প্রচ্ছদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ২০ আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত !

127
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ২০ আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চূড়ান্ত প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে। রবিবার (২৫ নভেম্বর) থেকে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, এদিক থেকে এখনও পিছিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ দীর্ঘ দিন ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজপথের বিরোধীদল বিএনপি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন চিঠি ইস্যু না করলেও খসড়া তালিকা চূড়ান্ত করেছে দলটি। আজ কালের মধ্যে চিঠি দিবে দলটি।

জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার ২০টি আসনকে ঘিরে বেশ সতর্ক বিএনপি। কেননা ১৯৯১ সালের পর থেকে বিগত নির্বাচনগুলোতে যারা ঢাকার আসন নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছে, তারাই সরকার গঠন করেছে। যে কারণে এবারের নির্বাচনেও ঢাকার ২০টি আসনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।

তাই যেকোন মূল্যে প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ঢাকার আসনগুলো ধরে রাখতে চাইছে। এ ক্ষেত্রে যদি জোট এবং ঐক্যফ্রন্টকে ছাড় দিতে হয় তাতেও রাজি দলটি।

বিগত ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ১৩টি আসনের সবক’টিতেই জয় পায় বিএনপি। কিন্তু ১৯৯৬ সালের সবক’টি আসন পায় আওয়ামী লীগ। তখন তারাই সরকার গঠন করে।

পরবর্তীতে ২০০১ সালের নির্বাচনে ১৩টি আসনের মধ্যে ৭টি পায় আওয়ামী লীগ এবং ৬টি আসন পায় বিএনপি। ২০০৮ সালে আসন ১৩টি বেড়ে হয় ২০টি। সেবার আওয়ামী লীগ পায় ১৯টি আর একটি আসন পায় তাদের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি। ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় সংসদে তাদের কোন প্রতিনিধি নেই।

আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সেই হিসাব মাথায় রেখে ঢাকার প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা করেছে বিএনপি। এবার ঢাকা-১ আসনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের ধানের শীষের মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। বর্তমানে ঢাকার জেলা বিএনপির সভাপতি এ আসনে তিনবার এমপি হয়েছেন।

ঢাকা-২ আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান। ঢাকসুর সাবেক ভিপি এর আগে ঢাকা-৩ থেকে দু’বার এমপি হয়েছেন।

ঢাকা-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি কোন কারণে নির্বাচন করতে না পারলে, তার পুত্রবধূ দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায়কে দেয়া হবে। যদিও তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন।

ঢাকা-৪ আসনে শক্ত ভিত রয়েছে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের। তবে বিকল্প হিসেবে তার ছেলে তানভির আহমেদ রবিন।

ঢাকা-৫ আসনে ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস-চেয়ারপাম্যান সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইসরাক হোসেন মনোনয়ন তুলেছেন। তবে বিকল্প হিসেবে রয়েছেন ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার।

ঢাকা-৬ আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী গণফোরামের কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জন্য এ আসনটি ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি। তবে এখানে বিকল্প হিসেবে পেশাজীবী নেতা বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া ও মহানগর বিএনপি নেতা নবীউল্লাহ নবী।

ঢাকা-৭ আসনে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে বিডিআর বিদ্রোহের মামলায় কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যাওয়া নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনাকে। পিন্টু পুরাতন ঢাকা-৮ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টুকে এটি ছেড়ে দেয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন:  খুলনা এখন আতঙ্কের নগরী

ঢাকা-৮ আসনে চূড়ান্ত তালিকায় নাম রাখা হয়েছে হাবীব-উন নবী খান সোহেলের। তবে তিনি কোন কারণে বাদ পড়লে ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা হাবীবুর রশিদ হাবীবকে বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও এ আসনে মনোনয়ন তুলেছেন।১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে ঢাকা-৬ থেকে নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস।

তবে এ আসনটি ভাগ হলে এর বড় একটা অংশ নিয়ে ঢাকা-৯ আসন করা হয়। মির্জা আব্বাসকে সে আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত দেয়া হবে। যদিও তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে মনোনয়ন তুলেছেন।

ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়নে চূড়ান্ত তালিকা রয়েছেন আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিম। তবে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রয়েছে ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা রবিউল আলম রবি। ঢাকা-১১ আসনে মনোনয়নে চূড়ান্ত তালিকা রয়েছেন এমএ কাইয়ুম। যদিও তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না।

ঢাকা-১২ আসনে নির্বাচন করতে চান ড. কামাল হোসেনের মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তবে এখানে বিএনপির মনোনয়ন তুলেছেন যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব।

ঢাকা-১৩ আসনে রয়েছে ছাত্রনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালীর নাম। তবে ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামও রয়েছেন। এ ছাড়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী রয়েছেন এ আসনে।

ঢাকা-১৪ আসনে রয়েছেন আলোচিত প্রার্থী এসএ খালেক। তবে তার ছেলে এসএ সিদ্দীক সাজুও মনোনয়ন তুলেছে। এসএ খালেক ১৯৭৯ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। এরপর থেকে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ড. কামাল হোসেনও বিপুল ভোটে পরাজিত করেছিলেন।

ঢাকা-১৫ আসনে রয়েছেন বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এবং যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান। এ ছাড়া বিকল্প হিসেবে আছেন ২০ দলীয় জোটের অন্যমত শরিক জামায়াতের শফিকুল ইসলাম ও লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

ঢাকা-১৬ আসনে মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার। কিন্তু, সম্প্রতি তিন বছরে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবরণের কারণে বিকল্প হিসেবে তার স্ত্রী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. শাহিদা রফিককে রাখা হয়েছে।

ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়ন নিশ্চিত মেজর (অব.) রুহুল আলম চৌধুরীর। তবে এখানে ২০ দলীয় জোটের কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীমকে রাখা হয়েছে বিকল্প হিসেবে।

ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন তুলেছেন যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর। এ ছাড়া জেএসডির তানিয়া রবও এ আসন থেকে নির্বাচনে মনোনয়ন তুলেছেন।

ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু। তিনি ঢাকা-১৩ (পুরাতন) থেকে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

ঢাকা-২০ আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান তিনি পুরনো আসন ঢাকা-১৩ থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

শেয়ার করুন :
  • 69
    Shares

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...