প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় জাতীয় পার্টিকেও যুক্ত করার চেষ্টা , কঠোর হচ্ছে সরকার

70
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় জাতীয় পার্টিকেও যুক্ত করার চেষ্টা , কঠোর হচ্ছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

দিন গড়ানোর সঙ্গে বাড়ছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার তৎপরতা। জাতীয় প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ও প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন এই প্রক্রিয়ায় বিএনপির সঙ্গে জাতীয় পার্টিকেও যুক্ত করার চেষ্টা করছেন।

আর তাতেই নাখোশ ক্ষমতাসীনরা। এখন আর তারা এই তৎপরতায় বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয়। প্রয়োজনে তাদের প্রতিহত করার পক্ষেও সরকারি জোট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে গেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরের দিন বুধবার রাতে ব্যাংকক যান গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

গণফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা মোস্তাক আহমেদ জানান, চিকিৎসার জন্য বুধবার দিনগত রাত ২টায় থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমানে স্ত্রী হামিদা হোসেনকে নিয়ে ড. কামাল হোসেন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। আগামী ৬ বা ৭ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

দল ও জোট সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর অথবা থাইল্যান্ডে— এরশাদের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিশদ আলোচনা হবে। এরপর দেশে ফিরে হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা আসতে পারে।

ড. কামালের তৎপরতা আঁচ করতে পেরেই নড়েচড়ে বসেছে ক্ষমতাসীন জোট। তাদের মোকাবেলায় বিকল্প কর্মসূচি নিয়ে তারা মাঠে নামছে। ইতোমধ্যে মাঠ দখলে রাখার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট।

সরকারের ধারণা, অক্টোবরে বিরোধী জোট নানা ফর্মুলায় মাঠে থাকবে। বিএনপি এসব জোটের সরকার বিরোধী তৎপরতায় রশদ জোগাবে।

সম্প্রতি বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘রেডি হয়ে যান, ১ অক্টোবর থেকে রেডি হয়ে যান। ওইদিন থেকে সরকার পতনের কর্মসূচি পালন করতে হবে।’

আর জাতীয় ঐক্য পক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশ থেকে বলা হয়েছে, অক্টোবর থেকে তারা সারাদেশে সমাবেশ করবেন।

ক্ষমতাসীন জোটের নেতারা মনে করছেন, এককভাবে বিএনপির এখনো আন্দোলন করার সামর্থ নেই। কিন্তু, সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে বিএনপি যুক্ত হয়েছে। এতেই আওয়ামী জোটে সন্দেহ বাড়ছে। ইতোমধ্যে এদের ‘জাতির জন্য হুমকি’ আখ্যা দিয়ে প্রতিহতের জন্য মাঠে নামারও ঘোষণা দিয়েছে তারা।

সম্প্রতি ১৪ দলের এক সভায় নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট, ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এবং বিএনপি মিলে ঐক্যের নামে যেটা হচ্ছে, সেটা জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা দেশবিরোধী চক্রান্ত করছে। এখনই তাদের থামানো দরকার। তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করার জন্য ১৪ দল, আওয়ামী লীগ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়িত্ব নিতে হবে।’

আরও পড়ুন:  ঢাকা ৭ ও ৮ আসনে মনোনয়ন

একই সভায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতকে কোনো সহিংসতার সুযোগ দেয়া যাবে না। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বরাবরের মতো ১৪ দল মাঠে থাকবে।’

আর ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘চিহ্নিত ব্যক্তিরা পরাজিত এবং হতাশ রাজনীতিকদের নিয়ে চক্রান্ত করেছে। আমি এখনই তাদের প্রতিহতের কথা বলব না। তবে জনগণকে নিয়ে নির্বাচনে লড়েই তাদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে হবে।’

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মোকাবেলায় মাঠে নামার অংশ হিসেবে ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের উদ্যোগে সমাবেশ হচ্ছে। এরপর দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়েও সভা-সমাবেশ করবে ১৪ দল।

এসব সমাবেশে বিএনপি-জামায়াত এবং যুক্তফ্রন্টের নেতাদের ‘মুখোশ উম্মোচন’ করা হবে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ নাসিম।

সূত্র জানিয়েছে, বিগত এক মাস যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাদের কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ডে বিচলিত হয়নি ক্ষমতাসীন শিবির। তবে সম্প্রতি মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্যের সমাবেশে বিএনপির মহাসচিবসহ একাধিক নেতার অংশগ্রহণ এবং ঐক্য প্রক্রিয়ায় একাত্মতা পোষণ করায় অনেক কিছু সরকারের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে, সমাবেশের আগে ড. কামালের বাসায় ফখরুলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নতুন ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে ক্ষমতাসীন জোট। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতীয় পার্টিকে এই প্রক্রিয়ায় টানা। সেজন্য ক্ষমতাসীনরা তাদের মোকাবেলা করার পথই বেছে নিতে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানাক, তাদের হাত পা ভেঙে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

নেতাকর্মীদের তিনি বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে কোনো অশুভ শক্তি বিএনপি-জামায়াতকে সমর্থন দেয়ার নামে নৈরাজ্য করলে তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এমনকি তারা কোনো অরাজকতা করলে, গোলযোগ করলে হাত-পা ভেঙে দিবেন।’

তবে নতুন এই জোটের প্রশ্নে ক্ষমতাসীনদের অবস্থান আরো স্পষ্ট হবে জোট নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশের ফেরার পর। তিনি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন শেষে দেশে এসে হয়ত চূড়ান্ত নির্দেশনা দেবেন।

শেয়ার করুন :
  • 34
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...