প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

কুমিল্লা ১ ও ২ আসনে মনোনয়ন

56
কুমিল্লা ১ ও ২ আসনে মনোনয়ন
ছবি : সংগৃহীত

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং সংসদের বিরোধী দল জাপার (এরশাদ) সংসদ সদস্যদের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে ভোটারদের মাঝে চলছে নানা হিসেব-নিকাশ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেক ভোটার সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন। বিএনপি ও দলের নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আগামী নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক।

তাই আওয়ামী লীগ ও জাপা এরশাদের দলের নেতৃত্বাধীন জোট এবার হিসেব-নিকাশ করেই জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্য ও হেভিওয়েট প্রার্থী দেবে, এমন প্রচারণা রয়েছে প্রতিটি এলাকায়। এতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী তালিকা থেকে এ জেলার কয়েকটি আসনের সংসদ সদস্যের নাম বাদ যেতে পারে এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।

এরই মধ্যে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা ও বিভিন্ন বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ-খবর নিয়ে তালিকা করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রেরণ করেছে। এদিকে প্রায় প্রতিটি আসনে উভয় দল ও জোটের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম বেশ প্রচারণায় রয়েছে। অন্তত অর্ধশতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী এলাকায় বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নেতা-কর্মীদের নিয়ে অংশগ্রহণ করে প্রার্থীতার বিষয়টি জানান দিচ্ছেন।

এদের মধ্যে নতুন মুখও রয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকায় ফুরফুরে মেজাজে প্রচারণায় সরব হলেও মামলা-হামলার ভয়ে বিএনপির প্রার্থীরা অনেকটা নীরবে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঘরোয়া ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা নিজ দল ও জোটের হাইকমান্ডের সাথে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে জোর লবিং চালাচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিপাকে রয়েছে বৃহৎ দু’টি দল। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে মৃত.ব্যাক্তিকেও প্রার্থী হতে দেখা যায়। চুড়ান্ত তালিকা পেতে তফসিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আওয়ামী লীগ ফুরফুরে আছেন, বিএনপি ঈদুল আযহার পর থেকে জেলা জুড়ে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছে।

কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও তিতাস)

এ আসনে ১৯৭৩ সালের পর ২০০৮ এর নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এ আসনটি পায়নি। মরহুম ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদ এ আসনে জাসদ, স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টি থেকে চারবার এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিসহ ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং আগামী নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য একক প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন টানা চারবার এ আসনের এমপি ছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া বিএনপির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে হারিয়ে ৩৫ বছর পর এ আসনটি উদ্ধার করেন এবং ২০১৪ সালে বিএনপি বিহীন নির্বাচনে তিনি নৌকার প্রার্থী হিসেবে পুনরায় জয়ী হন।

এ আসনেী আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন- বর্তমান এমপি মেজর জেনারেল (অব:) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, দলের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাদল রায়, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ব্যারিষ্টার নাঈম হাসান, মেঘনার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল আলম।এখানে বিএনপি থেকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন একক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি মামলায় বা আইনি জটিলতায় আটকে গেলে তার ছেলে ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন, জাপা (এরশাদ) কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আবু জায়েদ আল মাহমুদ (মাখন সরকারি)প্রার্থী হতে পারেন বলে এলাকায় প্রচারণা রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুয়ান্ত প্রার্থী মাওলানা বশির আহমদ।

আরও পড়ুন:  আল্লামা শফীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা , সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে

বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূইয়া ও ইঞ্জি. আব্দুস সবুর এক মঞ্চে কাজ করলেও ব্যারিষ্টার নাঈম ও শফিকুল আলম পৃথকভাবে কাজ করছেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার প্রতিষ্ঠিত দু’টি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গণ ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকাবাসীর সাথে সাক্ষাৎ-শুভেচ্ছা বিনিময়ে সাধারণ জনগণও নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করে রাখছেন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আবু জায়েদ আল মাহমুদ মাখন সরকার দাউদকান্দি ও মেঘনায় গণসংযোগ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান এবং পোষ্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে জাপা’র পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে কাজ করছেন।

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য হওয়ার সুবাদে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভুইয়া। এ ছাড়া সাংগঠনিক ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর জনপ্রিয়তা রয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেষ লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষের মাঝে।

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস)

এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ ও তিতাস উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ আলম সরকার। কুমিল্লা উত্তর জেলা আ.লীগের সহ সভাপতি সেলিমা আহমাদ মেরী, হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সিদ্দিকুর রহমান আবুল, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুব লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার হোসেন বাবু, আলহাজ্ব এনামুল হক ইমন, আলহাজ্ব মো: শাহ আলমসহ ৭ নেতা। জাপার (এরশাদ) বর্তমান এমপি আমির হোসেন ভূঁইয়া (গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত) তিনি এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী।

এ আসনে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ারের বড় ছেলে মাহমুদ আনোয়ার এবং বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মাহফুজুল ইসলাম, হোমনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক, কুমিল্লা উত্তর জেলার সভাপতি ও হোমনা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সাবেক ছাত্র নেতা এ কে এম ফজলুল হক মোল্লা। জাপা (জেপি) জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুড়ান্ত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মুহা. আশরাফুল আলম।

এ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ১৯৯১-১৯৯৬ সাবেক মন্ত্রী এমকে আনোয়ার পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

শেয়ার করুন :
  • 28
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...