প্রচ্ছদ রাজনীতি বিএনপি

খুলনা এখন আতঙ্কের নগরী

১৪ বার দেখা হয়েছে
আওয়ামী সন্ত্রাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় খুলনা এখন আতঙ্কের নগরী

বিএনপি বলছে, নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি না করে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় খুলনাকে এখন আতঙ্কের নগরীতে পরিণত করেছে। যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারে। খুলনায় যা হচ্ছে তা হলো- একনায়কতন্ত্রী শাসনব্যবস্থার প্রত্যক্ষ প্রতিফলন। আজ সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব বলেন।

তিনি বলেন, আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গণগ্রেফতারের পাশাপাশি খুলনা সিটিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তান্ডব চলছে। সেখানে বিএনপি নেতা-কর্মী ও ভোটারদের জন্য অঘোষিতভাবে চলছে কারফিউ, আর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের চলছে ফাঁকা মাঠে উৎসব। গতকাল খুলনায় বিএনপির পোলিং এজেন্টদের ট্রেইনিং দেওয়ার সময় ১০-১২ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে পুলিশ। শিল্প এলাকায় রাম দা নিয়ে বাড়ি বাড়ি হামলা চালাচ্ছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

রিজভী বলেন, গতকাল রাতে পুলিশ এক অসুস্থ কর্মীকে ধরে নিয়ে যায়, যার সারা শরীরে টিউমার। কয়েকদিন আগে সে ভারত থেকে চিকিৎসা নিয়ে এসেছে। পরে তার ছেলে-মেয়েরা কান্নাকাটি করে ২০ হাজার টাকা দিয়ে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের কোনো ভরসা নেই বলেই আমরা বারবার সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলেছিলাম। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে গ্রিক মূর্তির মতো নিশ্চল ও নিশ্চুপ থেকেছে- যা দুরভিসন্ধিমূলক।

রিজভী বলেন, ইলেকশন কমিশনের যেন পল্লীগীতির সেই শ্লোকের মতো অবস্থা- ‘বন্ধু, দেখিয়াও দেখলা না/বন্ধু, শুনিয়াও শুনলা না’। সবচেয়ে করুণ অবস্থায় আছে খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোটাররা। তারা প্রতিনিয়ত ত্রস্ত ও ভীত। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও গণমাধ্যমের কর্মীদের খুলনার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহবান জানাচ্ছি।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী পণ্যমূল্য বৃদ্ধির সমালোচনা করে বলেন, রমজানের শুরুর আগেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এখন আকাশছোঁয়া। কয়েকদিনের মধ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতারা বৃদ্ধি করেছে। সরকারি দলের সিন্ডিকেটের কারণে জিনিসপত্রের দামের এই কৃত্রিম বৃদ্ধি। পিঁয়াজ, রসুন, চিনি, কাঁচা মরিচ, বেগুন, আলু, হলুদ, আদা, টমেটো, শসাসহ রমজান মাসে মানুষের অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। খাদ্যপণ্যের দাম কেজি প্রতি ১০/১৫ টাকা থেকে শুরু করে ৪০/৫০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পিঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫/৫০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ৭০/৮০ টাকা কেজির নিচে বাজারে কোনো কাঁচা শাকসবজি পাওয়া যাচ্ছে না। ধনে পাতায় হাত দিলে বৈদ্যুতিক শক করে। চিনির মূল্য নিয়ন্ত্রণে না নিতে পারে এখন চিনির কল বন্ধ করে দিতে চাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। জিনিসপত্রের মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রমজানকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য অসৎ ব্যবসায়ীদেরই এটি কারসাজি। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা এসব ব্যাপারে নির্বাকার। কারণ মানুষের কষ্ট হলেও মুনাফা করছে ক্ষমতাসীন দলের সিন্ডিকেটের লোকেরা।

তিনি বলেন, ভোটারবিহীন সরকারের দুঃশাসনের কবলে পড়ে মানুষ এমনিতে খেয়ে না খেয়ে নিদারুণ কষ্টে জীবন যাপন করছে। সারা বছর ধরেই চালে বাজারের আগুন নিভাতে তো সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বহুগুন। এমন পরিস্থিতিতে রমজানের আগে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আমি রমজানের প্রাক্কালে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে এই দাম বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার মানুষকে বোকা বানিয়ে আকাশে সমুদ্রে ঘুরালেও মানুষ কিন্তু সারাদেশের বেহাল সড়কে ভুক্তভোগী। তথাকথিত ভাঁওতাবাজী উন্নয়নের নামে সারাদেশের সড়ক মহাসড়কে এখন বেহাল দশা বিরাজ করছে। তাদের আমলেই বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসের অযোগ্য শহরের খেতাব পেয়েছে ঢাকা। সড়ক সংস্কার ও ভয়াবহ যানজটের প্রতিবাদে আজ ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে পরিবহন ধর্মঘট চলছে। সামান্য বৃষ্টিতে ঢাকা এখন জলজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। অথচ প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রীরা ঝকঝকে উন্নয়নের বন্দনা গাইছেন অবিশ্রান্তভাবে। উন্নয়নের বদলে শুধু দুর্নীতির নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। কিন্তু জনগণ দেখছে চাপাবাজীর উন্নয়নের চিত্র, ভাঙ্গা ও খানাখন্দে ভরা রাস্তার দু’ধারে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের অধরা শূন্যগর্ভ বাগাড়ম্বর উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে।

রিজভী বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তাল ঢেউ সামলাতে না পেরে প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিলেও এখনো গেজেট প্রকাশ না করায় আবারো আন্দোলনে নামছে শিক্ষার্থীরা। যদিও শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল কোটা সংস্কার, কিন্তু বাতিল নয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ক্রুদ্ধ হয়ে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও গেজেট প্রকাশ করছে না সরকার। আমরা সেদিন বলেছিলাম- প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের প্রতি প্রতারণা ও ধাপ্পাবাজি। আমাদের সেই কথাটিই প্রমাণিত হলো। অন্যদিকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্বদ্যিালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। এই আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন বিশ্বশবিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরগণ সরকারের পেটোয়া বাহিনী হয়ে আন্দোলন ঠেকাতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের আহবান জানাচ্ছেন। আন্দোলন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যঘাত ঘটছে, পরীক্ষা পিছিয়ে যাচ্ছে। আমি বিএনপির পক্ষে আহবান জানাচ্ছি প্রতারণা না করে অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিন। বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন।

এদিকে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে আবারো তিনটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় জড়ানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন, অমিতের মতো একজন তরুণ সম্ভাবনাময় নেতাকে ঘায়েল করতেই পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এই মামলা দায়ের জুলুম নিপীড়ণের এক ভয়াবহ চিত্র। আমি এই ধরনের অসত্য মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন: