প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগ

নৌকার বিপক্ষে কাজ করলে কোনোভাবেই তাদের মেনে নেওয়া হবে না

134
নৌকার বিপক্ষে কাজ করলে কোনোভাবেই তাদের মেনে নেওয়া হবে না
আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছবি : সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেক কষ্ট করে আজকে আওয়ামী লীগকে, নৌকা মার্কাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছি। নৌকার বিপক্ষে যারা কাজ করবে, তাদের কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দলের নেতা-কর্মী যারা আছেন, তাঁদের যদি স্থানীয় সংসদ সদস্য বা দলের নেতাদের প্রতি কোনো বক্তব্য থাকে, সেটা লিখিত আকারে দলকে জানাতে পারেন। কিন্তু সেটা না করে এলাকায় দলের সংসদ সদস্যদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা, তাঁদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা, এটি দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী। সবাইকে দলের নিয়ম মেনে চলতে হবে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না।

এ সময় সদ্য অনুষ্ঠিত সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলও বৈঠকে বিশ্লেষণ করা হয়।

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরুদ্দিন আহমেদ কামরানের পরাজয়ের কারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় বৈঠকে। এ সময় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিলেট সিটি আওয়ামী লীগের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য করণীয় নিয়ে নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সূচনা বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন।

এছারা আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে শেষ সময়ে এসে অযাচিত বক্তব্য রেখে বিতর্কে না জড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মাইক পেলেই বকবক করবেন না।

আরও পড়ুন:  আমি যদি ধমক দেই তাহলে নারায়ণগঞ্জে কোনো বিএনপি থাকবে না

আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের এই শেষ সময়ে নানা রকমের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র চলছে। কাজেই এই সময়ে এমন কোনো মন্তব্য করা যাবে না, যেটা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।’

এ সময় প্রধামমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করেই বলেন, ‘দলের অনেক সিনিয়র মন্ত্রী এমন সব কথা বলেন, যার কারণে আমাদেরকে অনেক বিব্রতকর অবস্থায় মধ্যে পড়তে হয়। এটা আর করা যাবে না। মাইক পেলেই কথা বলতে হবে, মিডিয়াতে থাকতেই হবে এমন কোনো বিষয়ের প্রয়োজন নেই।’

সামনের দিনগুলোতে সবাইকে আরও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলের সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং দলের সিনিয়র নেতা ছাড়া কাউকে তাদের নিজস্ব বিষয়ের বাইরে কথা না বলার জন্যেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ও নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দেওয়া বক্তব্য হঠাৎ আলোড়ন তুলেছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে।

ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেই এ বিষয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

শেয়ার করুন :
  • 764
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...