প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

কোনো কিছু দিয়েই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না মশা

95
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

রাজধানী’জুড়ে মশার ভয়াবহ বি’স্তার ঘটেছে। সন্ধ্যা হলেই মশার অত্যা’চারে টেকা দায় হয়ে গেছে। ঘরে-বাইরে সর্ব’ত্রই একই অবস্থা। দিন-রাতে সমান’তালে মানুষের রক্ত চুষছে মশা। ঢাকার দুই সিটি কর’পোরেশন নাম’কাওয়াস্তে কিছু কর্ম’সূচি পালন করলেও মশা নিধন করতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত বছরের জানু’য়ারি-ফে’ব্রুয়ারির তুলনায় বর্ত’মানে মশার উপ’দ্রব বেশি। গত বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এ তিন মাসে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব সর্বা’ধিক ছিল। এ বছরও একই সময়ে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজ’ধানীর সর্বত্রই এখন মশা আর মশা। রাত যত বাড়তে থাকে মশার যন্ত্রণাও তত বাড়ে। মশার উপ’দ্রব থেকে বাঁচতে বাসায় মশা’রির ভেতরে থাকা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।

কয়েল, স্প্রে, ইলেক’ট্রিক ব্যাট কোনো কিছু দিয়েই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না মশা। এ কারণে বর্ত’মানে শিক্ষার্থী বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। ঢাকায় সম্প্রতি নতুন দুই সিটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু তারা এখনো দায়িত্ব নেননি। দক্ষিণে আগের মেয়র এবং উত্তরে প্যানেল মেয়র দিয়ে কার্যক্রম চলছে। এ কারণে মশা নিয়ন্ত্রণের কর্ম’কাণ্ডও অনেকটা নিয়ন্ত্রিত হয়ে রয়েছে। দক্ষিণ সিটির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কদম’তলা এলাকার গৃহ’বধূ লিমা খাতুন বলেন, ঘরে ছোট শিশু রয়েছে। এ কারণে রাতদিন সব সময়ই মশারি টানিয়ে রাখতে হয়। আর সন্ধ্যা হলেই ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করতে হয়।

তাতেও কাজ হয় না। রাত হলে ঘরে টেকা যায় না। কোথাও বসলেই ঝাঁকে ঝাঁকে মশা কাম’ড়াতে থাকে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা সম্প্রতি ঢাকার দুই সিটিতে জরিপ চালিয়েছে। এতে দুই সিটি করপোরেশনের ১১টি ওয়ার্ডে ঝুঁকি’পূর্ণ মাত্রায় ডেঙ্গু ভাই’রাসের বাহক এডিস মশার উপ’স্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর’পোরেশনের ১, ১২, ১৬, ২৮ ও ৩১ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫, ৬, ১১, ১৭, ৩৭ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। উত্তরে ৪১টি ও দক্ষিণের ৫৯টি ওয়ার্ডে এ জরিপ পরি’চালিত হয়েছে। সম্প্রতি উত্তর সিটির বিভিন্ন অঞ্চলে অ্যাড’ভোকেসি সভার আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি কর’পোরেশন।

আরও পড়ুন:  তাপসের আসনে প্রার্থী হতে চান সাঈদ খোকন

সেখানে স্বাস্থ্য অধি’দফতরের সং’ক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) পক্ষ থেকে পাওয়ার প্রেজেন্টেশন উপ’স্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, গত আগস্ট মাসে দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ। সারা দেশে এই এক মাসেই প্রায় ৫৩ হাজার রোগী ভর্তির রেকর্ড করা হয়, যার বেশির ভাগই ছিল রাজ’ধানীতে। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এ তিন মাসে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব সর্বা’ধিক ছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে, এ বছরও একই সময়ে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। জাহাঙ্গীর’নগর বিশ্ব’বিদ্যালয়ের প্রাণি’বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার মশার উপ’স্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গবেষণা করে থাকেন।

তিনি বলেন, গত বছর দেশে ডেঙ্গুতে এক লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই বছর জানুয়ারি- ফে’ব্রুয়ারিতে মশার যে রকম উপদ্রব ছিল বর্ত’মানে তার থেকেও বেশি রয়েছে। এ জন্য এখনই যদি কার্য’কর ব্যবস্থা নেয়া না যায় তা হলে জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু মৌসুমে ডেঙ্গু হওয়ার আ’শঙ্কাও বেশি থাকবে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু যেহেতু ভাইরাস’জনিত রোগ; সে জন্য গত বছর যারা এ রোগে আক্রান্ত হয়ে’ছিলেন তাদের এ বছর আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। কিন্তু বাকি যারা নগরবাসী রয়েছেন তাদের জন্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আ’শঙ্কা বেশি থাকবে।

আরও পড়ুন:  সাঈদ খোকনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তাপস

স্বাস্থ্য অধি’দফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরি’চালক অধ্যাপক ডা: বেনজির আহমেদ বলেন, জরিপের ফলা’ফল পর্যালোচনা করে যদি প্র’য়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তা হলে এ বছরও ডেঙ্গুর বি’স্তার ঘটতে পারে। ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্ম’কর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনা’রেল মো: মোমি’নুর রহমান মামুন বলেন, আমরা গত বছরের অ’ভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। কোথায় এডিস মশা বংশ’বিস্তার করে, কোথায় এদের ঘনত্ব বেশি, কোন বয়সের মানুষ বেশি আক্রান্ত হয় এগুলো আমরা জানি।

তাই এসব তথ্য-উপাত্ত কাজে লাগিয়ে আমরা বছরের শুরু থেকেই পুরো’দমে কাজে নেমেছি। এ দিকে এডিস মশা নির্মূলে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড’গুলোতে আজ মঙ্গলবার থেকে বিশেষ ক্র্যাশ প্রো’গ্রাম শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর’পোরেশন (ডিএসসিসি)। বেলা সাড়ে ১১টায় ধান’মন্ডির কলা’বাগান মাঠ থেকে এ কর্ম’সূচির উ’দ্বোধন করেন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 114
    Shares