প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

যত কম পরীক্ষা, তত কম রোগী, তবেই ঠিক থাকবে গদি

101
তবেই ঠিক থাকবে গদি
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ক’রোনা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক’য়েকদিন আগে এই অদ্ভুত আ’শাবাদ শু’নিয়েছিলেন। বাংলাদেশে করোনা শনাক্তের ৪৫ দিনের মা’থায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেছিলেন, ৪৫ দিন শেষে দেশে যে প’রিস্থিতি তা ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে ভালো। তিনি এই সময়ে বাংলাদেশে য’তজন আক্রান্ত হয়েছেন তার প’রিসংখ্যান তু’লে ধরে ইউরোপ এবং আমেরিকার দে’শগুলোতে কতজন আ’ক্রান্ত হয়েছিল তার একটি হিসেব দিয়েছিলেন। কি’ন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুব সুচারুভাবে এড়িয়ে গেছেন যে এই সময়ে ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রে কতজনের করোনা পরীক্ষা হয়েছিল। এই সংখ্যাতত্ত্বের কৌশল রাজনীতিবিদরা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যবহার করেন ব’লেই হয়তো বলা হয়ে থাকে যে, মিথ্যা তিন প্রকারের- মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা এবং পরিসংখ্যান।

স্বা’স্থ্য মন্ত্রণালয় এখন সম্পূর্ণ ভি’ন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে যে বাংলাদেশে ক’রোনার অবস্থা ভালো, করোনা বাংলাদেশে ম’হামা’রি হয়নি। ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থা সহনীয় এটা প্রমাণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে। এই কৌ’শলটি হলো- কম পরীক্ষা করা। যত কম পরীক্ষা করা হবে, তত কম রোগ শনাক্ত হবে। আর ক’ম রোগী শনাক্ত হলেই স’বকিছু ঠিক আছে এবং স্বা’ভাবিক আছে বলে প্র’মাণ করার সুযোগ থাকবে।

প্র’থম করোনা শনাক্তের ৪৭ দিনের মা’থায় বাংলা’দেশে এখন পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে মাত্র ৪৩ হাজার ১১৩ জনের। কোনভাবেই এই পরীক্ষা ১৮ কোটি মানুষের একটি দেশের পরিস্থিতি বোঝার জন্য প্রতীকী পরীক্ষাও নয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি আসলে কী অ’বস্থায় আছে, তা বোঝার কোনো উপায় নেই।

আরও পড়ুন:  *সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জয় আমাদের হবেই*

গত’কাল শুক্রবার দেশে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছিল ৩ হাজার ৬৮৬ জনের। সেখানে পাওয়া গিয়েছিল ৫০৩ জন করোনা রোগী। আর আজ সেই পরীক্ষার হার আরও কমিয়ে আনা হয়। গত ২৪ ঘন্টায় পরীক্ষা হয়েছে ৩ হাজার ৩৩৭ জনের। এতে শনাক্ত হয়েছে ৩০৯ জন। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে, গত ১৮ এপ্রিল থেকে যখন ২৪ ঘন্টায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৩০০ অতিক্রম করলো, তখন থেকেই পরীক্ষার লাগাম টেনে ধরা এবং পরীক্ষার বিস্তৃতি সংকুচিত করার একটা প্রবণতা চোখে পড়ছে। ১৮ এপ্রিল শনাক্ত হয় ৩০৬ জন। ১৯ এপ্রিল ৩১২ জন। ২০ এপ্রিল ৪৯২ জন। তারপর আবার কমে ২১ এপ্রিল ৪৩৪ জন। ২২ এপ্রিল ৩৯০ জন। ২৩ এপ্রিল ৪১৪ জন এবং গতকাল ৫০৩ জন শনাক্ত হয়।

একটি সীমার বাইরে করোনা রোগী আক্রান্তের সংখ্যা যেতে চাইছে না। তথ্য উপাত্ত সব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে। পরীক্ষাও হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে। কাজেই লাগাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তার মতো করে সেই পরিসংখ্যানই দিচ্ছে, যেই পরিসংখ্যানটুকু সহনীয়। কিন্তু যেকোনো পরিসংখ্যানেরই যেমন একটা ফাক ফোকর থাকে, তেমনি স্বস্তিদায়ক তথ্যের আড়ালে কিছু উদ্বেগজনক তথ্য এই পরিসংখ্যান থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। তা হলো, বাংলাদেশে মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৪০ জন মারা গেছে। যতজন সুস্থ হয়েছে, তার চেয়ে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি। এই একটি পরিসংখ্যানই বাংলাদেশে করোনার পরিস্থিতির বাস্তবতা এবং প্রকৃত অবস্থা বোঝানোর জন্য যথেষ্ট।

আরও পড়ুন:  যেভাবে ফল-সবজি ভাই'রা’সমুক্ত করবেন

আমরা যত কম পরীক্ষা করবো, নিশ্চিতভাবেই তত কম রোগী হবে। কিন্তু আমাদের যে কজনই রোগী হচ্ছে, তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে এমন ঘটনা কম হচ্ছে। তার চেয়ে মৃত্যুর ঘটনা বেশি হচ্ছে। তাই যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কম পরীক্ষার মাধ্যমে কম রোগী দেখিয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে, সেটার ফলাফল হিতে বিপরীত হতে পারে। এই কৌশল বুমেরাং হয়ে আসতে পারে আমাদের সবার জন্য।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 78
    Shares