প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

ঢাকা ১ ও ২ আসনে মনোনয়ন

98
ঢাকা ১ ও ২ আসনে মনোনয়ন
ছবি : সংগৃহীত

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের সর্বত্র বইছে ভোটের হাওয়া। চলছে জল্পনা-কল্পনা। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেড়ে গেছে দৌড়ঝাঁপ। সব আলোচনা এখন ভোট নিয়ে। ক্ষমতাসীন অাওয়ামী লীগ তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের মিশনে ভোটের মাঠে নেমেছে আগেই।

দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির নির্বাচন নিয়ে দোটানা এখনও কাটেনি। তবে বসে নেই দশম জাতীয় সংসদ বর্জন করা দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ভোটের মাঠে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড়ে ধানের শীষের প্রার্থীদের আনাগোনাও চোখে পড়ছে। দেশের অন্যসব জায়গার মতোই রাজধানীতেও ভোটের আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে।

জাতীয় সব নির্বাচনেই রাজধানীর থাকে আলাদা গুরুত্ব। নির্বাচনী হাওয়া বা আন্দোলনের গতি কোন দিকে তা দেখা ও জানার জন্য সারা দেশ তাকিয়ে থাকে ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনের দিকে। ঢাকা জেলার আসনগুলোর মধ্যে দুই সিটি কর্পোরেশনে পড়েছে ১৫টি আসন।

সব আসনেই আওয়ামী লীগ-বিএনপি বা জোট-মহাজোটের সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি। এসব আসনে প্রধান দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই শতাধিক প্রার্থী। বিপুল সংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় চাপে পড়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বেশ কিছু আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে দল দুটিকে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও বেশ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। একেকটি আসনে ক্ষমতাসীন ও সরকারবিরোধী- দুই শিবির থেকেই গড়ে চার-পাঁচজন করে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। শেষপর্যন্ত কে দলীয় মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার দোলাচলে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

এই পরিস্থিতিতে প্রধান দুই দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এবং মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে অসংখ্য মনোনয়নপ্রত্যাশীর ভিড় থেকে বাছাই করে ঢাকা ১ ও ২ আসনের সম্ভাব্য প্রাথী তালিকায় চোখ রাখি।

ঢাকা- ১ (দোহার ও নবাবগঞ্জ)

এ আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির নেতা অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানকে হারিয়ে তিনি নির্বাচিত হন। বর্তমান এমপি সালমা ইসলাম এবারও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাওয়াটা নিশ্চিত। নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটি এবার নিজেদের কব্জায় আনতে চায় ক্ষমতাসীনরা। আর একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া গত নির্বাচন বয়কট করা দলটি।

ঢাকা-১ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা সবাই হেভিওয়েট। একক প্রার্থী থাকায় স্বস্তিতে রয়েছে জাতীয় পার্টির। গতবার অাওয়ামী লীগের হাতছাড়া হওয়া আসনটি পুনরুদ্ধারে এবার প্রার্থী হতে চান শিল্পপতি সালমান এফ রহমান। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। গত নির্বাচনে হেরে গেলেও দলের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন বলে আাত্মবিশ্বাসী।

আরও পড়ুন:  সমঝোতা না হলে যা হতে পারে

তারা দুজনই নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আরো রয়েছেন ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট নূরে আলম উজ্জল ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ। আসনটিতে বিএনপির দুইজন সম্ভাব্য প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। তারা হলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও চারবারের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের দুইবারের চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক। এছাড়াও একসময় বিএনপির টিকিটে এমপি হওয়া ব্যরিস্টার নাজমুল হুদাও নিজের গড়া নতুন দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ-কামরাঙ্গীরচর ও সাভারের অংশবিশেষ)

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন, সাভার উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন কামরাঙ্গীরচরের তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা-২ আসন। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। গতবার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া মন্ত্রী এবারও এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে দলীয় মনোনয়নে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের দুইবারের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় এই নেতাকে ঢাকা-২ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান এলাকার দলমত নির্বিশেষ সাধারণ মানুষেরা ভোটের মাঠে নৌকা প্রতীকের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিাকায় আরো আছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম রাজিব এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক মোঃ মনির খান। অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির একমাত্র সম্ভাব্য প্রার্থী ডাকসুর সাবেক ভিপি ও দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান। এর আগে অবিভক্ত এ আসনে তিনি তিনবার বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি যদি আইনি জটিলতায় প্রার্থী হতে না পারেন, তবে আমানের স্থলাভিষিক্ত হবেন তার ছেলে ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি। ভোটের মাঠে জনসংযোগে তাই আমানউল্লাহ আমানের সঙ্গে তার ছেলেকে দেখা যাচ্ছে। এর বাইরে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন দলের ঢাকা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম পল ও কামরাঙ্গীরচর থানা সভাপতি মনির হোসেন চেয়ারম্যান। এছাড়াও এ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা হাফেজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম।

শেয়ার করুন :
  • 54
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...