প্রচ্ছদ ভিন্ন স্বাদের খবর

দিন-রাতের পার্থক্য মুছে ফেলতে কৃত্রিম চাঁদ বানাতে যাচ্ছে চীন

57
দিন-রাতের পার্থক্য মুছে ফেলতে কৃত্রিম চাঁদ বানাতে যাচ্ছে চীন
ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীর হিসেবে ২৪ ঘন্টাকে দিন-রাত দিয়ে ভাগ করা হয়েছে। এ গ্রহের সমস্ত কাজ-কর্মও পরিচালিত হয় দিন-রাতের হিসেবকে মাথায় রেখে। তবে এবার দিন-রাতের পার্থক্য মুছে ফেলতে কৃত্রিম চাঁদ বানাতে যাচ্ছে চীন।

মূলত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর থেকে চাপ কমাতে ও রাতের অন্ধকার কমিয়ে আনতে এমন উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে হাত দিয়েছে চীন। দেশটির সিচুয়ান প্রদেশের চেংডু শহরে অবস্থিত তিয়ানফু নিউ ডিস্ট্রিক্ট সিস্টেম সায়েন্স রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রধান ইউ চুনফেং সংবাদসংস্থা এবিসি-কে জানান, ২০২০ সালের মধ্যে তিনটি কৃত্রিম চাঁদ তৈরি করবে চীন।

২০২২ সালে কৃত্রিম চাঁদ তিনটি মহাকাশে পাঠানো হবে। ওই চাঁদগুলো আসলে বড় উপগ্রহ, যাতে থাকবে বড় বড় আয়না, যা সূর্যের আলো পৃথিবীতে আরও বেশি ভালো করে প্রতিফলিত করবে।

আয়না থেকে প্রতিফলিত সূর্যালোক প্রায় ৩৬০০–৬৪০০ বর্গফুট এলাকা আলোকিত করবে এবং তার ঔজ্জ্বল্য হবে চাঁদের থেকে প্রায় আটগুণ বেশি। চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে ৩৮০,০০০ কিলোমিটার দূর থেকে। কৃত্রিম চাঁদগুলি পৃথিবী থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরের কক্ষপথে রাখা হবে বলে ঠিক করেছেন চীনা মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:  প্রেমিকার বিকৃত শারীরিক মিলন , আগুন পুড়ে গেল যুবক

তবে, কৃত্রিম চাঁদগুলোকে কোন কক্ষপথে, কীভাবে রাখা হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। চুনফেং জানান, কৃত্রিম চাঁদগুলো স্থাপিত হলে প্রতিবছর ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যে সমস্ত এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, সেসব এলাকায় কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করা যাবে। রাতে বিভিন্ন ধরণের জরুরি উদ্ধারকাজেও বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে এই কৃত্রিম চাঁদ।

তবে, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কৃত্রিম চাঁদের ফলে দিন-রাতের তারতম্যে পার্থক্য হয়ে পৃথিবীর জীবনচক্রে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

এ ধরণের বিতর্ককে উড়িয়ে দিয়ে চুনফেং বলেন, প্রতিফলিত আলো যেহেতু মানুষের তৈরি তাই তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পৃথিবী থেকে ওই চাঁদগুলোকে উজ্জ্বল তারার মতোই লাগবে।

শেয়ার করুন :
  • 20
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...