প্রচ্ছদ রাজনীতি জাতীয় পার্টি

এরশাদ ক্ষমতা হারানোর সঙ্গে সঙ্গে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন যারা

94

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কারও কাছে তিনি পল্লীবন্ধু। আবার কারও কাছে মিথ্যাবাদী সামরিকশাসক। যে যেমনই বলুক না কেন, এরশাদ একজন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী শাসক ছিলেন এটা যেমন সত্য, তেমনি তিনি দেশের জন্য কিছু ভালো কাজ করে গেছেন এটাও সত্য।

এরশাদ ১৯৮২ সালে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধমে ক্ষমতা দখলের  ৪ বছর পর জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নয় বছর দেশ শাসনের পর নব্বইয়ে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এরশাদ যেমন অনেক বন্ধু শুভানুধ্যায়ী পেয়েছিলেন তেমনি অনেক দুধের মাছিও জুটেছিল তার আশেপাশে।

ক্ষমতা হারানোর সঙ্গে সঙ্গে দুধের মাছিরাও তার কাছ থেকে উড়ে যেতে খুব বেশি সময় নেয়নি। চলুন দেখে নিই এরশাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন কারা- খবর : বাংলা ইনসাইডারের

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ

এরশাদের সঙ্গে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তার মধ্যে সবার ওপরে থাকবেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ১৯৮৮ সালে এরশাদ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়েরও দেখভাল করেছেন। সে সময়ে তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু এরশাদ ক্ষমতা হারানোর পর মওদুদ ভোল পাল্টে ফেলতে দেরি করেননি। বর্তমানে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২০০১ সালে জোট সরকারে আইনমন্ত্রীরও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী

জাতীয় পার্টি গঠনের দিন ২১ সদস্যের প্রেসিডিয়ামের মধ্যে ১৮ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এরশাদের সঙ্গে তার বেশ দহরম মহরম ছিল। ক্ষমতায় থাকতে তিনি এরশাদকে কাজে লাগিয়ে নানা সুযোগ সুবিধা হাসিল করে নিয়েছিলেন। কিন্তু সুবিধাভোগ শেষে তিনি এরশাদকে ছেড়ে যেতে খুব বেশি সময় নেননি।

আরও পড়ুন:  নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলো জাতীয় পার্টি

প্রফেসর এম এ মতিন

১৯৮৬ সালে নবগঠিত জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মহাসচিব নিযুক্ত হন অধ্যাপক এম এ মতিন। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব প্রফেসর এম এ মতিন পরবর্তীতে এরশাদকে ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও হয়েছিলেন তিনি।

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন

`৮৮ সালে এরশাদ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। কিন্তু এরশাদ ক্ষমতা ছাড়ার পর মোয়াজ্জেমও তাকে ছেড়ে দেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জেপি’র আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ছিলেন এরশাদ সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি মহাজোটে আছেন। গত আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় মেয়াদে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি।

সাংবাদিক আনোয়ার জাহিদ

জাতীয় পার্টির সূচনালগ্নে এরশাদের সঙ্গে ছিলেন আনোয়ার জাহিদ। জাতীয় পার্টির ৫৭ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। এরশাদের এই পরম বন্ধুই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার রূপ বদলে ফেলেন। ১৯৯৯ সালে ৪ দলীয় জোট গঠনে ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। সেমসয় বিএনপিতে সক্রিয় হন তিনি।

মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাছ

এরশাদ সরকারের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ছিলেন মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাছ। তিনিও এরশাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন বলে দাবি করেন অনেকে। বর্তমানে ওয়াক্কাছ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) চেয়ারম্যান।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

শেয়ার করুন :
Loading...

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

Loading Facebook Comments ...