প্রচ্ছদ আইন-আদালত

মা ও তিন স’ন্তানকে হ’ত্যার বী’ভৎস বর্ণনা দিল পারভেজ

195
মা ও তিন স'ন্তানকে বর্ণনা দিল পারভেজ
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজে’লার জৈনাবাজার আবদার এলাকায় মোবাইল চু’রি করতে গিয়ে ধ’রা পড়ে যাওয়ায় মা ও তিন সন্তানকে গ’লা কে’টে হ’ত্যার কথা আ’দালতে স্বীকার করেছেন গ্রে’ফতার পারভেজ। সোমবার বিকেলে পারভেজ গাজীপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালতের বিচারক শরীফুল ইস’লামের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানব’ন্দি দিয়েছেন। বিষয়টি জানিয়েছেন গাজীপুর জে’লা আ’দালতের পরিদর্শক মীর রকিবুল হক।

নি’হতরা হলেন- আবদার এলাকার প্রবাসী রেদোয়ান হোসেন কাজলের স্ত্রী’ ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক স্মৃ’তি আক্তার ফাতেমা (৪৫), তার বড় মে’য়ে সাবরিনা সুলতানা নূরা (১৬), ছোট মে’য়ে হাওরিন হাওয়া (১২) ও বাকপ্রতিব’ন্ধী ছে’লে ফাদিল (৮)।

প্রবাসীর স্ত্রী’ ও তিন সন্তানকে গলা কে’টে হ’ত্যার ঘটনায় রোববার মধ্যরাতে আবদার এলাকায় অ’ভিযান চালিয়ে পারভেজকে গ্রে’ফতার করেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক হাফিজুর রহমান।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মা-সন্তানদের খু’নের কথা স্বীকার করলে আ’দালতে ১৬৪ ধারায় তার জবানব’ন্দি নেয়া হয়। দুই মাস আগেও পারভেজ নি’হতের এক সন্তানকে উ’ত্ত্যক্ত করতে গিয়ে ধ’রা পড়েন। পরে ক্ষমা চেয়ে ছাড়া পান।

আ’দালতের জবানব’ন্দির বরাতে পিবিআইয়ের পরিদর্শক হাফিজুর রহমান বলেন, মা ও মে’য়ের স্মা’র্টফোন চু’রি করতে ২৩ এপ্রিল প্রতিবেশী বাবুলের বাড়ির পেছন দিয়ে কাজলের বাড়ির দেয়াল বেয়ে দোতলা বাড়ির ছাদে উঠেন পারভেজ। নিজের কাছে থাকা ব্লেড দিয়ে ছাদে কাপড় শুকানো রশি কাটেন। পরে ছাদের গ্রিলের সঙ্গে রশি বেঁধে দোতলার বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে ঘরে ঢোকেন।

আরও পড়ুন:  হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পেরে নিজের নব'জাতক সন্তানকে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন মা

পরে নূরা ও হাওরিনের রুমের খাটের নিচে লুকিয়ে থাকেন। নূরার তখন কানে হেডফোন ছিল। ছোট বোন হাওরিন ঘুমিয়ে ছিল। এক ঘণ্টা পর সবাই ঘুমিয়ে গেছে ভেবে রান্না ঘর থেকে বটি নিয়ে দোতলায় আসেন পারভেজ। মোবাইল নেয়ার জন্য নূরার মায়ের কক্ষের দরজার লক খোলার চেষ্টা করেন।

দরজা খোলার শব্দে নূরার মা জেগে ওঠেন। তিনি বাথরুম ও আশপাশে কেউ আছে কি-না খোঁজেন। এ সময় ফাতেমা তাকে দেখে চিনে ফেললে চি’ৎকার দিতেই এলোপাতাড়ি কু‌‌’পিয়ে হ’ত্যা করেন। তখন নূরা শব্দ পেয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠলে তাকেও বটি দিয়ে কু‌‌’পিয়ে গুরুতর জ’খম করেন পারভেজ।

এরপর নূরার ছোট ভাই ফাদিল জেগে উঠলে তার মা’থায় কোপ দেন। এতে ফ্লোরে পড়ে গেলে প্রথমে তাকে গলা কে’টে নূরার খাটের নিচে রাখেন। তারপর হাওরিন ঘুম থেকে জেগে চি’ৎকার দিলে তাকেও কু‌‌’পিয়ে হ’ত্যা করেন। পরবর্তীতে নূরাকে ধ’র্ষণ করেন পারভেজ। নুরার মাকে ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে হাওরিনকেও ধ’র্ষণ করেন। এরপর সবার মৃ’ত্যু নিশ্চিত করার জন্য গলা কে’টে দেন পারভেজ।

আরও পড়ুন:  আম'রা ষড়যন্ত্রের শিকার : সম্রাটের স্ত্রী'

সবশেষে নূরার মায়ের গলায় স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও নাকফুল খুলে নেন। হাওরিনের কান থেকে দুটি স্বর্ণের রিং খুলে নেন। আলমা’রি খুলে দুটি স্বর্ণের চেইন, আংটি, একটি ডায়েরি, নূরার মায়ের রুম থেকে দুটি মোবাইল নেন পারভেজ। মোবাইল ও স্বর্ণালঙ্কার পায়জামা’র পকে’টে রাখেন। এরপর হাত মুখ ধুয়ে গেট খুলে নিজের বাড়িতে চলে যান পারভেজ।

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে সোমবার ভোরে পারভেজের স্বীকারোক্তি মোতাবেক তার ঘরের মধ্য থেকে পায়জামা’র পকে’টে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণালঙ্কার এবং র’ক্তমাখা গেঞ্জি ও মোবাইল উ’দ্ধার করা হয়।

পরিদর্শক হাফিজুর আরও বলেন, পারভেজ নি’হতদের প্রতিবেশী। তার বাবার নাম কাজিম উদ্দিন।২০১৮ সালে তার চাচার বাড়ির ভাড়াটিয়া সাত বছরের শি’শুকে ধ’র্ষণ শেষে হ’ত্যা করেছিল। তার বি’রুদ্ধে মা’মলা করেছিল শ্রীপুর থা’না পু’লিশ। দীর্ঘ নয় মাস হাজতবাস শেষে বয়স বিবেচনায় সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় আসেন। এলাকায় এসে কিছুদিন আগেও নূরাকে উ’ত্ত্যক্ত করেন পারভেজ।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।