প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট

বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে পাকিস্তান

17
বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে পাকিস্তান
ছবি : ইএসপিএনক্রিকইনফো

আবুধাবিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে একদিন বাকি থাকতেই জয় তুলে নিল পাকিস্তান। আর প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছেন মোহাম্মদ আব্বাস। সাথে ছিলেন বিলাল আসিফ। ম্যাচের তৃতীয় দিনে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে এক উইকেট হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু চতুর্থ দিনটি ছিল তাদের জন্য বড়ই বিপদের। ৯টি উইকেটের বিনিময়ে তারা সংগ্রহ করতে পেরেছে মাত্র ১১৭ রান। মোট সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৪ রান।

পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস একাই নিয়েছেন ৫টি উইকেট। এছাড়া বিলাল আসিফ ৩টি ও ইয়াসির শাহ নিয়েছেন ২টি উইকেট।

এর আগে পাকিস্তান তাদের দুই ইনিংসে করেছে যথাক্রমে ২৮২ ও ৪০০ রান। অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে করে ১৪৫ রান।

ফলে ৩৩৭ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় পাকিস্তান।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেছেন আরন ফিন্স। এছাড়া বড় স্কোরের মধ্যে ছিল মিশেল স্টার্কের ৩৪।

টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে এক উইকেট হারিয়ে ৪৭ রান তুলে অস্ট্রেলিয়া। ৫৩৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে দলীয় ১০ রানেই প্রথম উইকেট হারায় অসিরা। ওসমান খাজার পরিবর্তে ইনিংস ওপেন করতে নামা শন মার্শকে বোল্ড করেন পাকিস্তানি পেসার মির হামজা। পাকিস্তানের ইনিংসের সময় ফিল্ডিং না করায় ইনিংসের শুরুতে ব্যাট করতে নামতে পারেননি ওসমান খাজা।

নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষ দলের ইনিংসে কোন খেলোয়াড় ফিল্ডিং না করে যত ওভার মাঠের বাইরে থাকবে, নিজ দলীয় ইনিংসে ঠিক তত ওভার পর তাকে ব্যাট করতে নামতে হবে।

মোট ১২ ওভার ব্যাটিং করে শেষ পর্যন্ত আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি অ্যারন ফিঞ্জ ও ট্রেভিস হেড। দিন শেষে ফিঞ্চ অপরাজিত আছেন ব্যক্তিগত ২৪ রানে আর হেড ১৭ রানে।

এই টেস্ট জিততে হলে অস্ট্রেলিয়াকে করতে হবে ৫৩৮ রান। আর ড্র করতে হবে ক্রিজে কাটাতে হবে আরো ছয় সেশন বা ১৮০ ওভার। আর পাকিস্তানকে তুলে নিতে হবে বাকি ৯টি উইকেট। হাতে আছে পুরো দুটি দিন। ফলে এই টেস্টে পাকিস্তান পুরোপুরিই চালকের আসনে।

পাকিস্তানের ইনিংস
বৃহস্পতিবার টেস্টের তৃতীয় দিন মধ্যাহ্ন বিরতির পর থেকেই দর্শক আর টিভি ভাষ্যকরাদের প্রশ্ন- কখন ইনিংস ঘোষণা করবেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। কিন্তু চা বিরতির সময়ও সেই ঘোষণা এলো না, যখন এলো ততক্ষণে বিশাল রানের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। দিনের খেলা ১৪ ওভার বাকি থাকতে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ৪০০ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ফলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের টার্গেট দাড়িয়েছে ৫৩৮ রানের। ক্রিকেটে যাকে ‘অসম্ভব’ টার্গেট হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে এই টার্গেট তাড়া করা অথবা পুরো দুই দিন ক্রিজে কাটিয়ে ম্যাচ ড্র করা দুটোই কার্যত কঠিন অস্ট্রেলিয়ার জন্য।

আরও পড়ুন:  ‘এখনো আমরা আশা করছি তামিম খেলবে। আমরা শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের পরই এই টেস্টে কী হতে চলেছে তা অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। পাকিস্তানের ২৮২ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় ১৪৫ রানে। ১৩৭ রানের লিড পায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা তাই দলকে নিয়ে যান আরো উচ্চতায়।

দ্বিতীয় উইকেটে আজহার আলী ও ফখর জামানের ৯০ রানের জুটির পরও তৃতীয় দিনের শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপ। সাজঘরে ফিরে গেছেন সকালে ব্যাট হাতে নামা দুই ব্যাটসম্যান। ফখর জামান ৬৬ ও আজহার আলী ৬৪ রান করেন। ১৬০ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় সরফরাজ আহমেদের দল। তবে পঞ্চম উইকেটে আসাদ শফিক ও বাবর আজমের ৭৫ রানের জুটি দলে বড় সংগ্রহের আভাস দেয়। আসাদ শফিকের বিদায়ের পর বাবর আজমের সাথে জুটি গড়েন সরফরাজ। এই জুটিতে পাকিস্তান পায় ১৩৩ রান। এই জুটির কল্যাণেই ধরা ছোয়ার বাইরে চলে যায় পাকিস্তানে রান।

ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে বাবর আজম ফিরে যান মিচেল মার্শের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। আম্পায়ারের সঙ্কেতের বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়েছিলেন বাবর, কিন্তু সফল হননি। তাই ক্যারিয়ারের ১৫তম টেস্টে এসেও সেঞ্চুরি পাওয়া হলো না তার। চমৎকার ব্যাটিং করা বাবরের ১৭১ বলের ইনিংসে ছিলো ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা। বাবরকে নিয়ে এই টেস্টে পাকিস্তানের নার্ভাস নাইন্টিসে আউটের ঘটনা তিনটি। প্রথম ইনিংসে ৯৪ রান করে আউট হয়েছিলেন ফখর জামান ও সরফরাজ আহমেদ।

বাবর আজমের আউটের পরও লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ব্যাটিং চালিয়ে যান সরফরাজ আহমেদ। কিন্তু ব্যক্তিগত ৮১ রানে তিনিও আউট হয়ে যান মারনুস লেবুশেনের বলে। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের দলীয় সংগ্রহ তখন ৪০০ রান। সরফরাজ আউট হওয়ার এক ওভার পরেই ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান।

শেয়ার করুন :
  • 4
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...