প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য দোতলা মাটির বাড়ি তাও আবার ১০৮ কক্ষের

দোতলা মাটির বাড়ি তাও আবার ১০৮ কক্ষের

149
দোতলা মাটির বাড়ি তাও আবার ১০৮ কক্ষের
ছবি : সংগৃহীত
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

২১ বিঘা জমির উপর একটি মাত্র বাড়ি। বাড়িটির চারপাশ একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে ৭ থেকে ৮ মিনিট। দোতলা এ বাড়িতে মোট কক্ষ আছে ১০৮টি। ভাবছেন এ আবার নতুন কি? এমন বা এর থেকেও অনেক বড় বড় বাড়ি দেশের আনাচে-কানাচে অনেক স্থানেই তো আছে। এই দোতলা বাড়িটির মূল আকর্ষণ হচ্ছে পুরো বাড়িটি মাটি দিয়ে তৈরি।

এই বাড়িটিই দেশের মধ্যে ১০৮ কক্ষের একমাত্র দোতলা মাটির বাড়ি। এত বিশাল মাটির তৈরি দোতলা বাড়ি সারাদেশে আর নেই।  এখন বাড়ি বলতেই আমরা বুঝি ইট-সিমেন্ট দিয়ে তৈরি পাকা বাড়ী। ইট, বালি ও সিমেন্টের যুগে মাটি দিয়ে তৈরি বাড়িগুলো বর্তমান সময়ে বিলিন হয়ে যাচ্ছে।

একসময় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ছিল মাটির বাড়ি। মাটির তৈরি বাড়িতে শীতের সময় শীত কম লাগে এবং গরমের সময় গরম কম লাগে। গ্রামের মানুষের কাছে মাটির বাড়ি মানে গরিবের এয়ারকন্ডিশন। গ্রাম-বাংলার কিছু এলাকায় এখনও মাটি বাড়ি দেখা যায়।

নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে দেখা যায় ১০৮ কক্ষের একটি বিশাল মাটির দোতলা বাড়ি। ৩০ বছর আগে ১৯৮৬ সালে এ বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন এই গ্রামের দুই ভাই সমশের আলী মণ্ডল ও তাহের আলী মণ্ডল।

আরও পড়ুন:  নওগাঁয় এ*ফিডেভিট করে বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছি*ন্ন করলেন কলেজ ছাত্রী

জানা যায়, এ বাড়ি নির্মাণে দুই ভাইয়ের সময় লেগেছিল প্রায় এক বছর। ২৫-৩০ ইঞ্চি চওড়া মাটির দেয়াল একবারে তৈরি করা যায় না। মাটি ও খড় পানি দিয়ে ভিজিয়ে কাদায় পরিনিত করতে হয়। এরপর এক থেকে দেড় ফুট নির্মাণের পর অপেক্ষা করতে হয় মাটি শুকানোর জন্য।

মাটি শুকিয়ে যাওয়ার পর আবার পরের স্তর নির্মাণ করতে হয়। এভাবেই পর্যায়ক্রমে সুবিশাল এই বাড়িটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। এ বাড়ি তৈরিতে ৮০ জন শ্রমিক কাজ করেছিল। বাড়ি তৈরিতে ছাউনির জন্য ২০০ বান্ডেল টিন ব্যবহার করা হয়। বাড়িটির সৌন্দর্য বাড়াতে সেসময় চুন ও আলকাতরার প্রলেপ দেয়া হয়েছে।

দোতলা এই বাড়িটিতে প্রবেশের জন্য মোট ১১টি দরজা রয়েছে। প্রতিটি ঘরে একাধিক দরজা আছে। এর যেকোনো একটি দরজা দিয়ে যাওয়া যাবে ১০৮ কক্ষেই। ৯৬টি বড় এবং ১২টি ছোট কক্ষ আছে বাড়িতে। দোতলায় ওঠার জন্য সিঁড়ি রয়েছে মোট ১৩টি। বর্তমানে এ বাড়িতে বসবাস করছেন প্রায় ৪০ জন মানুষ। সব মিলিয়ে তারা ৩০টির মতো ঘর ব্যবহার করছে। বাকি ঘরগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পরে আছে।

আরও পড়ুন:  টেক্সাসের ‘বাদশাহ’, দাম ৮ লাখ

এই বাড়িটি তৈরি করতে অনেক মাটি লেগেছিল। সেই মাটি বাড়ির পেছন থেকে নেওয়া হয়। এর ফলে সেখানে একটি বিশাল আকারের পুকুর তৈরি হয়ে যায়। পুকুরটি এখন আছে সাক্ষী হিসেবে।

আলিপুর গ্রামের বিশালাকৃতির মাটির দোতলা বাড়িটি স্থানীয় জনগণ সংরক্ষণের দাবি করছেন। তাদের বলছেন, যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে বাড়িটি হয়ে উঠতে পারে এ অঞ্চলের অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান।

নওগাঁ উপজেলা সদর থেকে ১১ কিলোমিটার দক্ষিন-পূর্বে চেরাগপুর ইউনিয়নের আলিপুর গ্রাম। জেলা সদর থেকে মহাদেবপুর আসার পথে তেরমাইল মোড়ের উত্তর দিকে, আরও প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গেলেই রাস্তার পার্শ্বে রাজপ্রাসাদের মতো এই দোতলা মাটির বাড়ির অবস্থান।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট: