প্রচ্ছদ ধর্ম ও জীবন

রজব ও শাবান মাসের নেক আমল ও পাপ বর্জনের মাধ্যমে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী,বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ও আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক

47
রজব ও শাবান মাসের নেক আমল ও পাপ বর্জনের মাধ্যমে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ

রজব হলো আরবি চান্দ্রবর্ষের সপ্তম মাস। রজব মাসের পূর্ণ নাম হলো ‘আর রজব আর মুরাজ্জাব’ বা ‘রজবুল মুরাজ্জাব’। রজব অর্থ সম্ভ্রান্ত, প্রাচুর্যময়, মহান। মুরাজ্জাব অর্থ সম্মানিত; রজবে মুরাজ্জাব অর্থ হলো প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস। সম্মানিত চারটি মাসের অন্যতম হলো রজব। বাকি তিনটি মাস হলো জিলকদ, জিলহজ ও মহররম। হাদিস শরিফে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা আসমান-জমিন সৃষ্টি করার দিন থেকেই বছর হয় বারো মাসে। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত-জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং “রজব মুদার”, যা জুমাদাল উখরা ও শাবানের মধ্যবর্তী।’ রাসুল (সা.) রজব ও শাবান মাসব্যাপী এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়তেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজব ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান’। অর্থ: ‘হে আল্লাহ! রজব মাস ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন, রমজান আমাদের নসিব করুন।’ (বুখারি)

মাস দুটির ফজিলত ও আমল
হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ‘কখন রজব মাস আসত তা আমরা নবীজির আমলের আধিক্য দেখে বুঝতে পারতাম।’ উম্মে সালমা (রা.) বলেন, ‘নবী করিম (সা.) রমজান মাস ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করতেন শাবান মাসে, অতঃপর রজব মাসে।’ কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, নবীজি রজব মাসে ১০টি রোজা রাখতেন, শাবান মাসে ২০টি রোজা রাখতেন, রমজান মাসে ৩০টি রোজা রাখতেন। (দারিমি)। হাদিস শরিফে আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রজব হলো আল্লাহর মাস, শাবান হলো আমার (নবীজির) মাস, রমজান হলো আমার উম্মতের মাস।’ (তিরমিজি)। অন্য হাদিসে আছে রাসুলে আকরাম (সা.) বলেন, ‘যারা রজব মাসে জমি চাষ দেবে না, শাবান মাসে বীজ বপন করবে না, তারা রমজান মাসে ফল লাভ করতে পারবে না।’

মাস দুটির বিশেষ কিছু আমল
বেশি বেশি নফল রোজা রাখা। বিশেষ করে প্রতি সোম, বৃহস্পতি ও শুক্রবার; মাসের ১,১০, ১৩,১৪, ১৫,২০, ২৯,৩০ তারিখ নফল রোজা রাখা। বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত-দোহা, জাওয়াল, আউওয়াবিন; তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলুল মসজিদ ইত্যাদি আদায় করা। বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা।

রজব মাসের নফল নামাজ
হজরত সালমান ফারসি (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রজব মাসের প্রথম তারিখে ১০ রাকাত নফল নামাজ পড়তে হয়। এই দিন মাগরিব ও এশার মাঝে দুই দুই রাকাত করে ২০ রাকাত নফল নামাজ পড়বে। রজব মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার রোজা রাখবে এবং প্রথম জুমার রাতে মাগরিব ও এশার মাঝে ২ রাকাত করে ১২ রাকাত নফল নামাজ পড়বে। রজব মাসের প্রথম শুক্রবার জোহর ও আসরের মধ্যখানে ৪ রাকাত বা ১২ রাকাত নফল নামাজ পড়বে। রজব মাসের ১৫ তারিখে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়া মুস্তাহাব। রজব মাসের ১৬ তারিখ থেকে শেষ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০ রাকাত নফল নামাজ পড়া মুস্তাহাব।

আরও পড়ুন:  জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

মিরাজের নফল নামাজ
রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে রাসুল (সা.) মিরাজে গমন করেন, যাকে শবে মিরাজ বা লাইলাতুল মিরাজ তথা মিরাজ রজনী বলা হয়। এই রাতে ১২ রাকাত নফল নামাজ পড়া মুস্তাহসান; একে সলাতুল মিরাজ বলে। (খাজিনাতুল আসসার ও ইসলামের মহতী শিক্ষা)।

রমজানের প্রস্তুতি
রজব মাস ও শাবান মাস হলো রমজান মাসের প্রস্তুতি। রমজান মাসে যেহেতু ইবাদতের সময়সূচির পরিবর্তন হয়, তাই সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। রমজান মাসের শেষ দশকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ আমল ইতিকাফ রয়েছে, তাই আগে থেকেই তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। রমজান মাসকে সামনে রেখে অনেক মুনাফালোভী ব্যবসায়ী পণ্যে ভেজাল মেশান ও মূল্যবৃদ্ধি করেন। এগুলো রোধ করতে হবে। রমজান মাসে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড করা অত্যন্ত গর্হিত ও ঘৃণিত কাজ। পাপ সব সময়ই পাপ কিন্তু পবিত্রতম সময়ে বা পবিত্রতম স্থানে পাপ করা মহাপাপ বা সীমা লঙ্ঘন। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বারবার বলেছেন, ‘তোমরা সীমা লঙ্ঘন করো না।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না’। (আল-কোরআন, ৫০: ২৫,৬৮: ১২,৮৩: ১২,৯: ১০,২: ১৯০,৫: ৮৭,৬: ১১৯,৭: ৫৫,১০: ৭৪)।

সুতরাং রজব ও শাবান মাসের নেক আমল ও পাপ বর্জনের মাধ্যমে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...