক্স’ফ্যাগাস হিসাবে পরিচিত। জার্নাল অফ ডেন্টাল রি’সার্চের একটি গবেষণায়, গামের কারণে আপনার লালা আরও ক্ষারীয় হয়ে ওঠে এবং আরো ঘন হয়ে উঠে। ফলস্বরূপ, অ্যাসিড স্থায়ী’ভাবে নির’পেক্ষ হয় এবং প্র’দাহ হ্রাস করা হয়। কার্য’কারিতায় আপনার দেহের বিষাক্ত জিনিসের ভার’সাম্যতা অনেকাংশে কমে যায়।

৭. বিমান ভ্রমণে সহায়ক; চুইং’গামের মত জিনিস কিভাবে বিমান ভ্রমণে সাহায্য করে তা অনেকে ভাবছেন নিশ্চয়ই। বিমান ভ্রমণে একটা সময়ে ‘উচ্চতা বাড়ার কারণে চাপ’জনিত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এসময় বারবা’র চোয়াল খোলা বন্ধ হওয়া থেকে শুরু করে নানা রকম বিব্রত’কর অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য বেশির’ভাগ এয়ারপোর্টে চুইং’গাম দেয়া হয়। অন্য দিকে, গাম থেকে জন্মানো চো’য়ালের চলাচল এবং লালা উৎপাদন দক্’ষতার সাথে আপনার কানে চাপের সমান করে আরেক’টা চাপ উৎ’পাদনে সহায়তা করে। অন্য কথায়, আপনি কানের পপিং হতে রক্ষা পেতে চুইং’গামকে ব্যবহার করতে পারেন।

৮. দাঁতের ক্যাভিটি থেকে রক্ষা করে; বর্তমানে বিভিন্ন গবেষণার পর ডেন্’টিস্টরা বলেছেন, কম চিনি’যুক্ত গাম খাওয়া অনেক সময় টুথ’পেস্ট এবং মাউথ ফ্রে’শনারের থেকে ভাল কাজ করে থাকে। এই সাধারণ কার্য’কলাপ দশ মিনিটের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ব্যাক’টেরিয়া হত্যা করতে পারে। আমে’রিকান ডে’ন্টাল এসোসিয়েশন (এডিএ) জানায় যে, খাবারের পর ২০ মিনিটের জন্য গাম খাওয়ার ফলে দাঁত ক্ষয় প্রতি’রোধ করা যায়। মূলত, এটি আ’পনার মুখের মধ্যে লালা প্রবাহ বজায় রাখতে কাজ করে, যা পার্শ্ববর্তী খাদ্য দূরে রাখতে সাহায্য কিছু কিছু গাম আছে যা দিয়ে আ’পনার দাঁত খনিজ সর’বরাহ দ্বারা ক্ষয়-সৃষ্টি’কারী ব্যাক’টেরিয়া কমাতে পারে।

৯. মুখের ফ্রেশ’নেস বজায় রাখে; চুইংগাম ব্যবহারের মাধ্যমে অ’নিচ্ছাকৃত ভাবে হওয়া মুখের দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পেতে পারেন সহজে। তাছাড়া কম চিনিযুক্ত গাম খাওয়ার ফলে ক্যালরি বার্ন হয়ে খাদ্যা’ভ্যাসে কিছু ভাল প’রিবর্তন আসতে পারে। ১০. ধূমপান থেকে বিরত করতে পারে; চুইং’গাম ব্যবহারের মাধ্যমে ধূম’পান থেকে অভ্যাস কমে আসার কারণ হচ্ছে গাম চা’বানোর ফলে অটোমেটিক সিগা’রেটের প্রতি দুর্ব’লতা কমে যায়। চুইংগামের মত একটি সহজ’লভ্য জিনিস আমাদের শারীরিক অবস্থার উ’ন্নতি করতে পারেন বিভিন্ন’ভাবে। তবে অতি’রিক্ত পরিমাণে চুইং’গাম সেবন করাও স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। তাই এক্ষেত্রে সত’র্কতা অবলম্বন করতে হবে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 10
    Shares