প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

ঢাকা-২০ আসনের নির্বাচনী লড়াই

50
ঢাকা-২০ আসনের নির্বাচনী লড়াই
ছবি : সংগৃহীত
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ঢাকার উপকণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ধামরাই উপজেলা সংসদীয় আসন ঢাকা-২০ এ মনোনয়ন প্রত্যাশী অর্ধডজন নেতার নাম থাকলেও এরমধ্যে মূলত শক্তিধর প্রার্থী হিসেবে ঘুরেফিরে নাম আসছে বর্তমান এমপি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ মালেক ও বিএনপি থেকে বরাবর এমপি প্রার্থী হওয়া সাবেক এমপি ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নানা সমীকরণ শুরু হয়েছে। ঢাকার প্রবেশমুখের উপজেলা ধামরাইয়ের ভার কার হাতে যাবে সে নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তাই আগামী নির্বাচন ঘিরে সাজসাজ রব পড়ে গেছে এখনই। সম্ভব্য প্রার্থীরাও এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন উৎসব পার্বন ঘিরে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি এই দুই দলের প্রার্থীকে ঘিরে পুরো উপজেলাজুড়েই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। মনোনয়ন পেতে তারাও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নানাভাবে।

উপজেলার বিভীন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ঢাকার কাছের উপজেলা হলেও ধামরাই বরাবরই পিছিয়ে পড়া উপজেলার তালিকার শুরুর দিকেই থাকতো। তবে, ২০১৪ এমপি নির্বাচিত হবার পর থেকে সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। শিক্ষা, রাস্তাঘাট, চিকিৎসাসহ প্রায় সব বিভাগেই উন্নয়নের ছোঁয়া লাগাতে সক্ষম হয়েছেন এমএ মালেক। বিএনপির দূর্ভেদ্য ঘাটি হিসেবে পরিচিত ঢাকা-২০ আসনে জনগনের রায়ে তাই বিপুল ভোটে জয়ী হবার প্রত্যাশা রাখেন এমএ মালেক এমপি।

অন্যদিকে, একই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ও বায়রার সভাপতি সাবেক এমপি বেনজির আহমেদও। ধামরাইয়ের বেশিরভাগ ইউপি মেম্বার, চেয়ারম্যান বর্তমান এমপির পক্ষের লোক হলেও সাংগঠনিক নেতৃত্ব বেনজির এমপির সাথে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে, সবকিছু ছাপিয়ে মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে আছেন এমপি মালেকই বলে জানা গেছে।

এদিকে, এমএ মালেকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের ছেলে ধামরাই আসনের সাবেক এমপি ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান।

নির্বাচনী এলাকায় খুব বেশি জনসম্পৃক্ততা না থাকলেও বিএনপির দূর্ভেদ্য এই ঘাটির সেনাপতি হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ জিয়ার হাতেই থাকবে বলে মনে করেন উপজেলা বিএনপির নেতারা। বিএনপি ছেড়ে একসময় এলডিপিতে যোগ দেয়া বিএনপির এই নেতা বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন।

তবে জিয়াউর রহমান ছাড়াও উপজেলা বিএনপির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ও ছাত্রদল ঢাকা জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদও আছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, মনোনয়ন দ্বন্দে ইতিমধ্যেই কয়েকটি শিবিরে ভাগ হয়ে গেছে।

তবে, কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা ও ২০০৮ এর আগ পর্যন্ত অপরাজেয় ও সিনিয়র নেতা হিসেবে জিয়াউর রহমানকেই এগিয়ে রাখছেন সবাই।

সেক্ষেত্রে ঢাকা-২০ আসনের নির্বাচনী লড়াইটা মূলত আওয়ামী শিবিরের এমপি এমএ মালেক ও বিএনপি শিবির থেকে ব্যারিস্টার জিয়া’র মধ্যেই হবে বলে ধারণা করছেন উপজেলার দুই দলের নেতৃবৃন্দ।