প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

ঠাকুরগাওয়ের বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

40
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ঠাকুরগাওয়ের রাণী’শংকৈল উপ’জেলার বেশির ভাগ শিক্ষা’প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার । আন্তর্জাতিক মাতৃ’ভাষা দিবসে এসব শিক্ষা’প্রতিষ্ঠানের কোনোটিতে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালনই করা হয় না। এ নিয়ে ক্ষোভ প্র’কাশ করেছে স্বাধীনতা’কামী মানুষেরা। তারা বলছেন,১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতি’হাস নতুন প্র’জন্মের শিক্ষার্থীরা জানবে শিক্ষা’প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই। ভাষা আ’ন্দোলনের প্রতিক শহীদ মিনার দেখে তারা পাঠ্য ব’ইয়ের সাথে মিলিয়ে সংগ্রামী ইতি’হাস মনে ধারণ করবে। অথচ সে ধারণ থেকে অনেকে পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার না থা’কার কারণে বলে মনে করছেন স্বাধীনতা’কামী মানুষেরা।

উপ’জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপ’জেলায় ১৫৬টি সরকারি প্রাথমিক, ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১২টি কলেজ ও ১৯টি মাদ্রাসা আছে। এ ছাড়া রয়েছে অর্ধশতাধিক কিন্ডা’রগার্টেন। সপ্তাহব্যাপী ঘুরে দেখা যায়, ১৫৬টি সরকারী প্রা’থমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মডেল সর’কারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুদ্বিজীবি স্মৃতি’স্তম্ভ ছাড়া ১৫৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোন’টিতেও নেই শহীদ মিনার। এছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রাণী’শংকৈল সর’কারী বালিকা, নেক’মরদ সরকারী আলিমুদ্দিন, পাইলট,রাউতনগর,কাতিহার,মীরডাঙ্গী, গোগর আব্দুল জব্বার, গাজীরহাট, রাতোর,মহা’রাজা,ভরনিয়া,হাজী দবির উদ্দীন চৌধুরী,ধুল’ঝাড়ী,চোপড়া দোশিয়া সিডি ও কাশিপুর বটতলা উচ্চ বিদ্যালয়সহ মোট ১৫টি বিদ্যালয়ের ছাড়া ৫২টি উচ্চ মাধ্য’মিক বিদ্যালয়ের

মধ্যে ৩৭ টি বিদ্যালয়ে এবং ১২টি কলেজের মধ্যে ডিকে মহাবিদ্যালয়,রাণী’শংকৈল ডিগ্রী ও নেকমরদ বঙ্গবন্ধু কলেজে ছাড়া বাকী ৯টি কলেজ নেই শহীদ মিনার এবং উ’পজেলা জুড়ে মোট ১৯টি মাদ্রাসার একটিতেও নেই শহীদ মিনার নেই। এছাড়াও কিন্ডার’গার্ডেন গুলোতেও নেই ভাষা শহীদদের স্মৃতি স’ম্বন্বিত প্রতিক শহীদ মিনার। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এলে বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো কোনোটিতে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হয়। কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না বানিয়ে শুধু আলোচনা সভা বা মিলাদ মাহ’ফিল করে দিবসটি পালন করা হয়। আবার কিছু প্রতি’ষ্ঠানে তা-ও করা হয় না বলে জানা গেছে। ভাষা আ’ন্দোলনের ৬৮ বছরেও সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা  আনিসুর  রহমান  বাকী  বলেন, ১৯৮৫ সালে  রাণীশংকৈল  ডিগ্রী কলেজে

আরও পড়ুন:  ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে বিএনপি প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়

অধ্যায়ন করার সময় ছাত্র’লীগের নেতা হিসাবে সকলে শি’ক্ষার্থীদের নিকট অর্থ’নৈতিক সহযোগিতা নিয়ে শহীদ মিনার স্থা’পন করেছিলাম। ভেবেছিলাম দেশ উন্নয়নের সাথে সাথে এক সময় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মি’নার স্থাপন হবে। অথচ এখনো হিসেব করে দেখা যাচ্ছে বেশির ভাগ শিক্ষা’প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। আমি সর’কারের উর্ধ্বতন কর্তৃ’পক্ষের নিকট আহ’বান জানাবো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভাষা শহীদ’দের ইতিহাস জানার স্বার্থে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার দ্রুত স্থাপন করে দেওয়া হোক। রাণীশংকৈল প্রেস ক্লাবের সাধারণ স’ম্পাদক আনোয়ার হোসেন আ’কাশ বলেন, শহীদ মিনার দেখে নতুন প্রজন্মের কৌতুহুল জাগবে । সেই কৌতু’হুল থেকে তারা জানবে বাংলা ভাষার ইতিহাস সং’গ্রামের কথা। অথচ দেশ উন্নয়ন হলেও সব শিক্ষা প্রতি’ষ্ঠানে এখনো শহীদ মিনার না হওয়া দুঃখ’জনক।

আরও পড়ুন:  দেশের ১৬টি পুরাতন সুগার মিলস’কে আধুনিকায়নের সিদ্ধান্ত

অবিলম্বে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতি’ষ্ঠানে ভাষা শহীদদের ইতিহাস নতুন প্র’জন্মের প্রতি ছড়িয়ে দিতে এবং বাংলা ভাষার গুরত্ব বুঝাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার স্থা’পন করার দাবী জানান। উপ’জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকছেদুর রহমান বলেন, সরকারী’ভাবে বরাদ্দ হলে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন করা হবে। উপ’জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফি’সার আলী শাহরিয়ার বলেন, কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে। সরকারীভাবে সহযোগিতা পেলে পর্যায়’ক্রমে সব শিক্ষা প্রতি’ষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। উপ’জেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী আফরিদা বুধবার বলেন,সর’কারী ভাবে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার করা হবে কিনা সে বিষয়ে আমার জানা নেই। আপনারা এ ব্যাপারে শিক্ষা কর্ম’কর্তার সাথে কথা বলেন বলে তিনি ম’ন্তব্য করেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।