প্রচ্ছদ জানা অজানা

জেনে নিন কেউ বিষ খেলে কী করবেন

582
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

পরি’বারের কারো সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ করে রাগ নিয়’ন্ত্রণ করতে না পেরে যে কেউ দুর্ঘ’টনা ঘটাতে পারে৷ আবার কেউ মানসিক’ভাবে আঘাত পেয়ে রাগের বশ’বর্তী হয়ে জীবন ধ্বংস’কারী কোন ওষুধ পান করে৷ এছাড়াও বড়দের অ’সতর্কতার কারণে বাচ্চারা ভুল’বশত বিষ পান করে। প্রায়ই বিষ’পানের রোগী পাওয়া যায় সে’গুলোর মধ্যে উলেখযোগ্য: কীট’নাশক পান করা, অনেক পরি’মাণে ঘুমের ঔষধ খাওয়া, কেরো’সিন পান করা, ধুতরার বীজ খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া, কোনো ঔষধ ভুল’ক্রমে বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলা, বিষাক্ত মদ্য’পান বা অতি’রিক্ত মদ’পান ইত্যাদি৷ বিষ’পানের রোগী আসা মাত্র বিষ’পানের ধরন সম্পর্কে আন্দাজ করা সম্ভব৷ সাধারণ’ভাবে বিষ’পানের পর দেরী না করে নিম্ন’রূপ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং হাস’পাতলে পাঠাতে হবে।

রোগী শ্বাস নিতে না পারলে তাকে কৃত্রিম শ্বাস-প্র’শ্বাস দিতে হবে। সজ্ঞান রোগীকে সর্ব’প্রথম এক’গ্লাস পানি বা দুধ পান করানো ভালো কারণ এতে বিষ পাতলা হয়ে যায় ও বিষের ক্ষতির প্রভাব কমে আসে৷ শিশু’দের ক্ষেত্রে আধা গ্লাসের মতো পানি বা দুধ রোগীকে পান করানো ভালো। অ’জ্ঞান রোগীকে তরল দেয়া যাবে না৷ তাকে সুবিধা’জনক স্থানে শুইয়ে দিতে হবে। রোগীকে বমি করানো উচিত কিনা তার সি’দ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ সকল বিষ’পানের পর বমি করানো যাবে না। রোগীর শরীরে খিঁচু’নি থাকলে সংজ্ঞা’হীন অবস্থায় রোগীকে বমি করানো যাবে না। কিছু বিষ যা প্রবেশের সময় মুখ, মুখ’গহ্বর ও অন্ন’নালীতে প্রদাহের বা দগ্ধ’তার সৃষ্টি করে অথবা ফুস’ফুসে প্রবেশ করে সং’ক্রমণের সৃষ্টি করে এরূপ বিষ’পানের রোগীকে কোন’ক্রমেই বমি করানো উচিত নয়।

কারণ বমি করার সময় উ’ল্লেখিত পদার্থ’গুলো পুন’রায় ক্ষতি’সাধন করে ক্ষতের পরি’মাণ বৃদ্ধি করে। পোড়া ও ক্ষত সৃষ্টি’কারী বিষ :অম্ল বা এসিড, ক্ষার বা এলকালি, গৃহে ব্যবহৃত বিশো’ধক, গোসল’খানা পায়’খানা নর্দমা পরিষ্কার’কারক বিশোধক। প্রদাহ সৃষ্টি’কারী বিষ : কেরো’সিন, তার’পিন তেল, রঙ এবং রঙ পাতলা’কারক দ্রব্য, পেট্রো’লিয়াম ও পেট্রো’লিয়াম জাতীয় দ্রব্য, রোগী কোন ধরনের বিষ পান করেছে তা রোগীর মুখ, মুখ’গহ্বর ও শ্বাস-প্র’শ্বাস পরীক্ষা করলে অতি সহজেই অনু’মান করা যায়, পোড়া ও ক্ষত সৃষ্টি’কারী বিষ’পানে রোগীর মুখ ও মুখ’গহ্বরে পোড়া ক্ষত বা ফো’সকা দেখা যাবে, কেরো’সিন জাতীয় বিষ’পানে রোগীদের শ্বাসে উক্ত দ্রব্যের গন্ধ পাওয়া যাবে।

৪ ঘণ্টার ভেতর বিষ খেয়ে থাকলে এবং জ্ঞান থাকলে রোগীকে নিম্নলিখিত’ভাবে বমি করানো যেতে পারে :মুখের মধ্যে আঙুল প্র’বেশ করিয়ে বমি করা’নো যায়। খারাপ স্বাদ’যুক্ত ডিমের সাদা অংশ ও কুসুম স্বল্প গরম দুধসহ বা স্বল্প গরম লোনা পানি পান করালে অনেকেরই সহজে বমি হয়ে যায়৷ তিতা কোন দ্রব্য মু’খের মধ্যে দিয়েও বমি করানো যেতে পারে। বমি করা’নোর সময় বিশেষ’ভাবে নজর দিতে হবে যেন বমি’কৃত কোনো জিনিস বা পানীয় ফুস’ফুসে প্রবেশ না করে৷ এজন্য বমি করানোর সময় রোগীর মাথা নিচের দিকে ও মুখ পাশে কাত করিয়ে রাখতে হবে৷ হাস’পাতালে রোগীকে বিষ অপ’সারণের ক্ষেত্রে রাই’লস টিউবের (একটি বিশেষ নল) সাহায্যে করা যেতে পারে৷

