না জানলে খালেদা জিয়ার মতো আমিও বলতাম এটা করলে তথ্য পাচার হয়ে যাবে

২৬ views
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শুধু অজ্ঞতার কারণে বিএনপি দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি কুয়াকাটায় স্থাপন করা হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু আগেই ডিজিটাল দেশগুলোর কাতারে থাকত বাংলাদেশ। অথচ অজ্ঞতার কারণে সুযোগ থাকা সত্ত্বে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে বিএনপি। দুইবার বিনা পয়সায় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু অজ্ঞতার কারণে তা নাকচ করে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে বিএনপি। তিনি বলেন, সাবমেরিন ক্যাবল কি এটা জানতে হবে। না জানলে খালেদা জিয়ার মতো আমিও বলতাম এটা করা যাবে না। করলে তথ্য পাচার হয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আন্তরিকতায় আজ দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ছিল আমাদের। আমরা তা বাস্তবায়ন করে ফেলেছি। প্রতিটি সেক্টরকেই আমরা ডিজিটিলাইজ করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন দেশের সব ধরনের কার্যক্রমকে আমরা অনলাইন ভিত্তিক করতে পেরেছি। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি সবকিছুই এখন অনলাইনে।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের চেয়ে পটুয়াখালীতে দ্বিতীয় প্রকল্পটি পাঁচ গুণ বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন। ব্যান্ডউইথ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবো আমরা।

চালু হলো দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চালু হলো বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই স্টেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

কলাপাড়া উপজেলার গোড়া আমখোলাপাড়ায় এই ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে সাউথইস্ট এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ (এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫) আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের সাবমেরিন কেবল থেকে সেকেন্ডে ১ হাজার ৫০০ গিগাবাইট (জিবি) গতির ইন্টারনেট পাবে বাংলাদেশ।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চালু হলো বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন

এর ফলে বাংলাদেশের টেলিকম কোম্পানিগুলোকে আর বিদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনতে হবে না বলে সরকার আশা করছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

কুয়াকাটা সংলগ্ন মাইটভাঙ্গা গ্রামে ১০ একর জমির উপর ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি।

১৯টি দেশের টেলিযোগাযোগ সংস্থার সম্মেলনে গঠিত সাউথ ইস্ট এশিয়া-মিডল ইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ (এসইএ-এমই­উই-৫) আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের অধীনে জাপানের এনইসি ও ফ্রান্সের অ্যালকাটেল লুসেন্ট ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এ কেবলটি নির্মাণ করে।

সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভারত হয়ে ইউরোপের ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এর সংযোগ লাইন।

এই কেবলে সংযুক্ত হওয়ায় ট্রান্সমিশন চার্জ কম পড়ায় কম খরচে ইন্টারনেট সেবা পাবেন দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা ও ফরিদপুরের মানুষ।

বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ ৪০০ জিবিপিএসের বেশি। এর মধ্যে ১২০ জিবিপিএস রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) মাধ্যমে আসে। বাকি ২৮০ জিবিপিএস আইটিসির ব্যান্ডউইডথ ভারত থেকে আমদানি করা হয়।

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...