প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

সংস্কারপন্থি বা শেখ হাসিনার প্রতিপক্ষ না হলেও আওয়ামী লীগে তাঁদের দাম নেই কেন?

140
আওয়ামী লীগে তাঁদের দাম নেই কেন
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ১১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তখন তিনি সবসময় কাজের মানুষ খুঁজতেন। কারা চাটুকার নয়, বরং প্রান্তিক পর্যায়ে কর্মীদের সাথে কাজ করবে, সংগঠন গোছাবে, দিনরাত কাজ করবে- এরকম কর্মীদের তিনি খুঁজে বের করতেন এবং তাঁদেরকে ধাপে ধাপে নেতৃত্ব তুলে দিতেন।

আজকে যারা বিভিন্ন পর্যায়ের তরুন নেতা, তাঁরা প্রায় সবাই শেখ হাসিনার হাতে গড়া। সংগঠন গোছানো, মানুষের সাথে মেশা, সংগঠনের পরিধি বিস্তৃত করা এবং দল নিয়ে যেসকল নেতিবাচক ধারণা সাধারণ মানুষের মাঝে আছে, সেসব দূর করার জন্য শেখ হাসিনা কাজের মানুষ খুঁজতেন। যারা সত্যিকারে কাজ করতে পারে, যারা চাটুকারিতা পছন্দ করেন না।

কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এখন আওয়ামী লীগে কাজের মানুষদেরই দাম নেই, বরং করোনা সঙ্কটে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে একেবারেই ঘরবন্দি হয়ে আছে, অধিকাংশ নেতা-কর্মীর কোন কাজ নেই। করোনা মোকাবেলার কাজটি করছে সরকার এবং প্রশাসন। সরকার প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা এই দায়িত্ব পালন করছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে তিনি দৃশ্যমান নন।

অথচ সাধারণ মানুষ মনে করে যে, করোনা মোকাবেলার কাজটি রাজনৈতিকভাবে সমাধান করা হলে, রাজনৈতিক নেতৃত্ববৃন্দকে দায়িত্ব দেয়া হলে সাধারণ মানুষের জন্য উপকার হতো। বিশেষ করে ত্রাণের তালিকা, দুঃস্থ মানুষদের তালিকা তৈরিসহ নানা কাজে রাজনীতিবিদরাই সাধারণ মানুষের কাছের মানুষ, আমলারা সবসময় দূর গ্রহের মানুষ হিসেবে পরিগণিত হয় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামের মানুষের কাছে।

এই প্রেক্ষিতেই মনে করা হচ্ছিল যে, আওয়ামী লীগে অনেক করিতকর্মা মানুষ আছে, যারা এই দুর্গতি-দুর্যোগে শেখ হাসিনাকে সহায়তা করতে পারতেন, শেখ হাসিনার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করতে পারতেন এবং অতীতেও তাঁরা করেছেন।

কিন্তু এই পথে না হেঁটে সরকার প্রশাসনকে দিয়ে কাজ করাতে চাইছে, প্রতিটি জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে একজন সচিবকে। তবে ঐ সচিব ঐ জেলার কি চেনেন, মানুষজনকে কতটুক চেনেন- তাই নিয়ে সংশয় রয়েছে এবং আমলাতান্ত্রিক সমাধানের পথে যে তিনি হাঁটবেন এই নিয়ে কোন সংশয় নেই।

কিন্তু আওয়ামী লীগের মধ্যে এওরকম অনেক কাছের মানুষ আছে, যারা এই সঙ্কটে শেখ হাসিনার পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারতেন। না তাঁরা সংস্কারপন্থি, না শেখ হাসিনার প্রতিপক্ষ। কিন্তু তবুও আওয়ামী লীগে তাঁদের দাম নেই কেন সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আসুন তাঁদের কয়েকজনকে আমরা চিনে নেই-

জাহাঙ্গীর কবির নানক : জাহাঙ্গীর কবির নানক এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। কিন্তু নানকই হলেন শেখ হাসিনার হাতে গড়া সেই বিরল নেতা, যিনি একাধারে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব পালন করেছেন, আবার যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও তিনি যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন। রাজনীতিতে তাঁর সুনাম-বদনাম দুটো থাকলেও একটি বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই, তা হলো নানক শেখ হাসিনার প্রতি নিবেদিত প্রাণ, শেখ হাসিনা যা বলেন তা পালন করার জন্য তিনি সবকিছু উতসর্গ করেন। অথচ এই লোকটি এখন একবারেই বসে আছেন।

মির্জা আজম : মির্জা আজম আওয়ামী লীগের মধ্যে অন্যতম করিতকর্মা এবং দ্রুত কাজ করতে পারেন, সাধারণ মানুষের সাথে দ্রুত সংযোগ স্থাপন করা বা মানুষের অভাব-অভিযোগ নিয়ে কাজ করতে পারার আগ্রহী নেতাদের মধ্যে মির্জা আজম অন্যতম। কিন্তু তিনিও এখন বসে আছেন, গত মেয়াদে তাঁকে পাট প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল এবং সেখানে তিনি দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আলোচিত হয়েছিলেন। পাট মন্ত্রণালয়কে একটি পাদপ্রদীপে এনেছিলেন। কিন্তু এবার তিনি মন্ত্রীত্বে নেই, এই সঙ্কটের সময়ে সাধারন মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন বা পাশে থাকায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারতেন। কিন্তু তাঁরও এই সঙ্কটে দাম নেই।

এনামুল হক শামীম : ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন এনামুল হক শামীম এবং তাঁর অনেক সহকর্মী, রাজনীতিতে অনেক শিশুতুল্য অনেকেই পূর্ণ মন্ত্রী হলেও এনামুল হক শামীম উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটাতেও কোন সমস্যা নেই, এবার তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকেও ছিটকে পড়েছেন, কিন্তু দূর্যোগে-দূর্বিপাকে এনামুল হক শামীম অনেক কর্মপটু এবং এর প্রমাণ আমরা দেখেছি যে, ’৯৮ এর বন্যায় তাঁর নেতৃত্বে ছাত্রলীগ অনেক কাজ করেছিল। কিন্তু এনামুল হক শামীমও এখন পাদপ্রদীপে নেই এবং সঙ্কটে তাঁর দাম-ও নেই।

আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম : আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে সবথেকে সচল এবং সক্রিয় নেতার নাম বাহাউদ্দিন নাছিম। শেখ হাসিনা নিজের হাতেই তাঁকে তৈরি করেছেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন শেখ হাসিনার একান্ত সচিব, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, সঙ্কট সমাধানে দক্ষতা এবং শেখ হাসিনার প্রতি বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন নেই। তবে এই সঙ্কটে তিনিও মূল্যহীন।

মনে করা হচ্ছে আওয়ামী লীগে এমন অনেক কাজের মানুষ আছে, যাদেরকে কাজে লাগালে এই সঙ্কটে আমলাতান্ত্রিক সমাধানের পথে যেতে হতো না, তেমনি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জনগণের আরো কাছে যেতে পারতো।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 35
    Shares