প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

জাতীয় ঐক্য সমাবেশে নেতারা যা ঘোষণা করল ( ভিডিও)

172
জাতীয় ঐক্যে সমাবেশে নেতারা যা ঘোষণা করল
ছবি : সংগৃহীত

গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার চেয়ারম্যান ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, জাতীয় ঐক্যের সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়ার জন্য তিনি সমাবেশে এসেছেন।

জাতীয় ঐক্য ঘোষণার লক্ষ্যে আজ শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে শুরু হয়েছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ।

ড. কামাল বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের সব জনগণের মাঝে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। দেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। মানুষ আজ সুশাসন দেখতে চায়। কার্যকর গণতন্ত্র চায়।’

দেশে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি হচ্ছে অভিযোগ করে ড. কামাল বলেন, ‘এই দুর্নীতি বন্ধ হলে দেশের জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। বেকার সমস্যা সমাধান হবে।’

জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে এই প্রবীণ রাজনীতিক ও আইনজ্ঞ বলেন, ‘জনগণ সব ক্ষমতার মালিক। জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে, জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত হবে। দেশের মানুষ আজ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভোট প্রাদানের সু্যোগের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। এ জন্য জাতীয় ঐক্যের সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়ার জন্য এখানে এসেছি।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ছবি: পূর্বপশ্চিম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রকামী সব দলকে ‘ন্যূনতম দাবি’ আদায়ে মাঠে নেমে আসতে হবে। আমাদের প্রধান দাবি ‘এক’। আসুন রাজপথে নেমে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করি।

তিনি বলেন, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত (বিএনপি প্রধান) খালেদা জিয়া কারাগার থেকে খবর পাঠিয়েছেন, যে কোনো মূল্যে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, গত ১৮ দিনে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে ৩ হাজার ৭৭৬টি মামলা দেওয়া হয়েছে। মামলার আসামি করা হয়েছে ৬৯ হাজার ব্যক্তিকে। প্রতিদিন রাতে বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এই সরকারকে সরিয়ে দিতে না পারলে দেশের স্বাধীনতা থাকবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই ঐক্যের প্রধান দাবি সরকারের পতন, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন গঠন করতে হবে। ইভিএম দিয়ে নির্বাচন করা যাবে না।

মাহমুদুর রহমান মান্না
মাহমুদুর রহমান মান্না

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করার পূর্ব শর্ত হচ্ছে খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি। তা না দিলে দুর্বার অান্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। যে সরকার গঠন হবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে।

ছবি: পূর্বপশ্চিম

শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলেও হুশিয়ারি দেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ চেয়ে নতুন কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।এই আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, এই লীগ সরকারি লীগ, এই লীগ লুটেরা লীগ। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। এই দেশে আমরা জনগণের শাসন কায়েম করতে চাই। এর জন্য জনগণের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

ছবি: পূর্বপশ্চিম

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, দেশ আজ গুম, খুন, অপহরণ ও লাশের বাজারে পরিণত হয়েছে। তাই আর বসে থাকলে হবে না, আমাদের মাঠে যেতে হবে। আবদুর রব বলেন, ব্যাংকে টাকা নেই, কয়লাতে কয়লা নেই। সব লুট হয়ে যাচ্ছে। কবে যে মানচিত্র লুট হয়ে যাবে? দেশটা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, জাহান্নামের চেয়ে খারাপের দিকে। তিনি বলেন, আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছেন। এখন নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নির্দলীয় সরকার ছাড়া দেশে নির্বাচন হবে না। জেএসডির সভাপতি বলেন, কাউকে জেলে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। সকল রাজনৈতিক নেতাদেরকে মুক্তি দিতে হবে।

আরও পড়ুন:  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের পাঁচ ফ্যাক্টর
ছবি: পূর্বপশ্চিম

কোটা ব্যবস্থার সমালোচনা করে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, ‘নির্বোধ ব্যক্তিরা কেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবে? দায়িত্বে থাকতে হবে মেধাবীদের, বুদ্ধিমানদের। রাষ্ট্র পরিচালনায়র দায়িত্ব (প্রশাসনে) মেধাবীদেরই গুরুত্ব দিতে হবে।’

সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজকের মেধাবী তরুণ কালকের ভবিষ্যত। তিনি কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশে বলেন, তাদের ওপর ছুরি দিয়ে আঘাত করবেন, চাপাতি দিয়ে আঘাত করবেন। গুন্ডা লেলিয়ে দেবেন। আপনি করেন নাই, আপনার লোকজন করেছে। এটা লজ্জার বিষয়।’

বি. চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবাদী জাতি, বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে, বাংলাদেশ পাকিস্তানী স্বৈরাচার বরদাস্ত করে নাই, প্রতিবাদ করেছে। এখনো করবে।

এ সময় তিনি দুর্নীতি ও ঘুষ নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, স্পিড মানি বলে সেটা বৈধ করা হয়েছে। সরকারের প্রতিটা মন্ত্রাণালয়ে চ্যানেল করেছে একটা মন্ত্রণালয়ও ঘুষ ছাড়া চলে না। এর আগে শনিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে তিনি গুলিস্তানে ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশে যোগ দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছেলে মাহী বি চৌধুরী ও মেজর (অব) মান্নান।

সমাবেশের শুরুতে স্লোগান ও বসার জায়গা সংকটে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অনুষ্ঠান পরিচালক বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উঠে গিয়ে বলেন, আমরা জাতীয় ঐক্যের অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছি। স্লোগান বন্ধ করে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান করে সহযোগিতা করবেন। পরে নেতাকর্মীরা শান্ত হন।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিনের পরিচালনায় ও ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী।

এছাড়া ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মহসিন মন্টু, আওয়ামী লীগের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমির আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন।

শেয়ার করুন :
  • 164
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...