প্রচ্ছদ আইন-আদালত

ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

57
ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার
ফারিয়া মাহজাবিন

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে রাজধানীর এক নারী ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গ্রেপ্তার ফারিয়া মাহজাবিন (২৮) ধানমন্ডিতে একটি কফি শপ চালান। তাঁর স্বামীর নাম মোহাম্মদ রিয়াসাত। তিনি রাজধানীর নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন।

র‌্যাব-২-এর অপারেশন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম আজ শুক্রবার গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম ধানমণ্ডির হাজি আফসার উদ্দিন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারিয়া মাহজাবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সংবাদভিত্তিক পোর্টাল ডিএমপি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সপ্তাহব্যাপী ধরে চলা এ আন্দোলনে সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং ইন্টারনেটে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে উসকানি ও গুজব ছড়ানোর ঘটনায় ঢাকার বিভিন্ন থানায় মোট ৫১টি মামলা হয়েছে; গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯৭ জনকে। ফারিয়া মাহজাবিনকে গ্রেপ্তারের পর সংখ্যাটি গিয়ে দাঁড়াল ৯৮ জনে।

এর মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইন, দণ্ডবিধি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থী, প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদও রয়েছেন। তাঁদের সবাই এখন কারাগারে আছেন।

নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ফারিয়া মাহজাবিনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়ে র‌্যাব-২-এর অপারেশন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলাকালীন ফারিহা মাহজাবিন বেশ কিছু উসকানিমূলক ও গুজব ছড়ানোর পোস্ট দিয়েছিলেন ফেসবুকে। সেই অভিযোগে তাঁকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:  মুফতি হান্নান জবানবন্দিতে যা বলেন

‘আজ শুক্রবার সকালে ফারিয়া মাহজাবিনকে আমরা হাজারীবাগ থানায় সোপর্দ করেছি। তাঁর বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় আইসিটি অ্যাক্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

তবে ফারিহা মাহজাবিন কী ধরনের পোস্ট দিয়েছেন, নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি র‍্যাবের এই কর্মকর্তা। তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে এ ধরনের কোনো পোস্ট দেখা যায়নি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ডিলেটও হয়ে যেতে পারে।’

এ ব্যাপারে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া বলেন, ‘র‌্যাব-২-এর কর্মকর্তারা ফারিহা মাহজাবিনকে আমাদের কাছে দিয়ে গেছেন একটু আগে। আমরা তাঁকে আজ আদালতে পাঠানোর চেষ্টা করব। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।’

শেয়ার করুন :
  • 13
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...