প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগ

আ.লীগ নেতা ও ছাত্রদল নেতার ফোনালাপ ফাঁস

201
আ.লীগ নেতা ও ছাত্রদল নেতার ফোনালাপ ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুরের জনপ্রিয় রাজনীতিক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ব্যবসায়ী নেতা রেজাউল করিম রেজনুর বিরুদ্ধে।’

ঐক্যজোটের কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ আসনের অপ্রতিরোধ্য এমপি প্রার্থী ৫ বারের নির্বাচিত এমপি মির্জা আজমকে ফেল করানো যাবে’-এ নিয়ে জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান জিলানীর সাথে রেজাউল করিম রেজনুর ফোন কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে আওয়ামী পরিবারেও শুরু হয়েছে তোলপাড়।

এই অডিও ফোনালাপে স্পষ্ট হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম রেজনু ছাত্রদল নেতা জিলানীর কাছে জানতে চান মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ আসনে কাকে মনোনয়ন দিলে মির্জা আজমের বিরুদ্ধে জিততে পারবে। ফেনালাপে উঠে এসেছে বিএনপির সাবেক নেতা নঈম জাহাঙ্গীর প্রসঙ্গে। নঈম জাহাঙ্গীর বিএনপি থেকে সরে গিয়ে এলডিপিতে থাকেন কিছু দিন। সম্প্রতি তিনি মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যে যুক্ত হয়ে কাজ করছেন। তবে তিনি এবার বিএনপি থেকেই মনোনয়নপত্র কিনেছেন।

রেজনুর ফোনালাপে ওই আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের পরিবর্তে সেখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক বিএনপি নেতা নঈম জাহাঙ্গীরের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারলে মির্জা আজমকে হারাতে সহজ হবে কি না রেজনু সেই প্রশ্নই করেছেন ছাত্রদলনেতা জিলানীকে।

জবাবে জিলানী চট করে রেজনুকে বলেন, ‘মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল কিন্তু মির্জা আজমের সাথে কুলাবো না।’ জবাবে রেজনু জানতে চান, ‘কোন কেনডিডেট বেটার কেনডিডেট। (কোন প্রার্থী তুলনামূলক ভালো) মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল না নঈম জাহাঙ্গীর?’ জিলানী বলেন, ‘নঈম জাহাঙ্গীর বেটার হবো।’ তখন রেজনু জানতে চান, ‘তুই কি গ্রুপিংয়ের কারণে কইতাছস নাকি?’

জবাবে জিলানী বলেন, ‘না না না গ্রুপিংয়ের জন্য না। তর অনু সবগুলা ঐক্যবদ্ধ হবো মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলেরে ফেল করানোর লাইগ্যা। মির্জা আজমের সঙ্গে হাত মিলাবো, অরে (মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল) নমিনেশন দিলে। আর সেই জায়গায় অরে যদি না দেয় তাইলে এরা সব আবার একত্রিত হয়া ঝাঁপায়া পড়বো।’

রেজনু আবারো প্রশ্ন করেন, ‘এক হয়ে কি নঈম জাহাঙ্গীরকে বাইর কইরা নিয়া আসার কি এবিলিটি (সামর্থ্য) আছে?’ জিলানী বলেন, ‘অনুতো আসলে সো টাফ। বাস্তবতাটা যা হলো..?’

রেজনু বলেন, ‘আমি তরে একটা কথা বলি। আই ওয়ান্ট টু স্পিক ইউ। বিএনপি জয়েন্টলি মার্চ কইরা সব শক্তি দিয়াও যদি নঈম জাহাঙ্গীরের পক্ষে কাজ করে। মির্জা আজমের এগেনইস্টে পাবে?’

জবাবে জিলানী বলেন, ‘হ্যাঁ পাবো।’ এরপর আরো কিছু কথা হয় তাদের দু’জনের মধ্যে। ফোনালাপের শেষের দিকে জিলানীকে দুটি আসন ঘুরে এসে সর্বশেষ পরিস্থিতির একটা সামারি জানানোর কথা বলে রেজনু বলেন, ‘তর আর আমার ওপর ডিপেন্ড করবে ইলেকশন। এইটা তরে কয়া রাখলাম।’

