প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের দু‘গ্রুপে সংঘর্ষ নিহত ২ , মন্ত্রীর সভা পন্ড

107
আওয়ামী লীগের দু‘গ্রুপে সংঘর্ষ নিহত ২
ছবি : সংগৃহীত

নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল করিমপুরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের টেঁটাযুদ্ধে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে করিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের নয় নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাচ্চু মিয়া এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল সরকারের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। নিহতরা হলেন-বগারগোত গ্রামের চান মিয়ার ছেলে আনোয়ার আলী (৪৫) ও আহমদ আলীর ছেলে মোতালিব মিয়া (৪০)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বগারগোত গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বাচ্চু মিয়া ও কামাল সরকারের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ হয়। সর্বশেষ ছয় মাস আগে টেঁটাযুদ্ধে বাচ্চুর সমর্থক মঙ্গল মিয়া নিহত হন। ওই ঘটনায় কামালসহ ৪৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

বুধবার ওই মামলায় আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে কামালসহ ১৩ জনের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান আদালত। আর বাকি ৩০ জন জামিন পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বাচ্চুর শতাধিক সমর্থক আজ বৃহস্পতিবার কামালের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালান। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে টেঁটাযুদ্ধ বেধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের ছোড়া টেঁটাবিদ্ধ হয়ে দুই জন নিহত হয়।

এদিকে অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরে আওয়ামী লীগের দু‘গ্রুপের সংঘর্ষে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের নির্বাচনী পথসভা পন্ড হয়ে গেছে। সংঘর্ষে পথসভার মঞ্চ ভাঙচুর ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছে ৭-৮ জন নেতাকর্মী। আজ বৃহ¯পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার আজাদী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আর পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে সংঘর্ষের আগেই সভাস্থল ত্যাগ করে চলে যান মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন।

নেতাকর্মীরা জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরে চলমান গ্রুপিং, অন্ত:কোন্দল নিরসন করে দলকে চাঙ্গা করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বৃহ¯পতিবার দুপুরে ফটিকছড়ি উপজেলার আজাদী বাজারে পথসভা করার কথা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের।

আরও পড়ুন:  ১৪ দলের শরিক ও জাপার আসন বণ্টন

পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১০ টায় মন্ত্রী আজাদী বাজার ঈদগাহ মাঠে পথসভা মঞ্চে উপস্থিত হন। কিন্তু সভাস্থল দখলে নেয় উত্তর জেলা যুবলীগ নেতা তৈয়ব গ্রুপের সমর্থকরা। তারা সভা বিরোধী স্লোগান দেয়া শুরু করে। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দু‘গ্রুপকে থামাতে ব্যর্থ হয়ে সভাস্থল ছেড়ে চলে যান মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন। পরে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা সভার মঞ্চ ও প্যান্ডেলে ভাঙচুর করে। এমনকি দু‘গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে একটি গ্রুপের লোকজন পুলিশের দিকে তেড়ে যান।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আকতার বলেন, আজাদী বাজারে সভায় আওয়ামী লীগের দু‘গ্রুপের উত্তেজনার কারণে মন্ত্রীর পথসভা পন্ড হয়ে যায়। মন্ত্রী পরে নাজির হাটে দলীয় সভায় যোগ দেন। বিকেল ৩টায় ফটিকছড়ি সদরে এবং সন্ধ্যায় হেয়াকুতে মন্ত্রীর পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, মন্ত্রী সভাস্থল ত্যাগের পর দু‘গ্রুপের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ৭-৮ জন নেতাকর্মী আহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজাদী বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে দু ধারায় বিভক্ত। একটি উপজেলা আওয়ামী লীগ, অপরটি আওয়ামী পরিবার নাম দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। আওয়ামী পরিবার মূলত স্থানীয় সংসদ সদস্য তরিকত ফাউন্ডেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর অনুসারী।

শেয়ার করুন :
  • 68
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...