প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

ধংসের পথে টাঙ্গাইলের কুইচ্চা রফতানি বাণিজ্যে

89
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

চীনে প্রাণ’ঘাতী করোনা ভাই’রাস ছড়িয়ে পড়ায় টাঙ্গাইলের সখী’পুর উপ’জেলায় কুইচ্চা রফ’তানি বাণিজ্যে এখন ধং’সের পথে। প্রায় দেড় মাস ধরে রপ্তানির কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কুইচ্চা ব্যব’সায়ীরা পথে বসার উপ’ক্রম হয়েছে। কুইচ্চা খামারে দেখা দিয়েছে মড়ক। ফলে লক্ষ-লক্ষ টাকার ব্যব’সায়ীক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সখীপুর উপ’জেলার কুইচ্চা ব্যব’সায়ী ও সংগ্রহ’কারীরা। প্রায় দুই শতা’ধিক পরি’বার ব্যাংক ঋণ ও দাদন পরি’শোধ নিয়ে পড়েছেন বি’পাকে। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সখী’পুর উপ’জেলার কুইচ্চা ব্যবসায়ী শ্রী সন্তুস কোচ ও সুভল চন্দ্র কোচ জানান, সখী’পুর উপ’জেলার কীর্ত্তন খোলা, কালি’য়ান পাড়া, কালিদাশ, নলুয়া, মহা’নন্দপুর, পাথার, ইছা’দিঘীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি’মাসে লাখ-লাখ টাকার কুইচ্চা রপ্তানি হতো ঢাকা হয়ে চীনে।

চীনে দৈন’ন্দিক খাদ্য তালিকায় কুইচ্চা থাকায় শুধু চীনেই র’প্তানি হতো ৯০ শতাংশ কুইচ্চা। বাকী ১০ শতাংশ রপ্তানি করা হতো হংকং, তাইওয়ানসহ বিশ্বের কয়েক’টি দেশে। ফলে, এই ব্যবসার সাথে জড়িতরা ভাগ্য বদল করে’ছিল অনেক পরি’বারই। কিন্তু দেশ’টিতে করোনা ভাইরাস মারা’ত্মক আকারে বিস্তার করায় গত (২০ জানুয়ারি) থেকে চীনের সাথে কুইচ্চা রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আরো জা’নান, তারা এ ব্যবসা শুরুর আগে বিভিন্ন বাজারে বাজারে মাছের ব্য’বসা করতেন। এক পর্যায়ে ঢাকার টঙ্গীর কামার’পাড়া ও নল’ভোগ এলাকার অর্কিড ট্রেডিং কর্পোরেশন, আঞ্জুম ইন্টারন্’যাশনাল ও গাজী এন্টারপ্’রাইজসহ অ’ন্যান্য কুইচ্চা রপ্তানি’কারক প্রতিষ্ঠান’গুলোর মাধ্যমে তাদের সং’গ্রহ করা কুইচ্চা বিদেশে রপ্তানি করে আস’ছিলেন তারা।

আরও পড়ুন:  করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়াল

রপ্তানি’কারক প্রতিষ্ঠান’গুলো কুইচ্চা ব্যবসার সম্প্র’সারনের জন্য স্থানীয় কুইচ্চা ব্যবসায়ী’দের লাখ টাকা পর্যন্ত দাদনে (সুদে বা তাদের কাছে কুইচ্চা বিক্রির শর্তে) দিতেন। কুইচ্চা বিক্রির মাধ্যমে দাদনের টাকা পরি’শোধ করতেন ব্যব’সায়ীরা। জানা গেছে, করোনা ভাই’রাস মহা’মারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় চীনের সাথে অ’ন্যান্য ব্যবসা বানিজ্যর মতো কুইচ্চা রপ্তানি পুরো’পুরি বন্ধ হওয়ায় বি’পাকে পড়েছে দাদন নেয়া কুইচ্চা সংগ্রহক’রী ও ব্যব’সায়ীরা। বেকার হয়ে পড়েছে কুইচ্চা ধরা শ্রম’জীবী লোক’জন। কিছু দিন আগেও রপ্তানি’যোগ্য কুইচ্চা সং’গ্রহ ও রপ্তানির জন্য যে আড়ৎ’গুলো ছিল কর্ম’চঞ্চল আজ সেখানে শুধু শুন্য’তা।

জন’শুন্য হয়ে পড়েছে কুইচ্চা আড়ৎ’গুলো। কাজ না থাকায় অলস শ্রমিক’দের বেতনের জন্য ব্যবসায়ী’দের গুনতে হচ্ছে মাসিক বেতন। আগামী এক মাসের মধ্যে চীনে রপ্তানি কার্য’ক্রম পুন’রায় শুরু না হলে ব্যবসায়ী’দের মজুদ করা কুইচ্চা সম্পূর্ণ মারা যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যব’সায়ীরা। এ বিষয়ে সখি’পুর উপ’জেলার কুইচ্চা সংগ্রহ’কারী কালি’দাশ গ্রামের রতন চন্দ্র কোচ বলেন, আগে আড়ৎ’ধারদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে পুকুর, ডোবা-নালা, খাল-বিল থেকে কুইচ্চা ধরে ৫শ থেকে ৭শ টাকা পর্যন্ত আয় করতাম। বর্ত’মানে রপ্তানী বন্ধ হও’য়ায় কোন আড়ৎদার কুইচ্চা কিনতে চাচ্ছে না।

আরও পড়ুন:  করোনায় ট্রাম্প ও দেশের মানুষ একই চিকিৎসা পেয়েছেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তাই তাদের সং’সার চালানো এখন খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্য’দিকে, কালি’দাস গ্রামের শ্রী নিরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, অনেক বেকার ছেলেরা কুইচ্চা সগ্রংহ করে আড়তে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। অন্যান্য ব্যবসা বানিজ্যর মতো কুইচ্চা রপ্তানি পুরো’পুরি বন্ধ হওয়ায় বি’পাকে পড়েছে দাদন নেয়া কুইচ্চা সংগ্রহ’করী ও ব্যবসায়ীরা। বেকার হয়ে পড়েছে কুইচ্চা ধরা শ্রম’জীবী লোক’জন। এ প্র’সঙ্গে সখি’পুর উপ’জেলা মৎস্য কর্ম’কর্তা রফিকুল ইস’লাম জানান, করোনা সং’ক্রমণের জন্য চীনে কুইচ্চা আম’দানী বন্ধ করে দিয়েছে। যে কারনে এ’লাকার কুইচ্চা ব্যব’সায় ধ্বস নেমেছে।

এই উপ’জেলার বহু মৎস চাষীরা মজা, পুকুর, ডোবা-নালা, খাল থেকে কুইচ্চা সং’গ্রহ করে আড়তে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আস’ছিল। তার পরেও কুইচ্চা সং’গ্রহ, রক্ষণা’বেক্ষণ ও বিক্রির সাথে জড়িত থেকে অসংখ্য মানুষ কর্ম’জীবনের মাধ্যমে আর্থিক সচ্ছ’লতায় দিন’যাপন করতেন। এটি একটি সাম’য়িক সমস্যা। তবে, মজুদ’কৃত কুইচ্চা দেশীয় বাজারে বিক্রি করলেও একটু হলেও লোক’সানের হাত থেকে রক্ষা পাবে কুইচ্চা সংগ্রহ’কারী জেলে ও আড়ৎ’দাররা।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 46
    Shares