বিষের বিরুদ্ধে কার্য’কর ঔষধ প্রয়োগ : কিছু বিষকে নিষ্ক্রিয় করার ঔষধ রয়েছে৷ রোগী কোন বিষ দ্বারা আক্রান্ত তা জানতে পারলে সেই বিষকে নিষ্ক্রিয় করা ঔষধ প্রয়োগ করে রোগীর অব’স্থার উন্নতি করা সম্ভব৷ এক্ষেত্রে চিকিৎ’সকের পরা’মর্শ নিতে হবে৷ কেরো’সিনের বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে: সাধা’রণত বাচ্চারা না বুঝে কেরো’সিন তেল খেয়ে ফেলে৷ এ ধরনের রোগীর বমি, মুখ, শ্বাস-প্র’শ্বাস, প্রস্রাব ও কাপড় চোপড় থেকে কেরো’সিনের গন্ধ পাওয়া যাবে৷ গলায় জ্বালা’পোড়া ও ব্যথা থাকবে৷ পাতলা পায়খানা ও পেটে ব্যথা থাকবে৷ শ্বাস-প্র’শ্বাস ঘন ঘন হবে৷ বুকের মধ্যে ঘড়’ঘড় শব্দ হতে পারে, জ্বর থাকতে পারে৷ নাড়ি দুর্বল ও অ’নিয়মিত হতে পারে। এ ধরনের রোগীকে দ্রুত হাস’পাতালে পা’ঠাতে হবে৷ এই রোগীর স্টোম্যাক ওয়াশ দেয়া বা বমি ক’রানো যাবে না । এ্যান্টি’বায়োটিক দিতে হবে যাতে নিউ’মোনিয়া বা ফুস’ফুসে অন্য কোনো সং’ক্রমণ না হতে পারে।

এসিড কিংবা ক্ষারের বিষ’ক্রিয়ার ক্ষেত্রে : রোগীকে বমি করা’নোর চেষ্টা করা যাবে না। ক্ষতের ওপর প্র’লেপ সৃষ্টি করে এমন খাদ্যবস্তু যেমনঃ দুধ, ডিমের সাদা অংশ খাও’য়ানো যেতে পারে। মুখ বা শরীরের কোনো অংশে এসিড অথবা ক্ষার পড়লে সে’খানে প্রচুর পানি ঢেলে ধুয়ে ফেলতে হবে। এসিড খেলে এন্টাসিড সাস’পেনশন দেয়া যেতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাস’পাতালে নিয়ে যেতে হবে। ঘুমের ঔষধ বিষ’ক্রিয়ার ক্ষেত্রে বমি করানোর চেষ্টা করতে হবে। ঠিক’মতো বমি করানো না গেলে স্টোমাক ওয়াশ করা’নোর জন্য নিকটস্থ হাস’পাতালে পাঠাতে হবে। প্রতি’রোধের উপায় : আমাদের দেশের ক্ষেত-খামারে পোকা মারার জন্য অনেক ধরনের বিষ ব্যব’হার করা হয়ে থাকে৷ এ ছাড়া কেরো’সিন, ঘুমের ওষুধ ই’ত্যাদি দিয়ে বিষক্রিয়া ঘটতে পারে৷ দুর্ঘটনা’ক্রমে ঘটে যাওয়া বেশির’ভাগ বিষক্রিয়া প্রতি’রোধ করা সম্ভব৷

বিষ’ক্রিয়া চিকিত্সার চেয়ে এর প্রতিরোধ নিরাপদ এবং সহজ। নিজের ঘর’বাড়ি, কর্ম’স্থলকে নিরা’পদ রাখার জন্য কৃষক, কল’কারখানায় ও মাঠে-খামারে নিয়ো’জিত কর্মী, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, বাবা-মাসহ ছাত্র-ছাত্রী কিংবা ছেলেমে’য়ে সবার ভূমিকা রয়েছে। যে কোনো ধরনের কেমি’ক্যাল বা রাসা’য়নিক সামগ্রী নিরা’পদভাবে ব্যবহার ও নাড়াচাড়া করুন। রাসা’য়নিক সামগ্রী নিরাপদে রাখুন৷ ব্যব’হার করে তা সরিয়ে নিরা’পদে রেখে দিন। শিশুর নাগালের বাইরে কীটনাশক, ওষুধ ও পরিষ্কার’করণ সামগ্রী (ডেটল, স্যাভ’লন ইত্যাদি) রাখুন।আপ’নার প্রয়ো’জন নেই এমন কোনো রাসায়নিক পদার্থ ঘরে রাখ’বেন না। খাবার জিনিসের কোনো পাত্রে রাসা’য়নিক সামগ্রী রাখ’বেন না।

ভুল’বশত কেউ খাবার কিংবা পানীয় মনে করে খেতে বা পান করতে পারে যথা’যথ পরিমাণ ও যথাযথ’ভাবে কীট’নাশক, ওষুধ ও পরিষ্কার’করণ সামগ্রী ব্যব’হার করুন। গায়ে আঁটা লেবেল পড়ে নির্দেশ অনু’যায়ী ব্যবহার করুন৷ পড়তে না পারলে অন্য কারো সাহায্য নিন। লেবেল’হীন পাত্র থেকে রাসা’য়নিক সামগ্রী ব্যবহার করা বি’পজ্জনক। প্রয়ো’জনে দোকান থেকে লেবেল’সহ সামগ্রী বদলিয়ে নিন। ঔষুধ সেবন ও ব্যব’হারের ক্ষেত্রে রেজি’ষ্টার চিকিত্সকের পরা’মর্শ নিন। পরি’বারের কারো সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ করে রাগ নিয়’ন্ত্রণ করতে না পেরে যে কেউ দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে৷ আবার কেউ মানসিক’ভাবে আঘাত পেয়ে রাগের বশ’বর্তী হয়ে জীবন ধ্বংসকারী কোন ওষুধ পান করে৷ এছাড়াও বড়দের অ’সতর্কতার কারণে বাচ্চারা ভুল’বশত বিষ পান করে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 98
    Shares