প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সময় নিয়ে প্রচলিত সব ধারণাই ভুল

46
নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সময় নিয়ে প্রচলিত সব ধারণাই ভুল
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি অথবা শেষ সপ্তাহে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকরা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়ে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দাবির বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এর আগেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতারা নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সময় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। তবে সরকার ঘনিষ্ঠ নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সময় নিয়ে প্রচলিত সব ধারণাই ভুল। নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হবে তফসিল ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে বা তফসিল ঘোষণার সময়।

সরকার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনকালীন সরকার তফসিল ঘোষণার বেশি আগে ঘোষণা করতে চায়না সরকার। অবশ্য নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে সম্পূর্ণ সিদ্ধান্তই নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা, গঠনসহ বিস্তারিত সম্পর্কে এক প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্যকারও তেমন ধারণা নেই। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের কাছে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার অত্যন্ত কাছাকাছি সময়ে নির্বাচনকালীন সরকার ঘোষিত হবে। এমনও হতে পারে তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকার হবে।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনকালীন সরকারের ওপর কেউ যেন বাড়তি কোনো চাপ না প্রয়োগ করতে পারে সেজন্যই তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত সংসদের মেয়াদ থাকবে। অক্টোবরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হবে। অক্টোবরে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এই সংসদ বহাল রাখা হতে পারে।

আরও পড়ুন:  তসলিমা নাসরিনের অভিযোগের জবাব দিলেন মাসুদা ভাট্টি

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য থেকে সরকার জানতে পেরেছে, যখনই নির্বাচনকালীন সরকার হবে তখনই সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টা হতে পারে। নতুন করে আন্দোলন গড়ে তুলতে জোর চেষ্টা চালাতে পারে বিরোধিতা। এমন পরিকল্পনার নীল নকশা তৈরি হচ্ছে বলেই সরকারকে সতর্ক করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। রাজধানীসহ সারাদেশের রাস্তাঘাট একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচনকালীন সরকার একটু দেরি করে পরে দিতে চায় সরকার।

সরকারঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনকালীন সরকারে বিরোধী দলগুলো থাকতে চায় কিনা সেটিও দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির কাছে জানতে চাওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে সূত্রগুলো। জাতীয় পার্টি আগ্রহী হলে তাদেরও রাখা হবে নির্বাচনকালীন সরকারে। আর নির্বাচনকালীন সরকার যেন কোনোভাবেই দুর্বল কোনো সরকার না হয় এজন্য সেখানে ডাকসাইটে সিনিয়র নেতাদের রাখারই পরিকল্পনা করা হয়েছে। জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকারের ১০-১২ জন মন্ত্রীর সবাই হবেন সিনিয়র নেতা।

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের সময় সরকারে মন্ত্রিসভায় ছিলেন, তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন, আমীর হোসেন আমু। তাঁদের মতোই সিনিয়র নেতারা এবারের নির্বাচনকালীন সরকারে থাকবেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

সর্বশেষ আপডেট

শেয়ার করুন :
  • 15
    Shares
Loading...

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...