প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজধানী

জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কাজ করে তারা এইভাবে দেশের ক্ষতি করছে

74
জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কাজ করে তারা এইভাবে দেশের ক্ষতি করছে
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

৪৮ বছরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কাউকে ঘু’ষ দেয়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘বাজারে প্রোডাক্ট আসুক বা না আসুক, গণস্বাস্থ্য কাউকে ঘু’ষ দেয়নি, দেবেও না। দু’র্নীতি’র অংশীদার আমরা হবো না।’আজ রোববার বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আ’ন্দোলন করব, আপনাদের কাছে ‍দুঃখ প্রকাশ করব।’

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা দেশের একটা উপকার করেছি। গতকাল ছিল আনন্দের দিন। সেজন্য সবার সামনে কিট পরীক্ষার জন্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নানা অজুহাত দেখিয়ে গণস্বাস্থ্যের কিট গ্রহণ করেনি সরকার। আমরা জনগণের স্বার্থে শুধু সরকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে কিট কার্যকর কি না, তা দেখতে চেয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এত বড় একটা জাতীয় দুর্যোগ, বাংলাদেশের কিছু সরকারি আমলা সেই দুর্যোগটাই বুঝতে পারছেন না। তারা জনগণের স্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়ী স্বার্থ প্রাধান্য দিয়েছেন। গতকাল আমরা এখানে হস্তান্তরের একটা উদ্যোগ নিয়েছিলাম, এটা অনুমোদনের জন্য। এটা অনুমোদন করার দায়িত্ব হলো ঔষধ প্রশাসনের। দুর্ভাগ্যবশত ঔষধ প্রশাসন এমন লোকের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে যারা না ফার্মাসিস্ট, না ফার্মাকোলজিস্ট। ফলে এই জিনিসগুলোর গুরুত্ব তারা ওইভাবে উপলব্ধি করতেই সক্ষম হচ্ছেন না। উনারা সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক স্বার্থ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:  করোনা কিট’ আর ‘জাফরুল্লাহ কীট’ এর মধ্যে পার্থক্য অনেক

‘উনারা যেটা করছেন, আমাদেরকে বলেছেন এটার অনুমোদন নাই বলে আমরা আসতে পারব না। আমরা তো আপনাদের দিতে চাই, যাতে আপনারা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। আমাদেরকে কালকে বলা হলো-আমরা আসব না। ঠিক আছে আজকে আমরা গেলাম। আজকে গণস্বাস্থ্য থেকে ড. মহিবুল্লাহ, বিজন এবং আরেকজন গেলেন। তাও তাদের কেমন আমলাতান্ত্রিকতা। আমার তিনজন লোক গেছে- দুজনকে ঢুকতে দেবে, আরেকজনকে দেবে না। অথচ বাইরের তিনজন লোককে ভেতরে বসিয়ে রেখেছেন’, বলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা।

তিনি বলেন, ‘আমরা গিয়েছিলাম তারা জমা নেননি। বলছে সিআরও দিয়ে আসেন। সিআরও তো বন্ধ। এখন উনারা বাজেট তৈরি করবেন। দেবেন। লেনদেন ঠিক হবে। তারপরে উনারা রিপোর্ট দেবেন। আর কি করবেন।’ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘জনগণের স্বার্থের বিপরীতে তারা যে কাজগুলো করছে, এটা অত্যন্ত অ’নৈতিক। তারা এইভাবে দেশের ক্ষতি করছে। তারা পাবলিক ইন্টারেস্টের চেয়ে প্রাইভেট ইন্টারেস্ট বেশি করে দেখছে।’

আরও পড়ুন:  ডা. জাফরুল্লাহ নার্সদের নিয়ে ‘কটুক্তিমূলক’ মন্তব্য করায় ফুঁসে উঠেছে নার্স সমাজ

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে। এটা ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব তাদের। কিন্তু কেন যে তারা এটা করছে, আমরা সত্যিই জানি না। এটার একটাই এক্সপ্লেনেশন (ব্যাখ্যা) হতে পারে সিআরও’র মাধ্যমে হলে টাকা-পয়সার লেনদেন করা যায়। সিআরও না হলে টাকা পয়সা লেনদেন করা যায় না। আমরা সরকারি যত রকম ফি আছে, দিতে বাধ্য, দেব। কিন্তু চালাকি করে জনগণের স্বাস্থ্যহানিকর কোনো কাজের সাথে আমরা যুক্ত হতে রাজি নাই।

আমাদের বিজ্ঞানীরা এটা বের করেছেন জনস্বার্থে। দেরি হওয়া মানে হচ্ছে, প্রতিদিন কয়েক হাজার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ এর আগে শনিবার করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট’ হস্তান্তর করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। তবে কিটগুলো হস্তান্তরের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাদের কেউ আসেননি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 49
    Shares