প্রচ্ছদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে

জান্নাত-জাহান্নামের সিদ্ধান্ত এখন মানুষই দিয়ে দিচ্ছে !!

47
জান্নাত-জাহান্নামের সিদ্ধান্ত এখন মানুষই দিয়ে দিচ্ছে
ছবি : সংগৃহীত

সোস্যাল মিডিয়ায় নিমেষের মধ্যেই জান্নাত-জাহান্নামের সিদ্ধান্ত দিয়ে দেয়া হচ্ছে! আল্লাহর ক্ষমতাকে নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে সমাজে নানান ফিতনা ছড়ানো হচ্ছে! কে প্রকৃত ঈমানদার, কার নিয়ত সহীহ, কে জান্নাতে যাবে, আর কে জান্নাতে যাবে না- এসবের সিদ্ধান্ত এখন মানুষই দিয়ে দিচ্ছে!

অথচ আমরা যেন ভুলেই বসেছি যে, এটা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনেরই একচ্ছত্র কর্তৃত্ব। আর এসব করে কি আমরা আল্লাহর সিদ্ধান্তের উপর নাক গলাচ্ছি না? এসব করে কি সমাজে ঘৃণার আগুন উসকে দিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ছি না ? এটা শুধু গর্হিত কাজই নয়। বরং এটা নিজেদের শত্রুভাবাপন্নতার চরম বিদ্বেষপূর্ণ চিন্তাধারারই বহিঃপ্রকাশ।

তবে যদি কেউ প্রকাশ্যে শিরক করে, কিংবা আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নেয়, কিংবা নাস্তিকতার আত্মস্বীকৃতি দেয়, তাহলে তাকে ঈমানদার মনে না করা যেতে পারে। কিন্তু যিনি এক আল্লাহকে এবং কালেমাকে বিশ্বাস করেন, তার ঈমান ও আকীদা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা এবং তা সমাজে ছড়িয়ে দেয়াটা নিঃসন্দেহে গর্হিত কাজ। জীবিত কালে হিদায়াতের জন্য এবং মৃত্যুর পর মাগফিরাতের জন্য দোয়া না করে বরং তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করাই যেন এখন প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে!

অথচ আমরা কি জানি যে, কোন মুসলিমকে কাফের বলে অভিহিত করা কবীরা গুনাহ।রাসূল (সাঃ) বলেন, “যাকে কাফের বলা হবে সে সত্যিকারে কাফের না হলে যে কাফের বলল তার দিকেই সেটা ফিরে আসবে।” (বুখারী ৬১০৩; তিরমিযী ২৬৩৭)। রাসূল (সাঃ) আরো বলেন, “কোন ব্যক্তি কর্তৃক তার মুসলিম ভাইকে কাফের বলাটা তাকে হত্যা করার মতই অপরাধ।”(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৩৪১০)।

আরও পড়ুন:  ঐক্যফ্রন্টের আশু কর্তব্য কী হওয়া উচিত?

আজকাল ভিন্নমতাবলম্বী কেউ মারা গেলেই তার লাশকে সামনে রেখেই সমানে গালাগালি চলে সোস্যাল মিডিয়ায়! অথচ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা মৃত ব্যক্তিদের গালি দিওনা। কেননা, তারা এখন তাদের কৃতকর্মের ফলাফলের সম্মুখীন হয়ে গেছে।” (বোখারী-৮৫০)

আসুন, আমরা অন্যকে জান্নাত-জাহান্নামের সিদ্ধান্ত না দিয়ে বরং নিজেদের কি অবস্থায় মৃত্যু হবে সেটা নিয়ে ভাবি। জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে নিজেকে কিভাবে রক্ষা করতে পারি, সেই প্রচেষ্টা করি। সর্বোপরি নিজের জান্নাত লাভের জন্য আল্লাহর রহমত ভিক্ষা করি। অযথা মানুষকে জান্নাত-জাহান্নামের সিদ্ধান্ত দিয়ে গুনাহগার না হই।

দয়াময় আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন। আমাদেরকে দ্বীনের সহি বুঝ দান করুন।

শেয়ার করুন :
  • 11
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...