প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

ঢাকা ৯ ও ১০ আসনে মনোনয়ন

0

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের সর্বত্র বইছে ভোটের হাওয়া। চলছে জল্পনা-কল্পনা। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেড়ে গেছে দৌড়ঝাঁপ। সব আলোচনা এখন ভোট নিয়ে। ক্ষমতাসীন অাওয়ামী লীগ তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের মিশনে ভোটের মাঠে নেমেছে আগেই।

দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির নির্বাচন নিয়ে দোটানা এখনও কাটেনি। তবে বসে নেই দশম জাতীয় সংসদ বর্জন করা দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ভোটের মাঠে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড়ে ধানের শীষের প্রার্থীদের আনাগোনাও চোখে পড়ছে। দেশের অন্যসব জায়গার মতোই রাজধানীতেও ভোটের আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে।

জাতীয় সব নির্বাচনেই রাজধানীর থাকে আলাদা গুরুত্ব। নির্বাচনী হাওয়া বা আন্দোলনের গতি কোন দিকে তা দেখা ও জানার জন্য সারা দেশ তাকিয়ে থাকে ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনের দিকে। ঢাকা জেলার আসনগুলোর মধ্যে দুই সিটি কর্পোরেশনে পড়েছে ১৫টি আসন। সব আসনেই আওয়ামী লীগ-বিএনপি বা জোট-মহাজোটের সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি।

এসব আসনে প্রধান দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই শতাধিক প্রার্থী। বিপুল সংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় চাপে পড়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বেশ কিছু আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে দল দুটিকে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও বেশ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। একেকটি আসনে ক্ষমতাসীন ও সরকারবিরোধী- দুই শিবির থেকেই গড়ে চার-পাঁচজন করে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। শেষপর্যন্ত কে দলীয় মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার দোলাচলে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

ঢাকা-৯ (মুগদা-সবুজবাগ)

এ আসনে গত তিন মেয়াদের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। ক্লিন ইমেজের হেভিওয়েট এই নেতার ওপর আগামী নির্বাচনেও আস্থা রাখবে আওয়ামী লীগ। সাবের হোসেন চৌধুরীর মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত হলেও এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড় থেকে সরে দাড়াঁতে রাজি নন ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতা্।

এ তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশ্রাফুজ্জামান ফরিদ এবং ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুর রহমান আনিস।

বিগত দিনের নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা। এবারও তিনি এখান থেকে মনোনয়ন চাইবেন। পাশাপাশি এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে আছেন মহিলা দল সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুল হুদা।পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে এ আসনে মহাজোটের মনোনয়ন পেতে তৎপর রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান।

আরও পড়ুন:  টাঙ্গাইল-৮ আসনে আ.লীগে প্রার্থী ছড়াছড়ি, বিএনপিতে আজম

ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি-হাজারীবাগ)

রাজধানীর ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট এবং হাজারীবাগ থানা নিয়ে গঠিত এ অাসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।ক্লিন ইমেজের অধিকারী তাপস এ এলাকা থেকে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ব্যক্তিগত ইমেজ ছাড়াও তাপসের পরিচয় হচ্ছে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে। মনি ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নিহত হন। এ ছাড়া ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।

তাকে এ আসনে ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ মনোনয়ন পেতে আগ্রহী হয়ে ওঠেছেন। আসনটিতে বিএনপির শক্ত প্রার্থী ছিলেন সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুবউদ্দিন আহমদ । তার মৃত্যুতে বিএনপিতে তৈরি হয়েছে প্রার্থী সংকট । এ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তিনি। এছাড়াও অষ্টম সংসদ নির্বাচনে নিজ জেলা নোয়াখালীর একটি আসনে নাসিরউদ্দিন অসীম বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। এখান থেকে দলের মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ রবিউল আলম। পাশাপাশি এবারএ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদার বড় বোন শাহিনা খান বিন্দুর প্রার্থী হতে পারেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...