প্রচ্ছদ জীবন-যাপন

বড় হচ্ছে মেয়েটি, পিরিয়ড বিষয়ে জানিয়েছেন তাকে?

17

মেয়েটি চোখের পলকে বড় হচ্ছে, তার শারীরিক মানসিক সব পরিবর্তনই একটু একটু করে চোখে পড়ছে আপনার। এসময় একজন মায়েরই বেশি কর্তব্য তাকে আগলে রাখার। মা হিসেবে উঠতি মেয়েকে নিয়ে বেশি চিন্তা থাকে কোন বিষয়ে? অবশ্যই বলবেন ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড নিয়ে। মেয়েদের জীবনে পিরিয়ড অবধারিত ঘটনা হলেও এটাকে সবার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখার প্রবণতা রয়েছে আমাদের। পিরিয়ড শুরুর আগেও মেয়েদের কাছ থেকে বিষয়টি এমনভাবে লুকানো হয় যেন এটা খারাপ কিছু। ফলে প্রথমবার পিরিয়ড শুরু হলে মেয়েরা একেবারে আতঙ্কে ভড়কে যায়।

ফলে স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক বিষয়টি মেয়েদের কাছে আতঙ্কেরই রয়ে যায়। তাই আপনার মেয়েটিকে পিরিয়ড শুরুর আগেই ভালোভাবে জানিয়ে দিন। ১০ বছর পার হতে লাগলেই মেয়েটি যখন তখন মেজাজ খারাপ করে ফেললে, শারীরিক পরিবর্তন হতে থাকলেই তাকে জানিয়ে দিন। কিছুটা অস্বস্তি থাকতেই পারে মায়েদের ভেতরে। সেজন্য কিছু প্রস্তুতি আগেই দরকার আপনার।

কথা শুরুর প্রস্তুতি নিন

একটি মেয়ের বেড়ে ওঠার সময়ে ঋতুস্রাব একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এ বিষয়ে সময়ের আগেই কিছু আলোচনা করা উচিৎ, এটা আগেই জানা থাকলে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ থাকবে না। হুট করে ছোট একটি মেয়ে দেখলো তার শরীরে রক্ত। সে জানছে না রক্ত কোথা থেকে আসছে, আতঙ্কে মুষড়ে পড়ার কথা। সে ভাববে তার রোগ হয়েছে। এই পিরিয়ডের আগে আগে শরীরেও পরিবর্তন শুরু হতে পারে। সেটা খেয়াল করলেই তার সঙ্গে মাসিকের বিষয়ে কথা বলুন। সে নিজে থেকে শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিস্তারিত বলুন।

নিজেকে আগে প্রস্তুত রাখুন

মেয়ের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার আগে নিজেকে তৈরি করে নিন। বলতে গেলে আপনার নিজের প্রথম অভিজ্ঞতার কথা জানান। তার যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত থাকুন। এজন্য প্রয়োজনে মেয়েদের প্রজননতন্ত্র সম্পর্কে জানুন। বইপত্র বা ইন্টারনেটের সাহায্য নিতে পারেন। মেয়েকে বোঝান যে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। ঋতুস্রাব মানে প্রাপ্তবয়সের দিকে আগানো। তাই এসময় যৌনজীবন নিয়েও মেয়ের সঙ্গে আলাপ করুন, সতর্ক রাখুন তাকে। তার পিরিয়ড নিয়ে সব প্রশ্ন যেমন ঐ সময়ে কেমন ব্যথা হয়, কতদিন পর এটা হয়, সে খেলতে পারবে কিনা তাও প্রশ্ন করে। মেয়ের মনের সব দ্বন্দ্ব আছে দূর করে দিন। দ্বিধাহীনভাবে কথা বলুন। মেয়ে যেন পিরিয়ড নিয়ে লজ্জা না পায়।

আরও পড়ুন:  প্রথম সন্তান সিজারে হলে কী পরেরগুলোও সিজারে ?

একটু একটু করে বোঝাবেন। মেয়েকে সব কথা হজম করতে দিন। মেয়েকে জানান যে তার শরীরের যে পরিবর্তনগুলো আসছে তা প্রতিটি মেয়ের ক্ষেত্রেই ঘটে। এভাবেই সে মেয়ে থেকে নারী হয়ে উঠছে তা তাকে জানান। স্কুলে প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে কোনো পাঠ হচ্ছে কিনা খোঁজ নিন। মেয়ের বয়স অনুযায়ী তাকে আস্তে আস্তে তথ্য দিন।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নজর দিন

পিরিয়ডের সময় স্যানিটারি ন্যাপকিন কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, কতক্ষণ পর তা বদলাতে হবে, এগুলো তাকে শিখিয়ে দিন। কোনোভাবে সংক্রমণ যাতে না হয় সেজন্য ভালোভাবে হাত ধুয়ে ধোয়া, নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে শেখান। ব্যবহৃত স্যানিটারে ন্যাপকিন ও অন্যান্য উপকরণ ফেলে দেওয়ার সঠিক নিয়মও শেখান।

মেয়ে আপনাকে কেমন প্রশ্ন করতে পারে

শুধু মেয়েদেরই কেন মাসিক হয়, রক্তক্ষরণের কারণে ব্যথা হয় কিনা, কতদিন এটা থাকে, কেন এমন হয়, কবে এটা সারবে, বাইরে গেলে কেউ কিছু বলবে কিনা- এমন হাজারো প্রশ্ন মেয়েদের মধ্যে থাকে।

পিরিয়ডকালে মেয়েটির যত্ন নেবেন কীভাব

মেয়ের পিরিয়ডকালে তিনবেলার প্রধান খাবারে বেশি করে ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার যেমন দুধ, পনির, দই, কমলালেবুর জুস, ফল বেশি দিতে হবে।

বাইরে খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও অন্যান্য শারীরিক কাজ থেকে মেয়েকে বিরত রাখবেন না, কারণ এগুলো স্বাস্থ্যসম্মত শারীরিক ওজন ধরে রাখতে সাহায্য করে।

বাইরের জাঙ্কফুড এসময় খেতে দেবেন না বেশি। অন্য সময়ের তুলনায় বেশি পানি খেতে দিন। একটু বিশ্রামে থাকতে দিন বেশি। ঘরের কাজ কমিয়ে দিন, পড়াশুনার চাপও বেশি দিতে যাবেন না। তার মন খারাপ বা অবসাদ অনুযায়ী ব্যবহার করুন, বকাবকি বা রাগারাগি করতে যাবেন না।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

শেয়ার করুন :
Loading...

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...