প্রচ্ছদ বাংলাদেশ

করো’না মোকাবিলায় ‘ভ’য়ঙ্কর’ ভুল পথে চলছে বাংলাদেশ?

228
করো'না মোকাবিলায় ‘ভ'য়ঙ্কর’ ভুল পথে চলছে বাংলাদেশ
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

করো’না সংক্রমিত হওয়ার পর অঘোষিত ‘লক ডাউন’ বা সাধারণ ছুটির একমাস পূর্ণ হলো আজ। এই একমাসে বাংলাদেশে করো’না পরিস্থিতির গতি প্রকৃতি স’ম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোন বিজ্ঞান ভিত্তিক ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ যে পরিমাণ পরীক্ষা ও শনাক্ত হয়েছে তাতে কেউই বলতে পারছে না আসলে বাংলাদেশের অবস্থান কি? কোথায় দাঁড়াবে বাংলাদেশ? আম’রা কি মহামা’রির মধ্যে প্রবেশ করেছি? নাকি আমাদের বাংলাদেশের অবস্থা আস্তে আস্তে ভালোর দিকে যাবে কিংবা বাংলাদেশের সামাজিক সংক্রমণ কত গভীরে গেছে ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো এক অন্ধকারে আছে। অথচ আম’রা সাধারণ ছুটির একমাস পেরুলাম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, ৮ মা’র্চ বাংলাদেশে প্রথম করো’না শনাক্ত হয়। ২৬ মা’র্চ বাংলাদেশ সাধারণ ছুটিতে চলে যায়। অর্থাৎ বাংলাদেশ প্রায় ৫০ দিনের মধ্যে এখন পর্যন্ত জানে না করো’না পরিস্থিতি কি রকম এবং আসলে আম’রা কোন পথে যাচ্ছি। আর এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করো’না মোকাবিলায় আম’রা ভ’য়ঙ্কর ভুল পথে যাচ্ছি। যার জন্য হয়তো আমাদের চরম মুল্য দিতে হতে পারে। যে ভুলগুলো আম’রা করছি তার ফিরিস্তি অনেক দীর্ঘ।

শুরু থেকেই অনেকগুলো ভুল আম’রা করেছি, যেমন যারা বিদেশ থেকে এসেছে তাদেরকে আম’রা হোম কোয়ারেন্টাইন করতে পারিনি। তারা অবাধে মেলামেশা করে সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়েছে। আম’রা আলাদা হাসপাতাল তৈরীর কথা বললেও তা করতে পারিনি। আমাদের যেভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা তা নিতে পারিনি। তবে ২৫ মা’র্চ সাধারণ ছুটির পর থেকে আম’রা যে ভুল পথে হাটছি এবং তার প্রধান উদাহ’রণ দেওয়া যায় ৫টি ক্ষেত্রে।

সীমিত র’ক্ত পরীক্ষা : করো’না মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় উপায় হলো বেশি করে র’ক্ত পরীক্ষা যেন আম’রা প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে পারি। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫০ হাজারও র’ক্ত পরীক্ষা হয়নি। এটি একটি ভ’য়াবহ উদ্বেগজনক এবং ভুল পদক্ষেপ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আর এই সীমিত র’ক্ত পরীক্ষার ফলে আম’রা যেমন বুঝতে পারছি না আমাদের পরিস্থিতি কতটা খা’রাপ আবার অন্যদিকে এর ফলে সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে ব্যাপকভাবে। ফলে আম’রা একটা গভীর সংকটের পথে হাটছি।

আরও পড়ুন:  লকডাউনের নামে ঢাকার অলিগলিতে বাঁশ দিয়ে কী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ সম্ভব?

চিকিৎসার অভাব : বাংলাদেশে করো’না চিকিৎসার এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেই বলে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে যে হাসপাতালগুলো করা হচ্ছে, যে হাসপাতালগুলোকে করোনার জন্য বিশেষায়িত করা হয়েছে সে হাসপাতালগুলোতে নূন্যতম চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে। বিশেষ করে কয়েকজন হাসপাতা’লের যে অ’ভিজ্ঞতা বলেছেন, তা রীতিমতো ভ’য়াবহ এবং লোমহর্ষক। ওই হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুত, পানি, গ্যাস ঠিকমতো নেই। এমনকি খাবার দাবারেরও ব্যবস্থা নেই। কারণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও নেই। এখন সেখানে সেখানে নূন্যতম ব্যবহারের চিকিৎসার সরঞ্জামের সংকটের কথাও বলা হচ্ছে। যদি করো’না রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং যদি মৃদু সংক্রমণ থেকে বেড়ে গভীর সংকটের রোগীদের যদি আশ্রয়স্থল করতে হয় তাহলে এই হাসপাতালগুলো করো’না চিকিৎসার জণ্য কিছুই করতে পারবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

শিথিল ছুটি এবং অবাধ চলাফেরা : ২৬ মা’র্চ থেকে দফায় দফায় ছুটি বাড়ানো হয়েছে। পঞ্চ’ম দফায় ছুটি বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু এই ছুটি খুব একটা কাজে লাগেনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এই ছুটির মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকরা ঢাকায় এসেছে, জানাজা হয়েছে, অবাধে বাজারে যাচ্ছে, ব্যাংকে গেছে। এই শিথিল ছুটির কারণে ব্যাপকভাবে সামাজিক সংক্রমণ তৈরী হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন:  যুক্ত'রাজ্যের করোনায় বাংলা'দেশি দুই ভাইয়ের মৃ'ত্যু

স্বাস্থকর্মীদের আতঙ্ক : করো’না চিকিৎসায় সম্মুখ সম’রের যোদ্ধা হলো স্বাস্থ্য কর্মীরা। অথচ শুরু থেকেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীরা পরাজিত হয়েছেন। তাদের উপযু’ক্ত স্বাস্থ্য উপকরণ না দেওয়ার কারণে এবং ভুল তথ্য বা করো’নার উপসর্গ গো’পন করে বা করো’নার চিহ্নিত রোগীর তথ্য গো’পন করে চিকিৎসক এবং স্বাস্থকর্মীদের মধ্যেও করো’না ছড়িয়েছে। এরফলে একটি ভীতিকর অবস্থা তৈরী হয়েছে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাই ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই পরিস্থিতি যদি আর কিছুদিন চলতে থাকে তাহলে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে বলে অনেকে আশংকা করছেন।

ফুরিয়ে আসছে চিকিৎসা উপকরণ : আমাদের চিকিৎসা উপকরণের স্বল্পতার কথা শুরু থেকেই বলা হয়েছে। এখন আস্তে আস্তে তা ফুরিয়ে আসছে বলে জানা গেছে। আমাদের যে পরিমাণ কিট আছে তা দিয়ে সামনে ১৪/১৫ দিন চলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। এছাড়া আমাদের অক্সিজেন, আইসিইউ বেড সংকট রয়েছে, পিপিই সংকট রয়েছে। এই সংকটগুলো যদি আমাদের করো’না সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদি হয় তাহলে ভবিষ্যতে এই চিকিৎসা উপকরণের একটা সংকট ভ’য়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আর এসব ভুল পথে চলার মাশুল দিতে হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 90
    Shares