প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

ভাই ও বাবার ধর্ষণ , কিশোরী অন্তঃস্বত্তা হয়ে গর্ভপাত করল

345
ভাই ও বাবার ধর্ষণ , কিশোরী অন্তঃস্বত্তা হয়ে গর্ভপাত করল

পাবনার চাটমোহরে নজির বিহীন এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়ে ভাই-বোন ও বাবা-মেয়ের পবিত্র সম্পর্ক কে কুলসিত ও কলংকিত করেছে দুই লম্পট। প্রথমে ভাইয়ের কাছে লালশার শিকার হবার পরে কিশোরী ৫ মাসের অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়লে পরিবারের সহযোগীতায় গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য হয় সে।

লোক লজ্জা আর ভয়ে ঐ কিশোরী কাউকে কিছু না বললেও এর কিছুদিন পরে ক্রমাগত আপন বাবার লালশার শিকার হবার পরে সে বাধ্য হয়ে মুখ খুলে সব কিছু বলে ফেলে পারা প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজনদের কাছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বালুদিয়ার খন্দকার পাড়া গ্রামে। অভিযুক্ত লম্পট পিতা আনোয়ার হোসেন (আনু) ও তার বড় পক্ষের ছেলে রিপন হোসেন (২০)। রিপন বর্তমানে ফৈলজানা ইউনিয়নের পবাখালী গ্রামে বিয়ে করে সেখানেই থাকছেন। লালশার শিকার ১৪ বছর বয়সী কিশোরী স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে।

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় জনসাধারনের মাঝে নিন্দার ঝড় ওঠেছে এবং অভিযুক্ত বাবা ছেলের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবী করছেন তারা।

লালশার শিকার কিশোরী বলেন, আমার আপন মা কয়েক বছর আগে মারা গেছে। আমার মা ছিল বাবার ২য় পক্ষ। গত ৭ মাস আগে আমাদের গ্রামের জালসায় আমার সৎ মা (বড় পক্ষ) ও তার ছেলে রিপন আমাদের বাড়িতে আসে। রাতে ঘুমানোর জন্য বাবা ও মা আমার ঘরের মেঝেতে শুয়ে পড়ে এবং আমার সৎ ভাইকে আমার বিছানায় ঘুমানোর জন্য বলে তারা। রাতে আমার সেই সৎ ভাই আমাকে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করে।

সকালে বিষয়টি আমার সৎ মাকে জানালে সে বলে ভাইয়েরা এমন একটু আধটু করেই থাকে। এটা নিয়ে কাউকে কিছু বলার দরকার নেই। বললে তোকে প্রাণে মেরে ফেলবো বলে উনি জানায়। এর পর থেকে মাঝে মধ্যেই আমার সেই ভাই আমাদের বাড়িতে এসে আমার সাথে জোড় করে শারীরীক সম্পর্ক করেছে। এভাবে আমি অন্তঃস্বত্তা হয়ে যাই। আমাকে আমার সেই সৎ মা ও বাবা আটঘরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বাচ্চা নষ্ট করানোর চেষ্টা করে। সেখানে সে কাজ করা সম্ভব না হলে ইতিমধ্যে আমি পাঁচ মাসের অন্তঃস্বত্তা হয়ে যাই। লোক লজ্জা আর ভয়ে কাইকে কিছুই বলি নাই। আমার শারীরীক অবস্থার পরিবর্তন দেখে পারা প্রতিবেশী ও আমার পাশের নানার বাড়ির লোকজন সন্দেহ করলে বিষয়টি আমি তাদের খুলে বলি। পরে আমার মামার সহায়তায় ঢাকাতে গিয়ে বাচ্চা নষ্ট করে আসি।

আরও পড়ুন:  প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অনৈতিক কাজে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি!

কিশোরী এবার কান্না জড়িত কণ্ঠে আরো বলেন, ঢাকা থেকে বাড়ি আসার কিছুদিন পরেই আমার বাবার কু-দৃষ্টি পড়ে আমার উপড়। বাড়িতে তেমন কেউ না থাকার সুযোগে সেও আমাকে একাধিক বার জোড় করে ভয় দেখিয়ে শারীরীক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেছে। আমি আমার লম্পট বাবার শাস্তি চাই।

অভিযোগের বিষয়ে কিশোরীর পিতা আনোয়ার হোসেন আনু’র সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যে। মুলত আমার মেয়ের মামারা আমার ভিটা জমিটি দখল নেয়ার জন্য মেয়েকে ভুল বুঝিয়ে এসব করাচ্ছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

ঘটনার বিষয়ে মূলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাশেদুল ইসলাম বকুল বলেন, এমন একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা জানার পরেই আমি ঐ গ্রামে গিয়ে মেয়েটির সাথে কথা বলি। সে যা বলেছে এটা প্রকাশ করাও পাপ। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এই নরপশু বাবা ও ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাই। এরা ধর্মীয় অনুশাসন ও সামাজিকতার প্রেক্ষাপটে চরম গুরুতর অপরাধে অপরাধী। যারা এই বিষয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্ট করবে কিংবা মিমাংশার কথা বলবে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা আমি করবো।

এ বিষয়ে সহকারি পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) তাপস কুমার বলেন, ভিকটিমের পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে থানায় এসে অভিযোগ দেয়ার জন্য। ইতিমধ্যে আসামীদের ধরতে পুলিশী অভিযান অব্যহত আছে।

শেয়ার করুন :
  • 8
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...