এরপর তিনি ওই আসনের দুই উপজেলার বিগত দিনের নির্বাচনী ফলাফলের তথ্য সংগ্রহ করে আনার কথা বলেন এবং কাউকে এসব কথা বলতে নিষেধ করেন। জবাবে জিলানি বলেন, ‘না না। আমি নিজেই যাইয়া বাইর অইয়া পুরাটা সার্ভে কইরা আমু’। ‘খোদা হাফেজ’ বলে কথা শেষ করেন রেজনু। জবাবে জিলানী বলেন, ‘আল্লাহ হাফেজ।’

এ দিকে এই ফোনালাপ নিয়ে আ.লীগ নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে রেজাউল করিম রেজনুর বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান বেলাল এই ফোনালাপ প্রসঙ্গে বলেন, একজন ছাত্রদল নেতার সাথে ফোনালাপে আমাদের নেতা বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমকে ফেল করানোর যিনি ষড়যন্ত্র করতে পারেন তিনি আওয়ামী লীগ করার যোগ্যতা হারিয়েছেন।এঘটনার নিন্দা করে তিনি তার বহিষ্কারের দাবি জানান।

মেলান্দহ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাজি দিদার পাশা বলেন, শুধু মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ আসনই নয়, এ জেলায় ব্যাপক উন্নয়নের কারণেই পাঁচটি আসনেই বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ঐকবদ্ধভাবে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে প্রস্তুত রয়েছি। তিনি রেজনুর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী বলেন, রেজনু আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে মূলত: বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। রেজাউল করিম রেজনু জেলা আওয়ামী লীগের একজন সদস্য হলেও তিনি সব সময়ই বিএনপির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন।

রেজনু বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীর উন্নয়ন কার্যক্রম ও তার গণজোয়ারে ঈর্ষান্বিত হয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। একজন ছাত্রদলনেতার সাথে তার ফোনালাপে তার সেই অপচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এই ষড়যন্ত্র অত্যন্ত নিন্দনীয়। মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ ছাড়াও জেলার পাঁচটি আসনই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এখানে ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী রেজাউল করিম রেজনুর বিরুদ্ধে খুব শিগগির সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:  শিশুদের যেভাবে যৌন হয়রানির হাত থেকে বাঁচাবেন

এ ব্যাপারে জানতে ফোনে রেজাউল করিম রেজনুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগের একজন সদস্য হিসেবে কৌশলে মেলান্দহ-মাদারগঞ্জে বিএনপির অপেক্ষাকৃত দুর্বল ক্যান্ডিডেট কে সেটা জানার চেষ্টা করেছি। দুর্বল প্রার্থী কে সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়ার চেষ্টা করেছি। কোন প্রার্থী এলে আজম চাচার জয় সহজ হবে কৌশলে তা জানার চেষ্টা করেছি। এটা কোন ষড়যন্ত্রের বিষয় নয়। পারিবারিকভাবেই আমি আওয়ামী লীগের কর্মী। একটি মহল এই বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

রেজনু-জিলানির ফোনালাপের পুরোটাই এখানে তুলো ধরা হলো:

জিলানি: রেজনু? রেজনু: জিলানী আপনি ঐ মেলান্দহ-মাদারগঞ্জে বিএনপির কি জানি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল কি না।
জিলানি: হ বাবুল। শুনতাছি নঈদ জাহাঙ্গীর বলে ঐক্যফ্রন্ট থেকে নিতাছে।

রেজনু: নঈম জাহাঙ্গীর কি করে আগের মতো অবস্থানে আছে? জিলানি: অর অবস্থান আগের মতো নাই। কিন্তু বিএনপি থেকে নিতাছে।

রেজনু: বিএনপিরা হেলপ (সাহায্য) করবে! জিলানি: হ হেলপ করবো।

রেজনু: বিএনপিরা কি ঐ নঈম জাহাঙ্গীর যদি ধানের শীষ পায়, মিল্লাতের লোকজন তো আবার বেশি তাই না। মিল্লাতের তো গোষ্ঠীগত লোক আছে না? প্রায় হাজার বিশেকের। জিলানি: হ হ।

রেজনু: অরা তো তখন আজমের সাথে মার্চ করবো। জিলানি: হ।

রেজনু: তাতে কি বিএনপির কি লস হবো না? জিলানি: বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবেই কাজ করবো অরা। কারণ মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল কিন্তু মির্জা আজমের সঙ্গে কুলাবো না।

রেজনু: না এটা তো শিউর (নিশ্চিত) কুলাবে না। কিন্তু কোন নঈম জাহাঙ্গীর এই যে কথা হচ্ছে কোন কেনডিডেট বেটার কেনডিডেট। মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল না নঈম জাহাঙ্গীর। জিলানি: নঈম জাহাঙ্গীর বেটার হবো।

