প্রচ্ছদ প্রবাস

২০১৮ সালে নতুন বিধিমালা অনুসারে প্রবাসীরা দেশে কি আনতে পারবেন ?

50
২০১৮ সালে নতুন বিধিমালা অনুসারে প্রবাসীরা দেশে কি আনতে পারবেন ?
প্রতীকী ছবি

পুরোনো বিধিমালা স্থগিত করে বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। যা সবারই জেনে রাখা উচিত বিশেষ করে যারা প্রায়ই আসা যাওয়া করেন দেশ বিদেশের বিভিন্ন স্থানে। এই বিধিমালার ব্যাখ্যায় ‘যাত্রী’ বলতে বিদেশ থেকে আসা কোন যাত্রীকে বুঝানো হয়েছে। আর ‘ব্যাগেজ’ বলতে কোন যাত্রী কর্তৃক আমদানিকৃত যুক্তিসঙ্গত পরিমাণের খাদ্যদ্রব্য, পরিধেয়, গৃহস্থালি বা অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী বুঝানো হয়েছে-যার প্রত্যেকটি আইটেমের ওজন ১৫ কেজির বেশি হবে না।

নতুন বিধিমালার উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো:
১) আকাশ এবং জলপথে আসা ১২ বছর বা তার বেশি বয়সের যাত্রীর সঙ্গে আনা হাতব্যাগ, কেবিনব্যাগ বা অন্য কোনভাবে আনা ব্যাগের ওজন যদি ৬৫ কিলোগ্রামের বেশি না হয় তবে সেই ব্যাগেজ সকল প্রকাশ শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়াই খালাসযোগ্য। অর্থাৎ ৬৫ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ব্যাগেজ শুল্ক ও করমুক্ত।
উপ-বিধি (১) উল্লেখিত ব্যাগেজের অতিরিক্ত ৩৫ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওজনের পরিধেয় বস্তু, ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী, বই, সাময়িকী এবং পড়াশোনার সামগ্রী সকল প্রকার শুল্ক ও কর ছাড়াই খালাস হবে বা আনা যাবে।

২) ১২ বছরের কম বয়সী যাত্রীর ক্ষেত্রে ৪০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওজনের কার্টন, ব্যাগ বা বস্তায় আনা ব্যক্তিগত ব্যাগেজের জন্য কোন প্রকার শুল্ক ও কর দিতে হবে না। তবে এই সুবিধা ছাড়া অন্য কোন সুবিধা ১২ বছরের কম বয়সী যাত্রী পাবে না।

৩) যাত্রীর সঙ্গে আনা হয়নি এমন ব্যাগেজ (Unaccompanied Baggage) এর ক্ষেত্রে তফসিল-১ এ নির্ধারিত ফরমে ঘোষণা প্রদান এবং এই বিধিমালার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়াই খালাস করা যাবে। তবে ব্যাগেজ খালাসের সময় ঘোষণাপত্রের একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হবে।

৪) এই বিধিতে ভিন্নরূপ যাই থাকুক না কেন, একজন যাত্রী তফসিল-৩ এ উল্লেখিত পণ্যের প্রত্যেকটির একটি (মোবাইল ফোন ২টি) করে পণ্য সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়াই এবং তফসিল-২ এ উল্লেখিত পণ্যের প্রত্যেকটির একটি করে পণ্য তফসিলে উল্লেখিত শুল্ক ও কর পরিশোধ করে আনতে পারবে।

আরও পড়ুন:  প্রবাসীর স্ত্রী সকল ভাবিদের জন্য সতর্কতা

৫) একজন বিদেশী পাসপোর্টধারী যাত্রী ১ লিটার পর্যন্ত মদ বা মদজাতীয় পানীয় (বিয়ার, স্পিরিট ইত্যাদি) সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়াই আনতে পারবে।

৬) একজন যাত্রী তার পেশাগত কাজে ব্যবহারের জন্য সহজে বহনযোগ্য সকল প্রকার যন্ত্রপাতি সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়াই আমদানি করতে পারবে।

৭) একজন যাত্রী ১০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজনের স্বর্ণালংকার অথবা ২০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজনের রৌপ্যের অলঙ্কার সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়াই আনতে পারবে। তবে এক প্রকার অলঙ্কার ১২ টির বেশি আনা যাবে না। একজন যাত্রী বিদেশ থেকে দেশে আসার সময় ২৩৪ গ্রাম (২০ ভরি) পর্যন্ত ওজনের স্বর্ণবার বা স্বর্ণপিন্ড অথবা ২৩৪ গ্রাম (২০ ভরি) ওজনের রৌপ্যবার বা রৌপ্যপিন্ড সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়াই আনতে পারবে।

৮) স্থলপথে আসা একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ৪০০ মার্কিন ডলার মূল্যের ব্যাগেজ সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়াই আমদানি করা যাবে।

৯) আকাশ, স্থল বা জলপথে আসা একজন অসুস্থ, পঙ্গু বা বৃদ্ধ যাত্রীর ব্যবহারের জন্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি বা হুইল চেয়ার আনার জন্য কোন প্রকার শুল্ক ও কর দিতে হবে না। ১০) এই বিধিমালায় যাই থাকুক না কেন, কোন বাংলাদেশী নাগরিক বিদেশে মৃত্যুবরণ করলে তার ব্যাগেজ সকল প্রকার শুল্ক ও কর থেকে অব্যাহতি পাবে। ১১) সকল যাত্রীর জন্য কাস্টমস ঘোষণাপত্রের বিধান করা হয়েছে।

শেয়ার করুন :
  • 16
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...