প্রচ্ছদ বাংলাদেশ

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হলেই আন্দোলন

0

মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের নেতৃত্বে গঠিত সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার কমিটির প্রতিবেদন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী উল্লেখ করে এই সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড।

আজ ২৪ সেপ্টেম্বর সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন এই হুঁশিয়ারি দেন।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিলের সুপারিশ বাতিলের দাবিতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে। একই দাবিতে শাহবাগ চত্বরে মহাসমাবেশ করবে তারা।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, কোটা বাতিল করতে হলে সব শ্রেণির চাকরিতে করতে হবে আর কোটা বহাল রাখতে হলেও সব শ্রেণির চাকরিতে রাখতে হবে। সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের যে সুপারিশ করা হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই প্রতিবেদন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। এই ধরনের প্রতিবেদনের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের অপমান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে কোটা থাকবে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে না, সমাজে কোটার প্রয়োজন নেই, মন্ত্রীপরিষদ সচিবের এই ধরনের বক্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। এ সময় সচিবের সুপারিশ বাতিলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

আরও পড়ুন:  দালাল ছাড়াই মাত্র কয়েক মিনিটেই মিলবে ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স’

কোটা বাতিলের সুপারিশ বাতিলসহ ৪ দফা দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিসিএসসহ সব চাকরি পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি থেকেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তিকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ৫৬ শতাংশ কোটা আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩০ শতাংশ কোটা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সংরক্ষিত। ১০ শতাংশ করে আছে জেলা ও নারী কোটা এবং পাঁচ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আর এক শতাংশ রয়েছে প্রতিবন্ধী কোটা। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনে সব মিলিয়ে কোটা ১০ শতাংশ করার দাবি তুলে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...