প্রচ্ছদ অপরাধ

টাকার বিনিময়ে সাইবার সেক্স

151
ছবি : প্রতীকী

সাইবার সেক্সের নামে বড় ধরনের প্রতারণা ও অপরাধের শিকার হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণরা। দেশের তরুণদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ভিডিও আলাপনের জন্য দেশে ও বিদেশে থাকা সাধারণ বাংলাদেশিদের কাছে ইমো, ভাইবার, পাল-টক এখন বেশ জনপ্রিয়। এসব জনপ্রিয় ভিডিও চ্যাটের প্লাটফর্মগুলোতে থাকা অসতর্ক কিন্তু অতিরিক্ত আগ্রহী বাংলাদেশি পুরুষদের টার্গেট করে সাইবার সেক্সের নামে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রতারক চক্রগুলো প্রথমে ফেসবুকে থাকা বিভিন্ন গ্রুপ-পেজে নানা রকম পোস্টের কমেন্টের ঘরে মেয়েদের নামে খোলা ফেসবুক আইডি থেকে মোবাইল নম্বর লিখে একধরনের আহ্বান জানানো হয়। আহ্বানগুলো অনেকটা এরকম, “আমার সাথে ইমো সেক্স করতে আগ্রহীরা চাইলে এই নম্বরে কল করতে পারেন।”

এমনকি ভার্চুয়াল যৌন উত্তেজনা ভিডিও নাকি অডিওতে পেতে চান এসব উল্লেখ করে আলাদা দামও নির্ধারণ করে দেয়া হয়। টাকা দিতে হয় মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে।

মাত্র ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার অফারে অনেক প্রবাসীই এসব ফাঁদে পা দিয়ে মেতে উঠছেন ভিডিও চ্যাটে, কৌশলে অপর প্রান্তে থাকা নারী বা নারী বেশধারী ব্যক্তি সেই কথোপকথনের দৃশ্য ধারণ করে নতুন ফাঁদ পাতছে। একসময় বলা হয় আরও টাকা না দিলে ওইসব ভিডিও অনলাইনে অর্থাৎ ফেসবুক-ইউটিউবে ছেড়ে দেয়া হবে। করা হবে ভাইরাল।

আরও পড়ুন:  ‘তোর মতো কত সেনাবাহিনী ও পুলিশের লোক ক্রসফায়ার দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিছি’

এতে মানসম্মানের ভয়ে অনেকেই নীরবে গুণে দেন কাড়ি কাড়ি টাকা।

ভার্চুয়াল এই ফাঁদ এবং ফাঁদ মুক্তির উপায় নিয়ে কাজ করেন ই-জেনারেশন লিমিটেড-এর সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাইবার সিকিউরিটি প্রশিক্ষক তামজিদ রহমান।

তিনি ফেসবুক হয়ে ইমো’র ফাঁদে জড়ানোর বিষয়ে বলেন- ‘ইমো-হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলের ফাঁদে পড়া কয়েকটি কেস দেখেছি। দেখা গেছে প্রলুব্ধ হয়ে ভিডিও কল দেয়া ব্যক্তিদের সেসব কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করে সেগুলো ইউটিউবসহ অন্যান্য সাইটে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ধাপে ধাপে টাকা নিচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। এরকম ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়ে উপায় না পেয়ে কয়েকজন আমাদের দ্বারস্থ হন।’

শেয়ার করুন :
  • 1
    Share

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...