প্রচ্ছদ অপরাধ

জুয়া আর মাদকে ভাসছে রাজধানীর মিরপুর

55
জুয়া আর মাদকে ভাসছে রাজধানীর মিরপুর
পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিএসপি বাবু

ডিএসপি বাবু’ নামটি শুনে তাকে কোন পুলিশ কর্মকর্তা মনে হলেও আসলে তিনি কিন্ত তা নন। বরং রাজধানীর কাফরুল বাসীর আতঙ্ক, ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজ, খুনি, মাদক চোরাকারবারী, ভূমিদস্যু ও পুলিশের তালিকাভূক্ত পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী তিনি।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তার সিন্ডিকেটের বেশ কিছু সহোচর ইতমধ্যে ক্রসফায়ারে নিহত হলেও বিভিন্ন থানার হত্যা, নারী-শিশু নির্যাতন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, অসহায়ের জমি দখল, অস্ত্র ও অপহরণসহ প্রায় ৩০/৩৫টি মামলা ও জিডির বোঝা মাথায় নিয়ে পুলিশের খাতায় তিনি পলাতকের তালিকায় থাকলেও বাস্তব চিত্র আলাদা। স্থানীয় একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় থেকে কাফরুল থানা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। অথচ তিনি নিজেও পুলিশের ক্রসফায়ারের তালিকা ভুক্ত একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী হলেও সবাইকে অবাক করে প্রকাশ্যেই চালিয়ে যাচ্ছেন ভয়ঙ্কর সব অপরাধমূলক কার্যক্রম।

তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ে অনুসুন্ধান করতে গিয়ে একে বেড়িয়ে আসছে ভয়ঙ্কর ও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তার সকল অপরাধের ভয়ংকর তথ্যচিত্রগুলি ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরবে সময়য়ের কণ্ঠস্বর।

সর্বনাশী জুয়া আর সর্বগ্রাসী মাদকের ভয়াল থাবায় তটস্থ রাজধানীর গোটা মিরপুর। গোটা মিরপুরের আতংক, পুলিশের তালিকাভুক্ত এই ডিএসপি বাবু ওরফে আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বেই মিরপুর -১৩ নম্বরের ইমান নগর, বাঁইশটেকি, ভাষানটেক, রুপনগর থানার দুয়ারীপাড়া, পল্লবী থানাধীন ১০ নম্বর সেকশনের তিন নম্বর রোডের একটি টিনশেড বাড়ী, ১৭ নম্বর রোডের ফকিরপট্টিস্থ কমিনিউটি পুলিশের অফিসের পাশের সাথী ক্লাবসহ এলাকার চিহ্নিত স্পটগুলোতে প্রতিরাতেই বসে কোটি কোটি টাকার জুয়া ও মাদকের জমজমাট আসর।

বিনিময়ে প্রতিদিন এই জুয়া আর মাদকের স্পটগুলো থেকে ডিএসপি বাবু প্রায় ১২ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করেন। মুসা নামে তার একজন একান্ত সহযোগীর মাধ্যমে এ টাকা সংগ্রহ করেন তিনি। তবে এ টাকা তিনি একাই ভোগ করেন তা নয়। তিনি এলকার বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল ও স্থানীয় থানা-পুলিশকে প্রতিদিন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে দেদারসে এই জুয়া ও মাদকের অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছেন বহুকাল ধরেই। প্রতিটি আসরের পরিচালকেরা ভিন্ন ভিন্ন হলে নিয়ন্ত্রক ডিএসপি বাবু একা নিজেই।

এই জুয়া আর মাদকের আসরগুলোকে কেন্দ্র করে এ এলাকায় সন্ত্রাসী, ছিনতাইকরীদের নিয়মিত পদচারণা। ডিএসপি বাবু ওরফে আরিফুর রহমান নামে পুলিশের তালিকাভূক্ত ও চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত দিনে কাফরুল, পল্লবী, রুপনগর, ভাষানটেক থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক মামলায় যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের বেশির ভাগই বাবুর এই জুয়া ও মাদকের আসরের নিয়মিত ভোক্তা-ক্রেতা। কারন জুয়া খেলার সঙ্গে সমানতালে এই আসরগুলোতে চলে ইয়াবা বিকিকিনি ও সেবন। পুলিশের একটি গোয়েন্দা ইউনিটের করা গোপন একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন:  ইয়াবাসহ আটক ছাত্রলীগ নেতা

গোয়েন্দা পুলিশের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ইমাননগর ও বাঁইশটেকির কয়েকটি বাড়িতে গুটি দিয়ে জুয়া খেলা হয়ে থাকে। এ ছাড়া একই স্থানে রাত ৮টা থেকে ভোর পর্যন্ত তাস দিয়ে কাইট ও থ্রি কার্ড নামক পদ্ধতিতে জুয়া খেলা হয়। এসব স্পটে প্রভাবশালী ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন কোটি টাকা নিয়ে জুয়া খেলায় অংশ নিয়ে থাকে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, চোখের সামনে এমন অপকর্ম চললেও কিছু বলতে পারি না। কারণ পুলিশসহ প্রভাবশালীরাই এর সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কে কথা বলবে? এলাকার তরুণরা জুয়ার ফাঁদে পড়ে বিপথগামী হওয়ার পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই ও রাহাজানীসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে । তবে পুলিশের ক্রসফায়ারের তালিকাভুক্ত হয়েও ডিএসপি বাবু কোন খুঁটির জোরে কাফরুল থানা এলাকাসহ মিরপুরে প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে দাপটের সাথে এতসব অপরাধমুলক কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছে? সকলের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, প্রশাসন কেনো তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারছে না? বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান এলাকাবাসী।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম শিকদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করলেও পরে বলেন, ‘ভাই আমি একটি মিটিংয়ে আছি। এখন কথা বলতে পারবোনা।’

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহম্মেদ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ জনক। তাছাড়া জুয়া ও মাদকের বিষয়ে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে চরম ঘৃনা করি। খুব শিঘ্রই এই স্পটগুলি চিহ্নিত করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করব। আপনারা তথ্যগুলো পুলিশকে দিয়ে সহায়তা করুন, অনুসন্ধান করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অপরাধী যেই হোক, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শেয়ার করুন :
  • 38
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...