প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগ

বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকাতে স্থানীয় নেতাদের গুরুত্ব দিতে হবে

111
বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকাতে স্থানীয় নেতাদের গুরুত্ব দিতে হবে
ছবি : সংগৃহীত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কাছে। কিন্তু দল থেকে দেওয়া হবে নৌকা প্রতীকে ‘একক’ প্রার্থী। সেই ক্ষেত্রেই যত সমস্যা। দলের মধ্য থেকে একাধিক মনোনয়ন প্রার্থীদের নিয়ে চিন্তিত দলটি। তবে দলীয় প্রার্থীর ছাড়া বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলে রয়েছে কঠোর হুশিয়ারি। বহিস্কারের হুংকারও দিচ্ছে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। বিদ্রোহ করলে তার ‘খবর’ আছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড।

দল থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হবে এবং বাকিদের তার পক্ষেই কাজ করার নির্দেশও দেবেন প্রধানমন্ত্রী। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক পদক্ষেপ তথা দল থেকে বহিস্কার করার হুঁশিয়ারিও দিতে পারেন তিনি।আওয়ামী লীগের পাশাপাশি তার অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী রাজনৈতিক সংগঠনের সিনিয়র নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সমাবেশে বিদ্রোহ প্রার্থী দমনের কথা বলেছেন। যাকে প্রার্থী দেওয়া হবে তার পক্ষেই কাজ করবেন ১৪দল সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। বেশি ভাগ আসনেই অন্যান্য সংগঠনের চেয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা মনোনয়ন চাইবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদ্রোহী প্রার্থী দমনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্এরলীগের রাজনৈতিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের কার্যকরী ভুমিকা হতে পারে বিদ্রোহী থেকে রেহাই।বিগত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে কঠোর শাস্তির যদি দেওয়া হতো তাহলে আগামী নির্বাচনে হাই-কমান্ডের নিদের্শ হতো ভয়ের কারণ। এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকাতে স্থানীয় নেতাদের গুরুত্ব দিতে হবে। কেন্দ্রীয় নেতাদের চেয়ে স্থানীয় নেতাই বিদ্রোহী প্রার্থী কমাতে পারে। বর্তমানের সংসদ সদস্যরা স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রুপিং পর্যায়ে নিয়ে গেছে। যার ফল হিসেবে আজকের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী।’

নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে দুশ্চিন্তাও বেড়ে চলেছে। তাই যে কোনো ধরনের বিড়ম্বনা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে দল থেকে আগাম বার্তা পাঠানো হচ্ছে-দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই সবাইকে কাজ করতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড থেকে। দল থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সে রকম কোনো প্রার্থীকে এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে না, যাদের জন্য দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সন্ত্রাস, মাদক, জামায়াত সম্পৃক্ততা আছে এমন প্রার্থীর ব্যাপারে আওয়ামী লীগ এবার অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করছে। শোডাউনে পক্ক কিন্তু জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন নেতা এবার হালে পানি পাবেন না।

আরও পড়ুন:  এরপর তোমার প্রার্থী হওয়ার একটি পোস্টার দেখলে আমি ব্যাবস্থা নেবো

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগের কেউ দলের মনোনয়নের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তার ‘খবর আছে’। বিদ্রোহ করলে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার। কাজেই অপকর্ম করবেন না। কারও ব্যাপারে গীবত করবেন না। আওয়ামী লীগ যদি আওয়ামী লীগের শত্রু হয়, বাইরের শত্রু প্রয়োজন হবে না।

তিনি বলেছেন, প্রার্থী হতে চাওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু প্রার্থী হতে গিয়ে ঘরের মধ্যে ঘর করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি লাগাবেন না। যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তিনি বাকি প্রার্থীদের শত্রু ভাববেন না। যারা মনোনয়ন চাইবে তাদের মনোনয়নের মার্কা হবে নৌকা।

শেয়ার করুন :
  • 107
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...