প্রচ্ছদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আওয়ামী লীগের কিছু অপাংক্তেয় নেতা গণফোরামে যোগ দিয়েছেন

364
আওয়ামী লীগের কিছু অপাংক্তেয় নেতা গণফোরামে যোগ দিয়েছেন

গত কয়েকদিনে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন পরিত্যক্ত নেতা গণফোরামে যোগদান করেছেন। সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এ কে খন্দকার, মেজর জেনারেল (অব.) আসমা আমিনসহ আরও কিছু আওয়ামী লীগের অপাংক্তেয় নেতা গণফোরামে যোগ দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সাবেক এই পরিত্যক্ত নেতাদের গণফোরামে যোগ দেওয়াতেই দলটির নেতারা মনে করছে, তারা অচিরেই দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। গণফোরামের একাধিক নেতা বলছে, ‘চমক এখনো বাকি আছে, আওয়ামী লীগ থেকে আরও অনেকে গণফোরামে যোগ দিবেন অপেক্ষা করুন।’

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ থেকে যারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই সহজে মনোনয়ন পাওয়ার জন্যে গণফোরামের ঠিকানা খুঁজছেন। কারণ তাঁরা মনে করছেন, গণফোরামে যোগ দিলে হয়তো তাঁরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে তীব্র প্রতিযোগিতা গড়ে তুলতে পারবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে বলেন, ‘এটা হচ্ছে আদর্শহীন রাজনীতির উদাহরণ। কিন্তু ড. কামাল হোসেন সবসময় বলেন যে, তিনি আদর্শের রাজনীতি করেন, সুস্থ গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা করেন। অন্যদলের পরিত্যক্ত নেতাদের দলে নেওয়া কতটা গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার সম্মত ড. কামাল হোসেনের কাছে প্রশ্ন আসতেই পারে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, ‘গণফোরাম কতগুলো সুনির্দিষ্ট আদর্শের ভিত্তিতে তাঁদের দলে লোক নিচ্ছেন। যারা গণফোরামের নীতি আদর্শে বিশ্বাস করে তাঁদের জন্যে গণফোরামের দরজা সবসময় খোলা।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণফোরাম বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে চায়, ৭২ এর সংবিধানে দেশকে ফিরিয়ে নিতে চায়। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। যারা মনে করেন আওয়ামী লীগ এখন বঙ্গবন্ধুর চেতনা এবং আদর্শ থেকে দূরে সরে এসেছে, তাঁরা যদি গণফোরামে যোগদান করেন, তাহলে গণফোরামের আদর্শচ্যুতি ঘটবে না।’

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানাচ্ছে, যে সমস্ত এলাকায় অনেক জনপ্রিয় প্রার্থী, যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান নাই। তাঁদের দিকেই এখন গণফোরাম টার্গেট করেছে। যেমন পাবনা ১ আসনে শামসুল হক টুকুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেখানে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ একজন জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে গণফোরাম মনে করছেন। এখন গণফোরাম তাঁর দিকে হাত বাড়িয়েছে। কুষ্টিয়া অঞ্চলে ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে মনে করছে গণফোরাম। গণফোরামের নেতারা ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আরও পড়ুন:  আমি আল্লাহকে ভয় পাই। পরিস্কার কথা, টাকার বিনিময়ে আমি ভোট কিনমু না

২০০৭ সালে ২২ জানুয়ারি যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদকে ধানমন্ডির একটি আসন থেকে মনোনয়ন দিয়েছিল। ড. কামাল হোসেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে গণফোরামের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আওয়ামী লীগের যারা সম্ভাবনাময় প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি, এমন অনেক আওয়ামী লীগের নেতার সঙ্গে গণফোরাম গতকাল এবং আজ যোগাযোগ করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, গণফোরামের মূল কাজ হচ্ছে, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে মাঠে মনস্তাত্ত্বিক এবং সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল করে দেওয়া। এমন লোকজনকে যদি আওয়ামী লীগ থেকে গণফোরামে নেওয়া হয়, তাহলে একদিকে আওয়ামী লীগ যেমন সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে, তেমনি মনস্তাত্বিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়বে। আওয়ামী লীগের এইসব প্রার্থীরা মনোনয়নের প্রত্যাশায় গত ৫ বছর ধরে এলাকায় কাজ করেছেন। ফলে তাঁদের জন্য ভোট চাওয়াটা সহজ হবে।

গণফোরামের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গণফোরাম মনে করছে যে, বিএনপির সঙ্গে দরকষাকষি করার জন্য দল ভারী করা জরুরি। বিএনপি সবসময় মনে করছে, গণফোরাম রাজনৈতিক দল হিসেবে তেমন শক্তিশালী না। তাঁদের সাংগঠনিক কাঠামো অনেক দুর্বল। গণফোরামে এই সমস্ত নেতারা যোগ দিবে, তখন গণফোরামের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও প্রতিষ্ঠিত এবং মজবুত হবে। এর ফলে গণফোরাম বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনের বিষয়ে দরকষাকষির সুযোগ পাবে। সুতরাং এই দরকষাকষি এবং আগামী নির্বাচনে নিজেদের ভালো একটা অবস্থান জানান দিতে গণফোরাম আওয়ামী লীগকেই টার্গেট করেছে।

শেয়ার করুন :
  • 222
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...