প্রচ্ছদ জীবন-যাপন

প্রথম সন্তান সিজারে হলে কী পরেরগুলোও সিজারে ?

94
প্রথম সন্তান সিজারে হলে কী পরেরগুলোও সিজারে
ছবি: সংগৃহীত

অনেকেরই ধারণা, একবার সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে পরবর্তী প্রতিবার গর্ভধারণ করলে সিজার করার দরকার হয়। আমেরিকান প্রেগন্যান্সি অ্যাসোসিয়েশনের রিপোর্ট অনুযায়ী সিজারিয়ান ডেলিভারির পরও ৯০ শতাংশ মা পরবর্তী সময়ে নরমাল বা স্বাভাবিক প্রসব করতে পারেন।

এঁদের মধ্যে ৬০-৮০ শতাংশ মায়ের কোনো সমস্যা ছাড়াই সফলভাবে স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব হয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সিজারিয়ানের পর স্বাভাবিক প্রসব কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আগে কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে। যেমন—

♦ যাঁদের আগে একটি সন্তান সিজারের মাধ্যমে হয়েছে, তাঁরা পরবর্তী সময়ে ঝুঁকি ছাড়াই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রসব করার জন্য সক্ষম থাকেন।

♦ সিজার এমন কোনো কারণে হয়েছিল, যা পরবর্তী গর্ভে হয়নি, যেমন গর্ভে বাচ্চার অস্বাভাবিক অবস্থান। বর্তমান গর্ভে এই অবস্থান যদি ঠিক থাকে, তবে স্বাভাবিক প্রসব হতে পারে।

♦ আগের সিজারিয়ানের স্থান কতখানি ঠিক আছে তার ওপর, যেমন—জরায়ুর নিচের অংশে যদি সেলাই দেওয়া হয়, তাহলে পরবর্তী গর্ভ স্বাভাবিক প্রসব হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা ০.৫ থেকে ১.৫ শতাংশ মাত্র। আর যদি সেলাই অন্যত্র দেওয়া হয়, তাহলে এই ঝুঁকির হার ৪ থেকে ৯ শতাংশ।

♦ যদি সিজারিয়ান করার অন্তত দুই বছর পর পরবর্তী সন্তান নেওয়া হয় এবং আগের সিজারিয়ানের সেলাই ঠিক অবস্থানে থাকে এবং সিজারিয়ান-সংক্রান্ত জটিলতা না থাকে, তবে স্বাভাবিক প্রসব হতে পারে।

♦ আগের গর্ভে প্লাসেন্টা প্রিভিয়ার ইতিহাস থাকলে, সিজারিয়ানের পর ইনফেকশন হলে সেলাইয়ের স্থান দুর্বল হয় বলে পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক প্রসব না-ও করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন:  চোখের সামনেই জাদু , ১০ মিনিট ধরে তেজপাতা পোড়ান!

♦ আগের গর্ভের সময় যদি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকে, তবে পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য উপযুক্ত বিবেচনা করা যায় না।

♦ গর্ভের শিশুর ওজন যদি চার কেজির কম থাকে, প্রসবের রাস্তা প্রশস্ত থাকে, তবে স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব।

♦ সব কিছু ঠিক থাকলে স্বাভাবিক প্রসবের সুবিধা-অসুবিধা মা এবং অভিভাবকদের অবহিত করতে হবে। ডেলিভারি এমন হাসপাতালে করার ব্যবস্থা করতে হবে, যেখানে প্রয়োজনে সিজারিয়ার সেকশন করার ব্যবস্থা করা যায়। হাসপাতালে বাচ্চা ও মায়ের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কক্ষ থাকতে হবে।

♦ ২০ থেকে ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইমার্জেন্সি সিজারের দরকার হয়। এই ডেলিভারির সময় সঠিক মনিটরিং না হলে মা ও বাচ্চার জটিলতার হার বেড়ে যায়। অপর দিকে সফল স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে শরীরে বাড়তি অস্ত্রোপচার এড়ানো যায়। শরীরে অস্ত্রোপচারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিস্যু অ্যাডহেসন এবং টিস্যু ইনজুরির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কিন্তু আমাদের দেশে এই প্র্যাকটিস সাধারণত করা হয় না, এর কারণ দক্ষ লোকবলের অভাব, মা ও বাচ্চার মনিটরিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অপ্রতুলটা এবং স্বাভাবিক প্রসবে অনেকের অনীহা ও ভীতি।

ডা. নুসরাত জাহান

শেয়ার করুন :
  • 42
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...