প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

আওয়ামী লীগকে চাপে রাখার জন্য ভারত তৃতীয় শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে

0

ঈদের পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার বেশ কর্মচঞ্চল ছিলেন জাতীয় ঐক্য নিয়ে কাজ করা গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন এবং বিকল্প ধারা বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট বি. চৌধুরী। পৃথক পৃথক দুটি বৈঠকে ভারতীয় দূতাবাসের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তাঁরা। ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথমে বৈঠক করেছেন বি. চৌধুরী। গতকাল সন্ধ্যায় বারিধারায় বি. চৌধুরীর বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আর গতকাল রাতে গুলশানের একটি বাড়িতে দুই দূতাবাস কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. কামাল। দুজনই তাঁদের ঐক্য প্রক্রিয়া ও তৃতীয় শক্তির ব্যাপারে ভারতীয় দূতাবাস কর্মকর্তাদের অবহিত করেন এবং এ ব্যাপারে ভারতের সহায়তা চান। তবে গতকাল ভারতীয় দূতাবাস কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি। 

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, ভারতের প্রথম কথা হচ্ছে, বিএনপির প্রতি তাদের কোনো সমর্থন কিংবা সহানুভূতি নেই। বিএনপি নির্বাচনে আসুক না আসুক সেটা নিয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যাথাও নেই। কিন্তু শক্তিশালী একটা আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকুক, এটাও ভারত চায় না। তারা চায় বাংলাদেশে দুর্বল সরকার ক্ষমতায় থাকুক। এ কারণেই তৃতীয় শক্তির উত্থানকে পুরোপুরি না করছে না ভারত। বরং তৃতীয় শক্তির ব্যাপারে দেশটির মনোভাব অনেকটাই নমনীয়। কারণ ভারত মনে করে, আওয়ামী লীগ পরপর দুই মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে। এই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়েই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো হয়েছে, অনেকগুলো অমীমাংসীত বিষয় নিয়ে সমস্যার সমাধান হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে সীমান্ত অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে, যা ভারতের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু তারপরও ভারত এ অঞ্চলে দুর্বল সরকার দেখতে চায়, যে সরকার ভারতের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। এ জন্যই তারা তৃতীয় শক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে।

অপর একটি সূত্র বলছে, তৃতীয় শক্তির যদি উত্থান হয়, তবে বিএনপি যে বেশি মাত্রায় জঙ্গি এবং জামাত ঘেঁষা, সেখান থেকে তাদের সরিয়ে আনা যাবে বা বিরোধ সৃষ্টি হবে। বিএনপির মধ্যে যদি একটা ভাঙ্গন ধরিয়ে নতুন একটি ধর্ম নিরপেক্ষ ধারা তৈরি করা, যারা মুক্তিযুদ্ধকে বিশ্বাস করবে, বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বাস করবে এবং ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে। এমন একটি শক্তির উত্থান হলে বিএনপি এমনিতেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। একই সঙ্গে বিএনপির মধ্যে যারা সুস্থ চিন্তার লোক আছে তারা জামাত এবং জঙ্গিবাদের ধারা থেকে বের হয়ে নতুন ধারায় চলে আসবে। এই ধারণা থেকেই ভারত একটি তৃতীয় শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:  কুমিল্লা ১ ও ২ আসনে মনোনয়ন

একটি সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগকে চাপে রাখার জন্য ভারত তৃতীয় শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। অপর একটি সূত্র বলছে, বিএনপিকে ক্রমাগত ক্ষীণকায়, খর্বাকৃতি কিংবা নিঃশেষ করে ফেলতেই জন্য তৃতীয় শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। তৃতীয় শক্তি যখন পরিণত হবে তখন নিঃসন্দেহেই বিএনপির একটি বড় অংশ সেখানে যোগ দেবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত খুব সুস্পষ্টভাবেই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও জামাতবিরোধী অবস্থান দেখতে চায়। একারণে বিএনপির সঙ্গে এর আগে ভারতের যতগুলো মিটিং হয়েছে সবগুলোতেই তারা বারবারই বলেছে বিএনপি যেন জামাত থেকে বেরিয়ে আসে। কিন্তু তারা যখন জামাত ত্যাগ করছে না, তখন তৃতীয় শক্তিকে সমর্থন দিচ্ছে তারা।

এর আগেও, ওয়ান ইলেভেন আনার পক্ষে ভারতের স্পষ্ট ভূমিকা ছিল বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এ লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে তারা। তখনো বাংলাদেশে একটি তৃতীয় শক্তির আকাঙ্ক্ষা ভারতের মধ্যে ছিল। তারা মনে করে, বাংলাদেশের রাজনীতির একটি পক্ষ আওয়ামী লীগ উদারপন্থী, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক এবং অপর পক্ষ দক্ষিণপন্থার বিএনপির বাইরে একটি মধ্যপন্থার বিকাশ হওয়া উচিৎ। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই ভারত তৃতীয় শক্তিকে সমর্থন করছে কিনা সেটা বোঝার জন্যও আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...