প্রচ্ছদ বাংলাদেশ উপজেলা

ডিবির পরিচয়ে তুলে নিয়ে নৃশংসভাবে তিন বন্ধুকে হত্যা

44
ডিবির পরিচয়ে তুলে নিয়ে নৃশংসভাবে তিন বন্ধুকে হত্যা
ছবি : সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল থেকে আজ সকালে তিন যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে তাদের লাশ সনাক্ত করেন। স্বজনদের কান্নায় সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।

নিহতরা হলেন- রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকার মোহাম্মদ শহীদুল্লার ছেলে সোহাগ ভুইয়া (৩২), মুগদার মাণ্ডা এলাকার আবদুল মান্নানের ছেলে শিমুল আজাদ (৩০) এবং একই এলাকার আবদুল ওয়াহাব মিয়ার ছেলে নুর হোসেন বাবু (৩০)। তিনজনই রাজধানীতে ছোটখাট ব্যবসা করতেন। তাঁদের পরিবারে স্ত্রী, সন্তান ছিল। তাঁরা পূর্বপরিচিত। এক থেকে দুদিন তাঁরা পরিবারের বাইরে ছিলেন।

দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নানা ঘটনার মধ্যে এই তিন যুবকের লাশ পাওয়া নিয়ে নিহতদের স্বজনদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজনের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, দুজন একত্রে বাসে করে কোথাও থেকে ঢাকার দিকে আসছিলেন। তাদের সেখান থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়। তারপর থেকেই তাঁদের মোবাইল ফোনে আর যোগাযোগ করতে পারছিলেন না পরিবারের সদস্যরা।

যদিও রূপগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের সদস্যদের সঙ্গে কারো কোনো ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটেনি। অন্য কোনো বাহিনীর সঙ্গে এখানে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটলেও তাঁরা সেটি জানতেন। সে ধরনের কোনো ঘটনা তাদের জানা নেই। তবে একজনের পকেটে ইয়াবা পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

‘বলছে বাসে উঠছি, এরপর থাইকা খোঁজ পাই নাই’
সোহাগ ভুইয়া ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকায় ডিসের ব্যবসা করতেন। তিনি গত বুধবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে পায়নি। আজ শুক্রবার সকালে লাশের খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এসে তাঁকে সনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা।

সোহাগ ভুইয়ার ভাই মোহাম্মদ শাওন (২৫) বলেন, ‘আমার ভাই ব্যবসা করত আরকি। ডিশের ব্যবসা করত। বুধবার থেকে আমরা খুঁইজা পাইতেছি না। খুঁইজা না পাওয়ার পরে আমরা, এলাকার সব জায়গায় খোঁজ-খবর নিছি, থানায় খোঁজ নিছি। তাঁরা (পুলিশ) বলতে পারে না। ডিবি অফিসেও গেছি, খবর পাই না। পরে শুনছি, পুলিশে নিয়া গেছে। কিন্তু তাঁর হদিস নাই। ডিবি নিয়া গেছে। পাই না, পাই না। আজকে আমরা নেটে, ফেসবুকে দেখলাম, ছবি। এরপরে আমরা আসলাম এই থানায়।’

এক প্রশ্নের জবাবে শাওন বলেন, ‘জিডি করা হয় নাই। কারণ আগে তো দুই, তিন দিন আমাদের খুঁজতে হবে। আমরা তো আগে খুঁইজা নিব। এরপরে শেনা আমরা ই করব।’

সোহাগ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না উল্লেখ করে তাঁর ভাই শাওন দাবি করেন, ‘আর শত্রুতাও ছিল না। আমার ভাই করত ডিশের ব্যবসা। ওই ব্যবসার ইয়ে হইতে পারে। ডিশের ব্যবসা যেহেতু করে অবশ্যই, কারণ আমাদের খারাপের লগেও ঘুরতে হয়। ঘুরতে কি, কথা বলতে হয়, লাইনের ব্যাপারে। ভালোর লগেও কথা কইতে হয়। এর জন্য যে এ রকম হবে। এটা আমরা আশা করি নাই।’ সোহাগের আরেক ভাই মোহাম্মদ শরিফ বলেন, ‘কেরে বা কারা ধরে নিছে জানি না। পরশু দিন ধরে নিছে। আজকে লাশ পাইছি।’

আরও পড়ুন:  ব্রাশফায়ারে নিহত ইউপিডিএফ প্রধান তপনজ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজন

রূপগঞ্জ থানা কাম্পাউন্ডে সোহাগের স্ত্রী ফারজানা আক্তার বলেন, ‘আমি কিছু জানি না যে, শত্রুতা ছিল বা কোনো কিছু। ও (সোহাগ) আমাকে বলছে, যে আমি কুষ্টিয়া যাইতেছি বেড়াইতে। আত্মীয়ের বাসায়। উনার নম্বর নিয়া দিছি যে ওইখানে দাঁড়াইয়া। ব্যাস, অতটুকুই জানি। আসার সময় বলতেছে, আমি বাসে উঠছি। এতটুকুই জানি। এরপর থাইকা আমি কোনো খোঁজ পাই নাই ওর। ওর কোনো খোঁজ পাই নাই।’

কান্নার একপর্যায়ে ফারজানা আক্তার বলেন, ‘যাচাই-বাছাই তো মানুষ করে। বা কোনো কিছু করে। আমি জানি এতটুকুই, ও বেড়াইতে গেছে। আমারে বলছে, আমি বেড়াইতে যাইতেছি। আমারে খালি বলছে, আমি বাসে উঠতেছি, তুমি গেটে তালা মাইরা রাখ। আমি সকালে আইসা তোমারে ফোন দিমু। এরপর থাইকা আমি কোনো খোঁজ পাই নাই। কালকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিছি। কোনো খোঁজ পাই নাই আমি।’ নিহত সোহাগের শ্যালক রবিন জানান, নিহতরা দুইজন বন্ধু ও আরেকজন সিনিয়ার।

যে গাড়িতে করে লাশ তিনটি হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে তার পাশে বসেই কাঁদছিলেন নিহত শিমুল আজাদের স্ত্রী আয়েশা আক্তার আন্নি। তাঁর ছোট একটি মেয়ে আছে। স্বজনরাও কাঁদতে কাঁদতে তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। এরই এক ফাঁকে আয়েশা বলেন, ‘দুই দিন ধইরা… কালকেত্তে (গতকাল থেকে) খুঁজতাছি, ফোন দিতাছি। খুঁইজা পাই না দেইখা, গাড়ি দিয়া কই জানি বেড়াইতে গেছে। আইতাছে। এরপর (মোবাইল) নম্বর বন্ধ।’

‘যেই গাড়ি দিয়া আইছে, ওই গাড়ির সুপারভাইজারে কইছে, দুইডা গাড়ি সামনে আইনা দাঁড়াইছে। এরপরে গাড়ি বন্ধ কইরা অগোরে নামাইয়া লইয়া গেছে। অগোরে নামাইয়া নিয়া গেছে। আপনেরা যে যাত্রী উডাইয়া দিছেন, হেই যাত্রী নামাইয়া নিয়া গেছে গা। হেই বেডায় আর বেশি কিছু কইতে পারে না। দুইডা সাদা গাড়ি আর লাল গাড়ি, মাইক্রো আইয়া

শেয়ার করুন :
  • 19
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...