আমরা এ সমস্যার জরুরি সমাধান চাই,জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

৯ views

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্থায়ী ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। গতকাল সোমবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরের ইকোসক চেম্বারে ‘রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশের মানবিক সহযোগিতা বিষয়ে’ এক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণবিষয়ক সমন্বয়কারী এবং জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, ‘আমরা এ সমস্যার জরুরি সমাধান চাই; যাতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিরাপদভাবে এবং সম্মানের সঙ্গে তাদের ঘরে ফিরতে পারে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও অর্থপূর্ণ জীবন কাটাতে পারে। এই সংকটের শিকড় মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

গত মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫টি পদক্ষেপের কথা বলেছেন। স্পিকার তাঁর বক্তৃতায় সেগুলো উল্লেখ করে বলেন, সহিংসতা ও একটি জাতিকে নির্মূলের প্রক্রিয়া বন্ধ, মিয়ানমারে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফান্ডিং মিশন প্রেরণ, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সেফ জোন তৈরি, জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা মানুষদের নিজ ভূমিতে স্থায়ী প্রত্যাবর্তন এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে মার্ক লোকক কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সরেজমিনে পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের উদারভাবে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান।

ব্রিফিং অনুষ্ঠানে ইউএনএইচসিআর, আইওএম, ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও, রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্টের প্রতিনিধি ছাড়াও কুয়েত, তুরস্ক, সৌদি আরব, সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ইইউর রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

কফি আনানের সঙ্গে বৈঠক
সোমবার সন্ধ্যায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ও অ্যাডভাইজরি কমিটি অন রাখাইন স্টেটের চেয়ারম্যান কফি আনানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি একটি সুদূরপ্রসারী ও গঠনমূলক প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য কফি আনানকে ধন্যবাদ জানান এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর ধারণা ও সুপারিশগুলো তুলে ধরার জন্য অনুরোধ জানান।

কফি আনান চলমান পরিস্থিতিতে মানবিক ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। কফি আনান অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ এবং রাখাইন প্রদেশের উপদ্রুত এলাকাগুলোতে জাতিসংঘ ও মানবিক সহায়তা সংস্থা এবং গণমাধ্যমের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...