প্রচ্ছদ আইন-আদালত

সিরাজের নৈশপ্রহরী আদালতকে জানান অধ্যক্ষ সিরাজ এক ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে ….

189

আলোচিত মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার (০৪ জুলাই) ৬ষ্ঠ দিনে মাদরাসার নৈশপ্রহরী মো. মোস্তফার সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। আগামী ৭ জুলাই পরবর্তী তারিখ ধায্য করেছে আদালত। ওইদিন কেরোসিন বিক্রেতা, বোরখা বিক্রেতা ও দোকানের কর্মচারীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু বলেন, ৬ষ্ঠ দিনে মাদরাসার নৈশপ্রহরী মো. মোস্তফার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। বুধবার ৫ম দিনে সাক্ষী সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রসার পিয়ন নুরুল আমিনের জেরা, মঙ্গলবার নুসরাতের সহপাঠি নাসরিন সুলতানার জেরা শেষে হলে সাক্ষী সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। আগামী ৭ জুলাই পরবর্তী তারিখ ধায্য করেছে আদালত। ওইদিন কেরোসিন বিক্রেতা জসিম উদ্দিন, বোরখা বিক্রেতা লিটন ও দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদের সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে।

সকাল ১১টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার সকল আসামিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আদালতে উপস্থাপন করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয় নুসরাত জাহান রাফির মাদরাসার নৈশপ্রহরী মো. মোস্তফার সাক্ষ্য।

মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী মোস্তফা আদালতকে জানান- অধ্যক্ষ সিরাজ ইতিপূর্বে অনেক ছাত্রীর ইজ্জত নষ্ট করেছেন। রাফির ঘটনার কয়েক মাস পূর্বে মোস্তফা মাদ্রাসার জরুরি কাজে অফিস কক্ষে প্রবেশ করে দেখতে পান, অধ্যক্ষ সিরাজ এক ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে আছে।

‘তিনি এ দৃশ্য দেখে দ্রুত অফিস কক্ষ থেকে বেরিয়ে পড়েন। পরে অধ্যক্ষ সিরাজ তার চোখে দেখা এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে পুলিশ দিয়ে চুরির মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন।’

আসামী পক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু জানান, নৈশপহরী মোস্তফা যে সব সাক্ষ্য আদালতে দিয়েছে, তার কোনোটাই সঠিক নয়। মোস্তফার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার বিভিন্ন মালামাল চুরিসহ অনেক অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা বিভিন্ন সময় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে মোস্তফা মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছেন।

বেলা ৩টায় সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষে আসামিদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর তাকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। যা শেষ হয় রোববার (৩০ জুন)। পরে গত সোমবার ও মঙ্গলবার নুসরাত জাহান রাফির বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও সহপাঠি নাসরিন সুলতানা ফূর্তির সাক্ষ গ্রহণ ও জেরা শেষ হয়।

আরও পড়ুন:  সুন্দরী গরিব মেয়েদের টা*র্গেট করে স্প*র্শকাতর স্থানে হাত দিতেন সিরাজ উদদৌলা

তারও আগে গত ২৭ জুন অভিযোগ গঠনের ছয় দিনের মাথায় ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদীপক্ষের তিনজন সাক্ষীকে আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য উপস্থাপন করা হয়। ২০ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের এই আদেশ দেন আদালত। এ মামলার চার্জশিট জমা দেওয়ার আগে সাতজন সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় তাকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে; যা মৃত্যুশয্যায় নুসরাত বলে গেছেন। ১০ এপ্রিল ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুসরাতের মৃত্যু হয়।

পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ফেনীর পরিদর্শক মো. শাহ আলম আদালতে মোট ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রের ১৬ আসামি হলেন- মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

এ মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অন্য পাঁচজনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে পিবিআই। আদালত তা অনুমোদন করেন।

এছাড়া যৌন হয়রানির মামলার পর নুসরাতের জবানবন্দি গ্রহণের সময় তার ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সাইবার আইনে মামলা হওয়ার পর সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

শেয়ার করুন :
  • 68
    Shares
  • 68
    Shares
Loading...

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...