রেজনু: এখন নঈম জাহাঙ্গীরই বেটার হবো! জিলানি: হ।

রেজনু: তুই কি গ্রুপিংয়ের কারণে কইতাছস নাকি? জিলানি: না না না গ্রুপিংয়ের জন্য না। তর অনু সবগুলা ঐক্যবদ্ধ হবো মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলেরে ফেল করানের লাইগ্যা। মির্জা আজমের সঙ্গে হাত মিলাবো। অরে নমিনেশন (মনোনয়ন) দিলে। আর সেই জায়গায় অরে যদি না দেয় তাইলে এরা সব আবার একত্রিত হয়া ঝাঁপায়া পড়বো।

রেজনু: এক হয়ে কি নঈম জাহাঙ্গীরকে বাইর কইরা নিয়া আসার কি এবিলিটি (সামর্থ্য) আছে? জিলানি: অনুতো আসলে সো টাফ। বাস্তবতাটা যা হলো।

রেজনু: আমি তরে একটা কথা বলি। জিলানি: হ্যাঁ।

রেজনু: আই ওয়ান্ট টু স্পিক। বিএনপি জয়েন্টলি (যৌথভাবে) মার্চ কইরা সব শক্তি দিয়াও যদি নঈম জাহাঙ্গীরের পক্ষে কাজ করে। মির্জা আজমের এগেনইস্টে পাবে? জিলানি: হ্যাঁ পাবো।

রেজনু: কোন আক্কেলে কইলি ক। এইটা ক। জিলানি: বিএনপির ভোট তো আসলে অনুর বেশি।

রেজনু: মাদারগঞ্জ? জিলানি: মাদারগঞ্জে বরাবরই মির্জা আজম ফেল করে।

রেজনু: হ্যাঁ। জিলানি: মেলান্দহ তনে পাস করে। আর নঈম জাহাঙ্গীরের বাড়ি তো মেলান্দহের মধ্যে পড়ে।

রেজনু: হ্যাঁ। জিলানি: অনু ঐ যে বিএনপির যে বিরাট একটা অংশ ইয়ের বিরুদ্ধে। এরা কিন্তু শক্তিশালী। লানজু, টানজু অরা সব এর পক্ষে কাজ করবো।

রেজনু: অরা কি নঈম জাহাঙ্গীরের পক্ষে কাজ করবো। জিলানি: হ পক্ষে কাজ করবো।

রেজনু: শুন আমি তরে একটা কথা বলি। ইউ ডন্ট ডিসকাস আদারস পারসন। (কারো সঙ্গে আলোচনা করবি না)। জিলানি: হ্যাঁ।

রেজনু: তুই কালকে মেলান্দহ যাবি। মেলান্দহ যাইয়া। একদম নিরপেক্ষ কাউকে তুই কিছু বলিস না। ঐ যায়গা গিয়া সামারিটা দেখবি কি অবস্থা। জিলানি: হ্যাঁ।

রেজনু: তর আর আমার ওপর ডিপেন্ড করবে ইলেকশন। এইটা তরে কয়া রাখলাম। (তোর আমার ওপর নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে। এটা বলে রাখলাম)। জিলানি: ঠিক আছে। আমি পুরাটা সার্ভে কইরা আমুনি (আমি পুরো জরিপ করে আসব)।

রেজনু: তর ঐ রিপোর্টের ওপর একটা ডিসিশান (সিদ্ধান্ত) হবে। জিলানি: হ্যাঁ, ঠিক আছে।

রেজনু: কাউকে বলিস না কিন্তু…। জিলানি: না না। আমি নিজেই যাইয়া বাইর অইয়া পুরাটা সার্ভে কইরা আমু।

রেজনু: কইরা আইসা আমারে একটু জানাইস তো কাইলকা। জানাইস আমারে। জিলানি: হ্যাঁ হ্যাঁ।

রেজনু: আর মাদারগঞ্চে যে কয়টা ইলেকশন হইছে অইটার ইলেকশনের রেজাল্টা, আর মেলান্দহের রেজালাটা আমারে দিস তো। ভালো থাকিস। জিলানি: হ্যাঁ।

রেজনু: খোদা হাফেজ। জিলানি: আল্লাহ হাফেজ।

পুরো ফোনালাপ শুনুন এখানে ক্লিক করুন

শেয়ার করুন :
  • 74
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...