প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগ

এবার কমিটিতে রাখবো বংশ পরিচয় দেখে, ফ্যামিলির খোঁজখবর নিয়ে

2.6K বার দেখা হয়েছে
এবার কমিটিতে রাখবো বংশ পরিচয় দেখে, ফ্যামিলির খোঁজখবর নিয়ে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ছাত্রলীগের এজেন্সি কাউকে দেওয়া হবে না। ছাত্রলীগের কমিটি এবার আমিই করবো। দেখি ছাত্রলীগকে কে নষ্ট করে।’ আজ মঙ্গলবার গণভবনে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন প্রসঙ্গে কয়েকজন সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আগামী ১১ মে অনুষ্ঠিত ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে প্রাক্তন কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী ডেকে পাঠান। তাদের সঙ্গে সম্মেলন এবং ছাত্রলীগে ঢুকে পড়া শিবির-ছাত্রদল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতাদের স্পষ্ট করে বলেন, ‘ছাত্রলীগে গ্রুপিং করবে না। এ ভালো, এ খারাপ এসব বলবে না।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার কাছে খবর আছে, অনেককেই অনেককে আশ্বাস দিয়েছো একে সভাপতি ওকে সাধারণ সম্পাদক বানিয়ে দেবে। এসব বন্ধ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেন,‘ছাত্রলীগের সন্মেলন এলেই ওরা তৎপর হয়। একটা নির্দিষ্ট প্যানেলকে কমিটিতে আনতে মাঠে নামে। এবারো এসব চেষ্টা হচ্ছে। কারো নামে তদবির করবে না। তাহলে যার নাম তদবির করবে তাঁকেই বাদ দেবো।’ প্রধানমন্ত্রী যিনি পদাধিকার বলে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক প্রধান একটু বিরক্ত হয়েই মন্তব্য করেন, ‘গ্রুপিং করতে করতে এই সংগঠনে শিবির-জামাত ঢুকিয়েছ। এসব বন্ধ করতে হবে। এবার কমিটি করবো আমি নিজে। আমি খোঁজ নিচ্ছি। এবার কমিটিতে রাখবো বংশ পরিচয় দেখে, ফ্যামিলির খোঁজখবর নিয়ে।’

শেখ হাসিনা দুঃখ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এই ছাত্র সংগঠনের কর্মী কিভাবে ঘৃনিত, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী তারেক জিয়ার হাতে ফুল দেয়। তার মানে যে ঢুকেছিল, যারা তাঁকে ঢুকিয়েছিল তাদেরও বিচার হওয়া দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশে আসার পর থেকেই দেখেছি অমুক ভাইয়ের গ্রুপ, তমুক ভাইয়ের গ্রুপ। এর মধ্যে আমি যাদের কমিটিতে নিয়েছি তাঁরা এখনো উজ্জ্বল। এরা দলের জন্য এখনো নিবেদিত প্রাণ।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘তোমরা অনেকেই ছাত্রলীগকে তোমাদের পকেট সংগঠন বানানোর চেষ্টা করেছ। এজন্যই শিবির ছাত্রদলের অনুপ্রবেশ ঘটেছে।’ তবে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এখনো ছাত্রলীগ একমাত্র সংগঠন যারা ছাত্র সমাজের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব করে। দরকার শুধু প্রকৃত ছাত্রলীগদের সামনে আনা। এজন্য মাথা ঠিক করতে হবে।

মাথায় যদি পচন না ধরে, তাহলে বাকী পচন এমনিই দূর করা যায়।’শেখ হাসিনা বলেন,‘বিএনপি-জামাত ছাত্রলীগকে টার্গেট করেছে। এজন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ওরা ছাত্রলীগকে ধ্বংস করতে চায়, যেন আগামী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন না করে।’ তিনি বলেন,‘ এজন্য এবারের সম্মেলন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচনের আগে আমরা ছাত্রলীগকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ছাত্রলীগ করতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ ছাত্রলীগকে আমাদের সঠিক পথে রাখতে হবে। দু:খ লাগে, আমাদের অনেকে ছাত্রলীগকে নিজের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যবহার করে আবার প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের সমলোচনা করে। আমরা এসব আর সহ্য করবো না।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগকে গালি দেওয়া এখন যেন এক ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে।’ জানা গেছে, ছাত্রলীগের সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই সম্ভাব্য ছাত্রলীগ নেতাদের ব্যাপারে গভীর খোঁজখবর নিচ্ছেন। নিবিড় তদন্তের মাধ্যমেই এবার ছাত্রলীগের চূড়ান্ত কমিটি করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজে।

১ মন্তব্য

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন: