প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

তিন বড় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অধিকাংশই ঢাকার বাইরে ঈদ উদযাপন

30
তিন বড় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অধিকাংশই ঢাকার বাইরে ঈদ উদযাপন

ঈদ মানে উৎসব, ঈদ মানেই আনন্দ। এই উৎসব-আনন্দ পরিবারের সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে গ্রামে ছোটে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। বাদ যান না রাজনীতিবিদরাও। বছরব্যাপী রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকা নেতারা ঈদের দিনও ব্যস্ত সময় পার করেন। কেউ কেউ নিজের নির্বাচনী এলাকার জনগণের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ছুটে যান গ্রামের বাড়িতে।

জানা গেছে, দেশের প্রধান তিন বড় দল আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের অধিকাংশই এবার ঢাকার বাইরে ঈদ উদযাপন করবেন। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের সিনিয়র নেতাদের অনেকেই নিজনিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উদযাপন করবেন।

বলা হচ্ছে, এবার ঈদে মূলত ভোটের রাজনীতিই জমজমাট হয়ে উঠবে। এবারের ঈদ হবে একটু ভিন্ন আমেজের। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঢেউ লাগায় এবার ঈদ অনেকটা রূপ নিয়েছে নির্বাচনী উৎসবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, মাঠের বিরোধী দল বিএনপিসহ সাবেক এমপি-মন্ত্রীরা ছুটছেন নিজ নিজ এলাকায়। শুধু এমপি-মন্ত্রীরাই নন, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশিরভাগই এবার ঈদ উদযাপন করবেন গ্রামে।

অনেকে ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন। তাদের পদচারণায় বেশ জমে উঠেছে ঈদ রাজনীতি। চলবে ঈদের পর আরও দু-তিন দিন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী ও সিনিয়র নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

সক্রিয়দের পাশাপাশি দীর্ঘদিন যারা এলাকাবিমুখ ছিলেন, সেই বসন্তের কোকিলরাও নির্বাচন সামনে রেখে নিজ নিজ এলাকায় পা রাখছেন। অন্যান্য বারের চেয়ে এবার কয়েকগুণ বেশি নগদ টাকা নিয়ে এলাকায় যাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ছবি সংবলিত বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে এমনকি মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এদিকে অনেকদিন পর কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী-এমপিদের এলাকায় আগমনকে কেন্দ্র করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন দলের নেতাকর্মীরাও।

আওয়ামী লীগ নেতাদের ঈদ:

আওয়ামী লীগ সরকারের বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় নেতা ঈদুল আজহা উদযাপন করতে নিজ নিজ এলাকায় যাচ্ছেন। নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করছেন দলের এমপিরাও। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানী ঢাকায় ঈদ করবেন। দলের অধিকাংশ নেতা ঈদ করবেন নিজ নিজ এলাকায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদুল আজহা পালন করবেন গণভবনে তার সরকারি বাসভবনে। এদিন সকালে তিনি রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, পেশাজীবীসহ সর্বস্তকরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ভোলায় তার গ্রামের বাড়িতে ঈদ করবেন। প্রতিবারের মতো জনগণের সঙ্গে মিলেমিশে ঈদ করতে গত রোববার তিনি ভোলা গেছেন।

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ইতোমধ্যে এলাকা ঘুরে এসেছেন। তার নির্বাচনী এলাকার মানুষ এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রায় প্রতিটি জনপদে গিয়েছেন। এলাকার এতিমখানায় কোরবানির জন্য পশু কিনে দিয়েছেন।

প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ফরিদপুরের তার নির্বাচনী এলাকা ভাঙ্গার মানুষদের সঙ্গে কাটান। আসছে ঈদে তিনি এলাকাতেই থাকবেন বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নসিম প্রতি বছর কোরবানির ঈদ করেন তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে। এরইমধ্যে তিনি এলাকায় চলে গেছেন। গ্রামেই কোরবানি দেবেন। ঈদের দিন নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক এবার ঈদ নিজ এলাকাতে ঈদে থাকবেন। গত বুধবার তিনি টাঙ্গাইলের নিজ এলাকা গেছেন। যাবেন প্রতিটি ইউনিয়নে। ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করছেন।

আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ পবিত্র হজ পালনে সস্ত্রীক সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ঈদে তিনি সেখানেই থাকবেন। তবে যাওয়ার আগে টানা এলাকায় কাটিয়ে গেছেন।

আরও পড়ুন:  জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে বি চৌধুরীর বিদায় যে ভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ঈদ করবেন তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়। ঈদের আনন্দ নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে পরদিন চট্টগ্রাম শহরে আসবেন।

বিএনপি নেতাদের ঈদ:

বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার গরিব ও দুস্থদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন। নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে ঈদ পালন করেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদ করবেন। তিনি মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন এবং ঢাকায় ফিরবেন শুক্রবার।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নেয়াখালীতে, ড. খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন বলে জানা গেছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু নিজ এলাকা নোয়াখালীতে ঈদ উদযাপন করবেন।

বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ কুমিল্লায়, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশালে, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন নরসিংদীতে, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী লক্ষীপুরে ঈদ করবেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, ঈদের দিন বেলা সাড়ে ১১টায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সিনিয়র নেতারা বিএনপির প্রতষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এছাড়া ঈদের দিন বিকালে সিনিয়র নেতারা কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, ২০ দলীয় জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ ঢাকায়, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম চট্টগ্রামে, ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ঢাকায়, মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া নরসিংদী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইলে ঈদ উদযাপন করবেন বলে জানা গেছে।

জাতীয় পার্টির নেতাদের ঈদ:

ঈদ উদযাপন করার জন্য দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ইতোমধ্যে ছয় দিনের জন্য রংপুরে গেছেন। সেখানেই ঈদ উদযাপন করবেন। জনগণের কাছে গেছেন প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতারাও। পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ঈদ উদযাপন করবেন লালমনিরহাটে।

মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঈদ পালন করবেন। আবদুল করিম জামে মসজিদ ঈদগাহে নামাজ পড়বেন।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি ঈদের খুশি দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। তিনি নিয়মিতই এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের নিচ্ছেন। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা ঈদ পালন করবেন রংপুরে। ঈদের নামাজ পড়বেন রংপুরের আলমদীঘির চর ঈদগাহ মাঠে।

জাতীয় পার্টির অন্য প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে কাজী ফিরোজ রশীদ পুরান ঢাকার ঈদ পালন করবেন। ধূপখোলা মাঠ ঈদগাহে ঈদের জামাতে অংশ নেবেন।

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ঈদ করবেন চট্টগ্রামে। সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, এসএম ফয়সল চিশতী, আবদুস সবুর আসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন ঢাকায় ঈদ করবেন বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...